E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

বাঁচতে হয় হাতির মত

২০২৬ জুলাই ০১ ১৭:৩৭:২১
বাঁচতে হয় হাতির মত

শিতাংশু গুহ


চৈতালি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী আল ইমরান। মামলার নাম্বার সিআর ২৬৭/২৬. ফৌজদারি মিসকেস/নালিশি মামলা, ঢাকা বা সংশ্লিষ্ট আদালত। অভিযোগ রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। জানা যায় পুলিশ চৈতালিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, গ্রেফতার করেছে কিনা জানা যায়নি। চৈতালির বিরুদ্ধে তোহিদি জনতা বেজায় খ্যাপা। 

এর আগে ইউনুস আমলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ৮ দফা আন্দোলন করে জেলে আছেন। বাংলাদেশের পতাকার ওপর হিন্দু ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হলেও এখন আলিফ হত্যা মামলায় জামিন পাচ্ছেন না। পুরো দেশ জানে জামাতিরা এডভোকেট আলিফকে হত্যা করেছে, অথচ ফেঁসে গেছে ঐসময় পুলিশ হেফাজতে থাকা চিন্ময় প্রভু।

আরো আগে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে ৩৮মিলিয়ন হিন্দু বিতাড়িত। ট্রাম্প জানতে চান কারা এটি করছে? প্রিয়া সাহা উত্তর দেন্, মৌলবাদী মুসলমানরা। ব্যস, পুরো জাতি প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। ব্যারিষ্টার সুমন রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হস্তক্ষেপে প্রিয়া সাহা রেহাই পান, কিন্তু আর দেশে ফিরতে পারেন না?

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা কানাডায় থাকেন। তাঁকে জোরপূর্বক দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কি আর দেশে ফিরতে পারবেন? প্রিয়া সাহাও নয়! সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কি অপমানটা-ই না করা হয়েছে। অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিককে অযথা নায়িকা মনীষা কৈরালার সাথে জড়িয়ে রাষ্ট্রদূত পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, অথচ মনীষা জানতোই না নিম ভৌমিক কে?

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা ও প্রফেসর নিম ভৌমিকের ঘটনায় ডিজিএফআই ও সরকারের একাংশ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলো। চৈতালি ও প্রিয়া সাহার ক্ষেত্রে ঘটনার পরে সরকার জড়িত হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার মৌলবাদীদের পক্ষ নেয়, যদিও বৈশ্বিক কারণে কখনো কখনো কিছুটা নমনীয় থাকতে হয়? প্রিয়া সাহা তখন দেশে থাকলে উন্মত্ত জনতা কি করতো সবাই জানে।

চৈতালি কোন অপরাধ করেনি। ভিডিওতে দেখলাম একজন বলছেন, ছেলে হলে দেখিয়ে দিতাম। অর্থাৎ মেয়ে হওয়ায় চৈতালি বেঁচে গেছেন, তাঁকে ভালুকার দিপু দাসের ভাগ্য বরন করতে হয়নি? পলাশবাড়ীর রবিদাস চন্দ্র তরণীদাস সেক্ষেত্রে কিছুটা ভাগ্যবান। মূলতঃ রামমুর্ক্তি বানিয়ে তিনি ভাল কাজ করেছেন। তবু একথা ভাবার কোন কারণ নেই যে তিনি বিপদ মুক্ত! বাংলাদেশে হিন্দু হওয়াই অপরাধ!

বাংলাদেশের দুই কোটি হিন্দুর কেউই বিপদ মুক্ত নন, যেকোন অজুহাতে যেকেউ যখন তখন বিপদে পড়তে পারেন। এটাই বিধর্মীদের ক্ষেত্রে ইসলামী সুশাসন। একবিংশ শতাব্দীর শেষে দাঁড়িয়ে এই সভ্য দুনিয়ায় আপনি যে বর্বরতা দেখছেন তাহলে ভাবুন মোগল-পাঠান শাসনামল কতটা নিষ্ঠূর ছিলো, কেন আমাদের পূর্ব-পুরুষ কেউ কেউ ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছিল?

এ থেকে কি মুক্তি নাই? বাংলাদেশের হিন্দু কি দেশে শান্তিতে থাকতে পারবে না? মুক্তি আছে যদি একসাথে সবাই মরতে শিখেন। একসাথে সবাই বাংলাদেশের জেলাখানাগুলো ভরিয়ে দিন্, শান্তিতে থাকবেন। একসাথে সবাই ঘোষণা দিয়ে ভারত যাত্রা শুরু করেন, শান্তি আসবে। ‘সারভাইভাল অফ দি ফিটেষ্ট’-সংগ্রাম ছাড়া মুক্তি নাই! তেলাপোকার মত বেঁচে থেকে লাভ কি, বাঁচতে হয় হাতির মত।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

০১ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test