মুখোশের সমাজে সত্যিকারের মুখ কেথায়?
মীর আব্দুল আলীম
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের পরিচয় ক্রমশ তার প্রকৃত সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি নির্মিত চেহারার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, কর্পোরেট প্রতিযোগিতা কিংবা সামাজিক সম্পর্ক সবখানেই যেন আত্মপ্রচারের এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছে। মানুষ নিজেকে বড় করে দেখাতে ব্যস্ত, নিজের দুর্বলতাকে লুকাতে ব্যস্ত, অন্যের প্রশংসা অর্জনে ব্যস্ত। এই বাস্তবতায় কেউ যদি দাঁড়িয়ে বলে “আমি নিজেকে মূল্যবান বলতে পারি না, আমি এখনো শিখছি, আমি তোষামোদ করতে পারি না, আমি আমার মতো” তবে তা কেবল একটি ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি নয়; বরং এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক অবস্থান। এই অবস্থান আমাদের সময়ের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। কারণ আমরা এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে বিনয়কে দুর্বলতা, আত্মসমালোচনাকে অক্ষমতা এবং সত্যবাদিতাকে বোকামি হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। অথচ সভ্যতার বড় বড় অর্জন এসেছে সেইসব মানুষের হাত ধরে, যারা নিজেদের পরিপূর্ণ মনে করেননি; যারা শেখার দরজা খোলা রেখেছিলেন; যারা সম্মান পাওয়ার আগে সম্মানের যোগ্য হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
“আমি আমার মতো” এই কথার মধ্যে আত্মঅহংকার নেই, আছে আত্মস্বীকৃতি। এখানে নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় বা ছোট ভাবার প্রশ্ন নেই; বরং আছে নিজের সীমাবদ্ধতা জেনেও নিজের নৈতিক অবস্থানে অবিচল থাকার প্রত্যয়। আজকের সমাজে এই মূল্যবোধগুলো কেন ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠছে এবং কেন এগুলো পুনরুদ্ধার করা জরুরি সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এই আলোচনার উদ্দেশ্য।
১. আত্মপ্রচারের যুগে আত্মসমালোচনার বিরলতা: বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে এমন এক মানসিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে গেছে, যেখানে সবাই নিজের সাফল্য দেখাতে চায়, কিন্তু নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে চায় না। আমরা নিজেদের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশগুলো প্রদর্শন করি, অথচ ব্যর্থতা, ভুল কিংবা দুর্বলতাগুলো আড়াল করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আত্মসমালোচনা ছাড়া ব্যক্তিগত উন্নতি সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি নিজের ভুল দেখতে পারে না, সে কখনো নিজেকে সংশোধনও করতে পারে না। ইতিহাসের বড় বড় মনীষীদের জীবন দেখলে বোঝা যায়, তারা নিজেদের সম্পর্কে সবচেয়ে কঠোর সমালোচক ছিলেন। কারণ আত্মতুষ্টি মানুষকে স্থবির করে, আর আত্মসমালোচনা তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আজ আমরা এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে মানুষ নিজের সম্পর্কে সামান্য নেতিবাচক মন্তব্য শুনলেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অথচ সেই সমালোচনার মধ্যে হয়তো নিজের উন্নতির সুযোগ লুকিয়ে থাকে। একজন মানুষের প্রকৃত শক্তি তার প্রশংসা গ্রহণে নয়, সমালোচনা গ্রহণের সক্ষমতায় প্রকাশ পায়। নিজেকে “মূল্যহীন” ভাবা নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা, এটাই প্রকৃত বিনয়ের পরিচয়। এই বিনয়ই মানুষকে নতুন কিছু শেখার, নতুনভাবে ভাবার এবং নিজেকে উন্নত করার পথ দেখায়।
২. শিক্ষক নয়, আজীবন শিক্ষার্থী হওয়ার দর্শন: মানুষ যত বড় হয়, তত বেশি শেখার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে একবার কোনো পদবি বা পরিচয় পেয়ে গেলে অনেকেই মনে করেন শেখার অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। এখানেই শুরু হয় স্থবিরতা।
যে ব্যক্তি নিজেকে আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে দেখে, সে কখনো পুরোনো হয়ে যায় না। কারণ তার কৌতূহল বেঁচে থাকে। সে মানুষের কাছ থেকে শেখে, অভিজ্ঞতার কাছ থেকে শেখে, এমনকি নিজের ভুল থেকেও শেখে। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে জ্ঞান প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। ফলে শেখার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া মানেই নিজেকে সময়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া।
প্রকৃত শিক্ষকও সেই ব্যক্তি, যিনি নিজেকে শিক্ষার্থী মনে করেন। কারণ শেখার বিনয় না থাকলে শেখানোর যোগ্যতাও থাকে না। যে মানুষ জানে না যে সে কত কিছু জানে না, সে কখনো প্রকৃত জ্ঞানী হতে পারে না।
৩. ‘স্যার’ সংস্কৃতি ও সম্মানের প্রকৃত অর্থ: বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে “স্যার” শব্দটি কেবল একটি সম্বোধন নয়; এটি এক ধরনের সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা অনেক সময় সম্মানকে অর্জনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং পদ-পদবি ও ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে ফেলি। ফলে সম্মান আর চরিত্রের মধ্যে যে সম্পর্ক থাকা উচিত, তা দুর্বল হয়ে পড়ে। কেউ যখন কাউকে “স্যার” বলে ডাকে, তখন সেই শব্দের ভেতরে থাকে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং গ্রহণযোগ্যতার একটি সামাজিক স্বীকৃতি। কিন্তু প্রকৃত প্রশ্ন হলো, এই সম্মান কি সত্যিই অর্জিত, নাকি এটি কেবল সামাজিক রীতি? আজ আমরা এমন অনেক মানুষকে দেখি, যারা পদবির কারণে সম্মান পান কিন্তু চরিত্রের কারণে নয়। আবার এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের কোনো পদ নেই, কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু তাদের সততা, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার কারণে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্মান করে।
প্রকৃত সম্মান কখনো দাবি করে নেওয়া যায় না। এটি অর্জন করতে হয় দীর্ঘ সময়ের আচরণ, সততা ও ত্যাগের মাধ্যমে। সম্মান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে থাকতে পারে, কিন্তু সম্মানের যোগ্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও বড় হওয়া উচিত।
আজকের সমাজে একটি প্রবণতা দেখা যায় অনেকেই সম্বোধনকে সম্মানের চেয়ে বড় মনে করেন। অথচ মানুষ কী নামে ডাকছে, সেটি বড় নয়; মানুষ হৃদয়ে কতটা শ্রদ্ধা করছে, সেটিই বড়। একজন মানুষকে “স্যার” বলা হতে পারে, কিন্তু পেছনে তাকে নিয়ে উপহাসও করা হতে পারে। আবার একজন সাধারণ মানুষকে হয়তো কেউ “স্যার” বলে না, কিন্তু তার সততা ও মানবিকতা মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নেয়। সমাজে প্রকৃত সম্মানের চর্চা ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের পদবিকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষকে তার অবস্থান দিয়ে নয়, তার চরিত্র দিয়ে মূল্যায়ন করতে শিখতে হবে। কারণ সম্মান একটি উপাধি নয়; এটি মানুষের নৈতিক অর্জনের স্বীকৃতি।
৪. ‘তুই’ বলার অধিকার ও মানুষের মর্যাদা: ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের মানসিকতা ও মূল্যবোধেরও প্রতিফলন। আমরা মানুষকে কীভাবে সম্বোধন করি, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমরা তাকে কতটা সম্মান করি। বাংলা ভাষায় “তুই” শব্দটির ব্যবহার বহু পুরোনো। অনেক ক্ষেত্রে এটি স্নেহ, ঘনিষ্ঠতা কিংবা বন্ধুত্বের প্রকাশ। কিন্তু বাস্তব সমাজে বহু সময় এটি অবজ্ঞা ও শ্রেণিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে একজন মানুষকে ছোট করে দেখার অধিকার আমরা কোথায় পেলাম? প্রত্যেক মানুষেরই একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা আছে। সে ধনী হোক বা গরিব, শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত মানুষ হিসেবে তার সম্মান সমান। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনও শ্রেণি, পেশা, অর্থনৈতিক অবস্থান কিংবা ক্ষমতার ভিত্তিতে মানুষকে ভিন্নভাবে সম্বোধন করার প্রবণতা রয়ে গেছে। মানবিক সমাজের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান। যে ব্যক্তি অন্যকে সম্মান দিতে জানে না, সে নিজেও প্রকৃত সম্মান পেতে পারে না। কারণ সম্মান একমুখী কোনো বিষয় নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি।
আজকের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে ভাষার অবক্ষয়ও উদ্বেগজনক। ভিন্নমতকে সম্মান করার বদলে আমরা তাকে অপমান করতে শিখেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ ও বিদ্বেষপূর্ণ ভাষার ব্যবহার এই সংকটকে আরও প্রকট করেছে। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার অভ্যাস হারিয়ে গেলে সমাজে বিভাজন বাড়ে। তাই ভাষার মধ্যেও মানবিকতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। কারণ সভ্যতার প্রকৃত পরিচয় মানুষের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে নয়; মানুষের প্রতি মানুষের সম্মানবোধে।
৫. সমালোচনা গ্রহণের সাহস: আমাদের সময়ের একটি বড় সমস্যা হলো আমরা প্রশংসা শুনতে ভালোবাসি, কিন্তু সমালোচনা সহ্য করতে পারি না। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, যে ব্যক্তি সমালোচনা গ্রহণ করতে পেরেছে, সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে। সমালোচনা সব সময় সঠিক নাও হতে পারে। অনেক সময় তা বিদ্বেষপ্রসূতও হতে পারে। কিন্তু তবুও সমালোচনার মধ্যে নিজের জন্য কোনো শিক্ষা আছে কি না, তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন। কারণ অন্যের চোখে আমরা অনেক সময় নিজেদের এমন দিক দেখতে পাই, যা নিজের চোখে ধরা পড়ে না।
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে দেখা হয়। সরকার সমালোচনাকে বিরোধিতা মনে করে, বিরোধী দল সমালোচনাকে ষড়যন্ত্র মনে করে, ব্যক্তি সমালোচনাকে অপমান মনে করে। ফলে আত্মশুদ্ধির পথ সংকুচিত হয়ে যায়। একজন পরিণত মানুষ জানেন যে তিনি ভুল করতে পারেন। তাই তিনি সমালোচনা শুনে ক্ষুব্ধ না হয়ে তা বিশ্লেষণ করেন। এই মানসিকতা গণতন্ত্রের জন্যও জরুরি, ব্যক্তিগত উন্নতির জন্যও জরুরি। যে সমাজে সমালোচনার স্বাধীনতা থাকে না, সে সমাজে সত্যও টিকে থাকতে পারে না। কারণ সত্যের বিকাশ হয় প্রশ্ন ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে।
৬. প্রশংসার রাজনীতি ও তোষামোদের সংস্কৃতি: বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তোষামোদ একটি গভীর ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার আশপাশে সব সময় এমন মানুষ থাকে, যারা সত্যের চেয়ে প্রশংসাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তোষামোদ মানুষের বিচারশক্তিকে নষ্ট করে। এটি নেতাকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং সাধারণ মানুষকে ভণ্ডামির দিকে ঠেলে দেয়। ফলে সত্য বলার মানুষ ক্রমশ কমে যায়। আজ আমরা এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছি, যেখানে অনেক সময় যোগ্যতার চেয়ে তোষামোদ বেশি পুরস্কৃত হয়। অফিসে, রাজনীতিতে, এমনকি সামাজিক সম্পর্কেও এই প্রবণতা দেখা যায়। প্রশংসা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু তা হতে হবে সত্যভিত্তিক। মিথ্যা প্রশংসা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের ক্ষতি করে। কারণ এটি বাস্তব সমস্যাকে আড়াল করে। যে সমাজে সত্যবাদী মানুষ অবহেলিত হয় এবং তোষামোদকারী মানুষ পুরস্কৃত হয়, সেই সমাজ দীর্ঘমেয়াদে নৈতিক সংকটে পড়ে। তাই প্রশংসা ও তোষামোদের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
৭. অপছন্দের মানুষ হওয়ার মূল্য: সবাইকে খুশি করার চেষ্টা মানুষের অন্যতম বড় দুর্বলতা। কারণ এই চেষ্টা মানুষকে নিজের নীতি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি সত্য কথা বলে, সে কখনোই সবার প্রিয় হতে পারে না। কারণ সত্য অনেক সময় অস্বস্তিকর। মানুষ সাধারণত সেই কথাই শুনতে চায়, যা তার পছন্দের। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অধিকাংশ সংস্কারক, চিন্তাবিদ ও পরিবর্তনের নেতারা তাদের সময়ে বিতর্কিত ছিলেন। কারণ তারা জনপ্রিয়তার জন্য নয়, সত্যের জন্য কাজ করেছিলেন। অপছন্দের তালিকায় থাকা সব সময় ব্যর্থতার চিহ্ন নয়। অনেক সময় এটি নীতিতে অটল থাকার মূল্য। অবশ্যই অকারণে মানুষকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু সত্য বলার কারণে কেউ অপছন্দ করলে, সেটি মেনে নেওয়ার সাহস থাকতে হবে।
৮. মুখোশের সমাজে সত্যিকারের মুখ: আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষ নিজের বাস্তব পরিচয়ের চেয়ে কৃত্রিম পরিচয় নির্মাণে বেশি ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষ এখন নিজের জীবনকে প্রদর্শনের জন্য সাজায়। ফলে বাস্তবতা ও প্রদর্শনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এই দূরত্বই মানসিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ। মুখোশ পরে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়, কিন্তু শান্তিতে বাঁচা যায় না। কারণ মানুষ জানে, তার প্রদর্শিত চেহারা আর বাস্তব চেহারা এক নয়। সত্যিকারের শক্তি হলো নিজের বাস্তব সত্তাকে গ্রহণ করা। নিজের সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতা ও দুর্বলতাকে মেনে নেওয়ার মধ্যেই আত্মমুক্তি রয়েছে।
৯. আত্মমর্যাদা বনাম আত্মঅহংকার: আত্মমর্যাদা ও আত্মঅহংকারকে আমরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলি। অথচ এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আত্মমর্যাদা মানুষকে নত হতে শেখায়, কিন্তু ভেঙে পড়তে শেখায় না। আত্মঅহংকার মানুষকে মাথা উঁচু করতে শেখায়, কিন্তু অন্যকে ছোট করতেও শেখায়। যে ব্যক্তি নিজের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন, সে কারও তোষামোদ করে না। আবার কাউকে অপমানও করে না। কারণ সে জানে সম্মান আদায় করা যায় না; সম্মান অর্জন করতে হয়। আত্মমর্যাদা মানুষের স্বাধীনতার ভিত্তি। যে ব্যক্তি আত্মমর্যাদা হারায়, সে ধীরে ধীরে নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও হারায়।
১০. নিজের কাছে অপরিচিত না হওয়ার সংগ্রাম: মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট বাইরের নয়; ভেতরের। একসময় অনেক মানুষ এমন অবস্থায় পৌঁছায়, যখন আয়নায় নিজের মুখ দেখেও নিজেকে চিনতে পারে না।
অর্থ, ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা কিংবা সামাজিক মর্যাদার পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলি। তখন বাহ্যিক সাফল্য থাকলেও ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। নিজের কাছে পরিচিত থাকার অর্থ হলো নিজের নীতিকে ধরে রাখা। পরিস্থিতি বদলাবে, সময় বদলাবে, সম্পর্ক বদলাবে কিন্তু মূল্যবোধ যেন না বদলায়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ সাধারণত সম্পদের হিসাব করে না; নিজের সততার হিসাব করে। তখন প্রশ্ন ওঠে আমি কি নিজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি? এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তরই প্রকৃত সাফল্য।
উপসংহার: “আমি আমার মতো” এটি কোনো অহংকারের ঘোষণা নয়; এটি আত্মসচেতনতার ঘোষণা। এটি এমন এক মানুষের কণ্ঠস্বর, যিনি নিজেকে নিখুঁত দাবি করেন না, কিন্তু অসত্যের সঙ্গে আপসও করেন না। আত্মপ্রচার, তোষামোদ, ভণ্ডামি ও মুখোশের এই সময়ে নিজের কাছে সত্য থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবুও সভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সেইসব মানুষের ওপর, যারা জনপ্রিয়তার চেয়ে সততাকে, প্রশংসার চেয়ে সত্যকে এবং ভণ্ডামির চেয়ে আত্মমর্যাদাকে বেশি মূল্য দেয়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে কতটা বিখ্যাত ছিল, তা নয়; সে কতটা সত্য ছিল, সেটিই ইতিহাস মনে রাখে।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।
পাঠকের মতামত:
- ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন মৃধা অসুস্থ, রোগমুক্তি কামনা
- হেলেন জেরিন খানের হাতে ফরিদপুর- ১ আসনের দায়িত্ব, বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস
- সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে চৌধুরী বাড়ির ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ
- নড়াইলে স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত ভ্যানচালক গ্রেফতার
- ফরিদপুরে থামছে না হামের প্রাদুর্ভাব, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩০ রোগী
- নড়াইলে কৃষকদের নিয়ে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত
- পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৩ ইউনিট বন্ধ
- মুখোশের সমাজে সত্যিকারের মুখ কেথায়?
- গোপালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
- লৌহজংয়ে অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স পুরস্কার পেলেন সরকারী হলদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
- সোনাতলায় শিক্ষকের মারধরে অসুস্থ ছাত্র, অভিভাবকদের ক্ষোভে উত্তাল
- রূপপুর পারমানবিকের প্রথম ইউনিটে চলতি মাসেই ‘চেইন রিয়েকশন’ শুরুর সম্ভাবনা
- নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
- নলডাঙ্গা এস্টেটের ইতিহাস নতুন প্রশ্ন তোলে
- মুক্তিপণ দিয়েও ছাড়া পাননি সুন্দরবনে অপহৃত চার জেলে
- আস্থার সংকটে রাষ্ট্র অনিশ্চয়তার বৃত্তে জনজীবন
- বাজেটে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য
- বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি: বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধে!
- এক মাসের বিশেষ অভিযানে ৩৬ লাখের বেশি ইয়াবাসহ বিপুল মাদক উদ্ধার
- নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা
- কলেজছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
- নারায়ণগঞ্জে ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্প পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
- নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল
- বিশ্ব মহাসাগর দিবস ও সমুদ্রের টেকসই ব্যবস্থাপনা
- হবুচন্দ্রের আইন
- নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান
- কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে তিন যুবকের মৃত্যু
- ‘ভালো মেয়েদের জন্য রঙিন জীবন না’
- সাভারে সাংবাদিককে হুমকি ও মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন
- ঝালকাঠিতে বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের কর্মবিরতি পালন
- স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘হুমায়ুন আহমেদ সপ্তাহ’
- সিলেট বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই-টেলিফোন সেবা চালু
- হে সময়, অশ্বারোহী হও
- নলডাঙ্গা এস্টেটের ইতিহাস নতুন প্রশ্ন তোলে
- সাগর নন্দিনী-২ জাহাজে ফের বিস্ফোরণ, ৯ পুলিশসহ দগ্ধ ১১
- ১৯ ডিসেম্বর কাশিয়ানী মুক্ত দিবস
- দুর্ঘটনার কবলে জামায়াত নেতাকর্মীদের বহনকারী বাস, নিহত ৩
- চাঁদপুরে ইয়েস কার্ড পেল ৪০ সাঁতারু
- গোপালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
- ইউপি সদস্য দয়াল বোনার্জীর অপসারণের দাবিতে খাইছড়া চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি
- আগামী রমজানের আগে নির্বাচন চায় জামায়াত
- ঢালাও দরপতনে বাজার মূলধন কমলো ১৮০০০ কোটি টাকা
- শুক্রবার থেকে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ধর্মঘট
- বট, পাকুড় আর কৃষ্ণচূড়ার ডালে বেঁচে থাকবে একাত্তরের গল্প
- মহালয়া কেন পালন করা হয়?
০৯ জুন ২০২৬
- মুখোশের সমাজে সত্যিকারের মুখ কেথায়?
- নলডাঙ্গা এস্টেটের ইতিহাস নতুন প্রশ্ন তোলে
- বাজেটে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য
- বিশ্ব মহাসাগর দিবস ও সমুদ্রের টেকসই ব্যবস্থাপনা
-1.gif)







