E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দিল্লীতে ছাত্র-আন্দোলন বাংলাদেশের মত ভুলপথে যাবেনা তো? 

২০২৬ জুলাই ২৪ ১৭:৪৮:১৬
দিল্লীতে ছাত্র-আন্দোলন বাংলাদেশের মত ভুলপথে যাবেনা তো? 

শিতাংশু গুহ


দিল্লীতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র ছাত্র-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ছাত্রদের প্রধানত: তিনটি দাবি (১) শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ (২) ‘নীট’ পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং (৩) ইতোপূর্বে নিহত ছাত্র পরিবারকে ১কোটি রুপী ক্ষতিপূরণ দান। ‘নীট’ হচ্ছে ভারতব্যাপী মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা। এই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিলো, পরীক্ষা বাতিল ও পুন্:পরীক্ষা নেয়া হয়। ‘নীট’ শুরু হয় ২০১৩ থেকে এবং প্রায় প্রতিবছর কিছু না কিছু সমস্যা হয়। বলা হচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে প্রাইভেট টিউটোরিয়ালগুলো জড়িত, এবং ইতিমধ্যে ক’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিজেপি’র মূল নেতা বোষ্টনে থাকেন, ৩০ বছরের ভারতীয় এই তরুণ শিক্ষিত বেকার, চাকুরী খুঁজছেন। একদা তিনি আম-জনতা পাটি ও দুর্নীতিবাজ নেতা কেজরিলালের ক্যাডার ছিলেন। সিজেপি’র উত্থান সামাজিক মাধ্যমে, এবং এর ফলোয়ার প্রচুর, অধিকাংশ পাকিস্তানি ও বাংলাদেশী।   

বাংলাদেশের জামাতের ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্র-শিবির’ এবং এনসিপি’র ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বিবৃতি দিয়ে ইতিমধ্যে দিল্লীর ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। সারজিস আলম বিবৃতি দিয়ে দিল্লীতে ছাত্র-আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বলেছেন, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া দরকার। জামাত ও ইসলামপন্থী সংগঠনের এ তৎপরতাকে ভারতের সংশ্লিষ্ট মহল ‘জামাত-কানেকশন’ হিসাবে দেখতে শুরু করেছে, মিডিয়ার এমন ইঙ্গিত দেখলাম। জানা যায়, খালিস্তানীরা নাকি এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, আন্দোলন করতে টাকা লাগে, ছাত্রদের তো টাকা নেই, এই টাকা আসছে কোথা থেকে? বিক্ষোভস্থলে বেনামে বিনামূল্যে খাওয়া-দাওয়া, ফলমূল, জল পাঠাচ্ছে কারা? বিভিন্ন এনজিও এ ছাত্র-আন্দোলনের পেছনে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের সুধীমহল বলছেন, ছাত্ররা আন্দোলন করতেই পারে, কিন্তু এর পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত নেই তো?

তসলিমা নাসরিন এ প্রশ্নের সুন্দর উত্তর দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের ২০২৪’র আগষ্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, তখন ছাত্ররা কোটা আন্দোলন করেছিলো, পেছন থেকে ইসলামী মৌলবাদ শক্তি সেটি এক দফা আন্দোলনে পরিণত করে সরকার পতন ঘটায় এবং ক্ষমতার কাছাকাছি চলে যায়। দেশ ডুবে যায় নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তায়। ছাত্রদের ওই আন্দোলনে দেশ অনেকটা পিছিয়ে গেছে। তিনি সর্তক উচ্চারণ করে বলেছেন, ভারতের শিক্ষার্থীরা যেন এ ভুল না করেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা ভারতের শিক্ষার্থীরা অনেক আধুনিক ও স্মার্ট, তাঁরা এ ভুল করবে না। চোখের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত আছে, দেশটি এখন ইসলামী মৌলবাদের আখড়া, পাকিস্তান এবং আইএসআই’র ঘাঁটি। নেপালে ‘জেনজি’ আন্দোলন করে ব্যালেন্দ্র শাহ এখন ক্ষমতায়, ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ভারত বিশাল দেশ, সমস্যাও বহুবিধ, কিন্তু ভারতের রাষ্ট্রনীতি সঠিক পথে এগুচ্ছে। এ আন্দোলন কি ভারতকে পেছন থেকে টেনে ধরার প্রচেষ্টা?

ভারতের অগ্রগতি যাদের অপছন্দ, ভারত অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাক যারা চায়না, তারা এ আন্দোলনের পেছনে ইন্দন যোগাচ্ছে নাতো? পাকিস্তান, চীন কি ইন্দন দিচ্ছে? সোরোস বাহিনী? ইসলামী সন্ত্রাসবাদী শক্তি? কিচ্ছু বলা যায়না। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত বিশ্ব দরবারে চোখে চোখ রেখে কথা বলছে, ভারতবাসী এতে গর্বিত হতে পারেন। ছাত্র আন্দোলন খারাপ কিছু নয়, শিক্ষার্থীদের পিতামাতাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন তাদের সন্তান ভারতের শত্রু’র পাতা ফাঁদে পা না দেয়। ভারতে সরকার পরিবর্তনে সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল আছে, অন্য কোন প্রক্রিয়ায় সরকার ফেলে দেয়ার হীন-প্রচেষ্টা হবে ভারতের জন্যে আত্মঘাতী। ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। সরকার শিক্ষার্থীদের আপন সন্তানের মতোই দেখছেন, ‘দুষ্টের দলন, শিষ্টের পালন’ সরকারের দায়িত্ব। ধারণা করি, শিগগিরিই শিক্ষার্থীরা তাদের জন্যে নির্ধারিত স্থান, শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাবেন এবং উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করবেন।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

২৪ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test