E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

কবি আল মুজাহিদী'র প্রয়াণে 

২০২৬ জুন ১৯ ১৮:৪৬:২৩
কবি আল মুজাহিদী'র প্রয়াণে 

আবদুল হামিদ মাহবুব


একসময় গল্পে রাহাত খান, কবিতায় আল মুজাহিদী; দুজনেরই ছিল দারুণ দাপট। তারা দুজনেই দৈনিক ইত্তেফাকে কর্মরত ছিলেন। রাহাত খান ছিলেন বার্তা সম্পাদক। আল মুজাহিদী ছিলেন সাহিত্য সম্পাদক। আর ফিচার ও ছোটদের পাতা ‘কচিকাঁচার আসর’-এর সম্পাদক ছিলেন রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই।

তিনজনই ছিলেন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। সম্ভবত রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইত্তেফাকেই কর্মরত ছিলেন। কিন্তু রাহাত খান ও আল মুজাহিদীকে চাকরি হারাতে হয়েছিল। এর পেছনে ছিল তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ইত্তেফাকের মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েন।

রাহাত খান পরে একটি পত্রিকার সম্পাদক হয়েছিলেন। তবে সেই পত্রিকা খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি। আল মুজাহিদী চাকরি হারিয়ে দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন। পরে এক-দুটি ম্যাগাজিনধর্মী সাময়িকীর সঙ্গে যুক্ত হন।

ইত্তেফাকে থাকাকালে লেখকরা তার নাম অত্যন্ত সমীহের সঙ্গে উচ্চারণ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান বদলে যায়। ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তার যে প্রভাব ছিল, তা যেন হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়।

এর কারণও স্পষ্ট। তখন দেশের লেখকরা তীর্থের কাকের মতো ইত্তেফাকে লেখা ছাপার অপেক্ষায় থাকতেন। আল মুজাহিদীর সুদৃষ্টি পেলে একজন লেখকের প্রতিষ্ঠা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যেত। অনেকেই সেই সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক অলেখকও ছিলেন।

সেই সময়ের অনেক অলেখকের লেখা আজও আমাদের সামনে আসে। এখনো সেসব লেখাকে সাহিত্য হিসেবে চালানো হয়। কারণ, তারা একসময় ইত্তেফাকে লিখেছেন। তখন ইত্তেফাকে লেখা ছাপা হওয়া মানেই ছিল সাহিত্যাঙ্গনে একটি জায়গা করে নেওয়া। বহু বছর এমনটাই চলেছে।

আমি কখনো আল মুজাহিদীকে সামনাসামনি দেখিনি। লেখা নিয়েও তার কাছে যাইনি। শিশু সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের কাছেও লেখা নিয়ে যাইনি। ডাকযোগে লেখা পাঠিয়েছি। বেশিরভাগই তিনি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। তবে তার মধ্যেও এক-দুটি লেখা ‘কচিকাঁচার আসর’-এ ছেপেছেন।

এত কথা আজ কেন বলছি? কারণ আজ শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) ঢাকার ইউনাইটেড হসপিটালে আল মুজাহিদী প্রয়াত হয়েছেন। অনেক লেখক ও অলেখককে লেখালেখির জগতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাকে অন্তিম অভিনন্দন। একই সঙ্গে জানাই গভীর শোক। তার এই অনন্ত যাত্রা শান্তিময় হোক। পরকাল হোক প্রশান্তির। তিনি যেন বেহেশতবাসী হন।

লেখক :সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক।

পাঠকের মতামত:

১৯ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test