E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বালুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা? 

২০২৬ জুলাই ২৩ ১৮:১০:০৩
বালুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা? 

শিতাংশু গুহ


‘দি রিপাবলিক অফ বালুচিস্তান’-এর একটি দালিলিক ঘোষণাপত্র ১৩ই জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। এতে তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে স্বীকৃতির জন্যে আবেদন জানিয়েছে। তারা বলছে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, মিসাইল, সাঁজোয়াবহর, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার সবই আছে। তারা জানাচ্ছে, তাদের ৫লক্ষ সেনা নিয়ে মিলিটারি, নেভি, বিমান বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন রয়েছে। বালুচিস্তানে তারা পাকিস্তানের উপস্থিতি প্রত্যাখান করছে এবং পাকিস্তান সেনা ও পুলিশ বাহিনী থেকে বালুচ ও পাশতুনরা ব্যাপকহারে পদত্যাগ করছে বলে দাবি জানিয়েছে। ‘ইনফরমেন্স’ নামের একটি মিডিয়া জানায়: বালুচ নেতা মীর বালুচ বালুচিস্থানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন। 

অর্থাৎ বালুচিস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। দেশটি’র নাম ‘দি রিপাবলিক অফ বালুচিস্তান’। ইতোমধ্যে তারা জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা, মুদ্রা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। এমত একটি চিঠি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তারা বালুচিস্থানের ৮৫% তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছে। ডিএনএ নামে একটি পত্রিকা এ সংবাদ দিয়ে বলেছে, পাকিস্তান এনিয়ে কোন সরকারি প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এসব দাবী পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনা যাই হোক, এটি ঠিক যে পাকিস্তান বালুচিস্তান হারাতে বসেছে। তথাকথিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ উত্তপ্ত, বিক্ষোভ প্রতিনিয়ত উত্তাল হচ্ছে, কাশ্মীরীরা ভারতের সাথে একীভূত হতে চাচ্ছে। আজ হোক বা কাল হোক বালুচিস্থান স্বাধীন হবে। আজাদ কাশ্মীর পাকিস্তান ধরে রাখতে পারবে না?

অথচ পাকিস্তান এ মুহূর্তে বাংলাদেশ ধরে রাখতে চাইছে। ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বাংলাদেশ হাতছাড়া হয়ে যাবে? বাংলাদেশের তৌহিদী জনতার তখন কি হবে কেজানে? পাকিস্তান টিকে আছে দু’টি কারণে (১) এটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ (২) আমেরিকার প্রয়োজনে, মাঝেমধ্যে পাকিস্তানকে আমেরিকার প্রয়োজন। কারণ এমন চমৎকার ভৃত্য পাওয়া সহজ নয়। আমেরিকা কি আসলে পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে? মোটেও না, আমেরিকা জানে পাকিস্তান কেউটে সাপ। ‘যেমন সাপিনীকে পোষ মানায় ওঝা’, তেমনি পাকিস্তানকে পোষ মানায় আমেরিকা ওঝা। ইরানের পর আমেরিকা-ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট সম্ভবত: পাকিস্তান বা তুরস্ক। সদ্য বিদায়ী ডিএনআই প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড বলেছেন, তুরস্ক ইসলামী সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা, তুরস্ককে ন্যাটো থেকে বহিস্কার করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

পাকিস্তানের মতো তুরস্ক ‘হারামী’ দেশ! শেখ হাসিনা’র উৎখাতে তুরস্কের ভূমিকা স্পষ্ট। ১৯৭১ সালে তুরস্ক ছিলো পাকিস্তানের পক্ষে। বর্তমান বিশ্বে পাকিস্তান-তুরস্ক একত্রে ইসলামী জঙ্গীবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে বিশ্বে সন্ত্রাস জিইয়ে রাখছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বালুচিস্থান স্বাধীনতার ডাক যদি সত্যি হয় বা বালুচ প্রবাসী সরকার গঠিত হলে বাংলাদেশ কি করবে? ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকার আমেরিকা যা বলবে তাই করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতই অসীম মুনীরকে ‘দুধ-কলা’ খাওয়ান না কেন, মার্কিন স্বার্থ দেখলে এবং চীনের বিরুদ্ধে এককাট্টা থাকলে আমেরিকার সমর্থন পাওয়া সহজ। বালুচিস্থানের সাথে চীনের সীমান্ত আছে, ইরানের সীমান্ত আছে, বালুচিস্থানে চীন ও ইরানের স্বার্থ আছে, সবকিছু মিলে এমুহুর্তে ‘বড়-পিকচার’ না দেখলেও চলবে, প্রগতিশীল বাংলাদেশিরা বালুচিস্তানের স্বাধীনতার পক্ষে থাকবে এটি বলা যায়।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

২৩ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test