E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

মেধা না বিশেষ সুবিধা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন পথে?

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৭:৫২:৪৯
মেধা না বিশেষ সুবিধা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন পথে?

ড. মাহরুফ চৌধুরী


একটি জাতির ভবিষ্যৎ কেবল তার প্রাকৃতিক সম্পদ দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং সেটা হয়ে থাকে তার মেধাসম্পদের বিকাশ দ্বারা। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যেসব জাতি তাদের নাগরিকদের জন্য এমন একটি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পেরেছে যেখানে জন্মগত সুযোগ-সুবিধা নয়, বরং মেধা, শ্রম ও যোগ্যতা সামাজিক অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারাই দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা-সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে যেসব সমাজে বিশেষ সুবিধা, সামাজিক মর্যাদা কিংবা শ্রেণিগত অবস্থান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে, সেখানে মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী ও বামপন্থি রাজনীতিবিদ মাইকেল ইয়ং (১৯১৫-২০০২) তাঁর বিখ্যাত ‘মেধাতন্ত্রের উত্থান’ (দ্য রাইজ অব দ্য মেরিটোক্রেসি, ১৯৫৮) গ্রন্থে মেধাতন্ত্রের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বটে, কিন্তু আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি নিয়ে তাঁরও কোন দ্বিমত ছিল না। সেটা হলো রাষ্ট্রকে এমন একটি কাঠামো নির্মাণ করতে হবে যেখানে সুযোগের ক্ষেত্রটি সর্বাধিক উন্মুক্ত থাকবে এবং প্রতিযোগিতার নিয়ম হবে সবার জন্য অভিন্ন। কারণ মেধা তখনই সামাজিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যখন তা অবাধ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে স্বীকৃতি লাভ করে। স্বৈরাচারী বিরোধী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্ন নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ভাষ্যই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সমান সুযোগের দাবি।অ এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রবর্তনের আলোচনা কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারবোধ, উচ্চশিক্ষার দর্শন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশ্ন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ একটি সামাজিক চুক্তির নাম। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে তার ঐতিহাসিক তাৎপর্য বোঝা যাবে না। উপনিবেশিক শাসনামলে এবিশ্ববিদ্যালয়টির জন্ম মূলত পূর্ববঙ্গের মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের এক ধরনের ঐতিহাসিক সামাজিক চুক্তির ফসল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ববঙ্গের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষাগত প্রতিনিধিত্ব ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে যে রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ছিল আংশিকভাবে তার প্রতিকারমূলক উদ্যোগ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্মের সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি ধারণা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সুবিধাপ্রাপ্তদের জন্য নয়; বরং যারা শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারা থেকে ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে ছিল, তাদের জন্য। এই অর্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সামাজিক গতিশীলতার একটি প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউশন অব সোস্যাল মবিলিটি)। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গ্রামের কৃষক, জেলে, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য এটি উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক উত্তরণের প্রধান সোপান হিসেবে কাজ করেছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠতেই পারে, যে প্রতিষ্ঠানটি জন্ম নিয়েছিল বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে, সেই প্রতিষ্ঠান কি এখন এমন একটি নীতি গ্রহণ করবে যা নতুন ধরনের বৈষম্যের ধারণাকে বৈধতা দেয়?

গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর বাস্তবতায় ‘সমান সুযোগ’ বনাম ‘বিশেষ সুবিধা’ গণমুখী রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে ‘সমান সুযোগ’ (ইকুয়েলিটি অব অপরচ্যুনিটি) এবং ‘বিশেষ সুবিধা’ (প্রিভিলেজ) এই দুটি ধারণার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সমান সুযোগের অর্থ হলো, প্রতিযোগিতার দরজা সবার জন্য খোলা থাকবে এবং সাফল্য নির্ধারিত হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। অন্যদিকে বিশেষ সুবিধা এমন একটি অবস্থা, যেখানে কোনো বঞ্চিত গোষ্ঠীকে তার পরিচয় কিংবা অবস্থান কারণে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পৃথক প্রশ্নপত্রের ধারণাটি এই কারণেই বিতর্কিত। কারণ এটি ভর্তি-পরীক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে নয়, বরং তাদের শিক্ষামাধ্যম বা শিক্ষাধারার ভিত্তিতে আলাদা শ্রেণিতে বিভক্ত করে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষার্থীর পরিচয় হওয়া উচিত ভর্তিচ্ছুক পরীক্ষার্থী হিসেবে; কোন বিশেষ মাধ্যম বা ধারা তথা ‘ইংরেজি মাধ্যম’, ‘বাংলা মাধ্যম’; ‘মূল ধারা’, ‘কারিগরি ও পেশাগত ধারা’, ‘মাদ্রাসা ধারা’ (আলিয়া মাদ্রাসা ও কাওমি মাদ্রাসা ধারা) নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বিবেচ্য হওয়া উচিত কে অধিক প্রস্তুত, যোগ্য ও সক্ষম এবং কে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিজ নিজ পছন্দের বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য অধিক উপযুক্ত।
জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪-১৮০৪) বলেছিলেন, ন্যায়বিচারের মৌলিক শর্ত হলো একই ধরনের পরিস্থিতিতে একই ধরনের নীতি প্রয়োগ করা। যদি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন মানদণ্ড তৈরি করা হয়, তবে ন্যায়বিচারের সেই সার্বজনীন নীতি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মার্কিন দার্শনিক জন রলসের (১৯২১-২০০২) ‘ন্যায়বিচার তত্ত্ব’ (এ থিয়োরি অব জাস্টিস) গ্রন্থ অনুযায়ী, বৈষম্য তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা সমাজের সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের উপকারে আসে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখন প্রশ্ন হলো, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করা শিক্ষার্থীরা কি সেই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত যাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন? তথ্য-উপাত্ত বলছে, ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাব্যবস্থা (দেশি ও বিদেশি দুটো ধারাই) দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও উচ্চশ্রেণির (এলিট) শিক্ষাধারা। এর শিক্ষার্থীরা সাধারণত তুলনামূলকভাবে উন্নত ভাষাগত দক্ষতা, আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং বৈশ্বিক শিক্ষার সুযোগ পেয়ে থাকে। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে; কিন্তু নীতি নির্ধারণ ব্যতিক্রম দিয়ে নয়, সামগ্রিক বাস্তবতা দিয়ে করা হয়। সামাজিক ন্যায়বিচারের আলোকে দেখলে, বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন যদি কোথাও থাকে, তবে তা অপেক্ষাকৃত প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য; সেই গোষ্ঠীর জন্য নয় যারা ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সুবিধা ভোগ করছে।

ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক পিয়েরে বুর্দিয়ু (১৯৩০-২০০২) দেখিয়েছেন যে শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এটি সামাজিক ক্ষমতা পুনরুৎপাদনেরও একটি ক্ষেত্র। পরিবার থেকে প্রাপ্ত ভাষাগত দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এসবই শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের ‘সাংস্কৃতিক পুঁজি’ (কালচারাল ক্যাপিটাল)। এই সাংস্কৃতিক পুঁজি উচ্চশিক্ষার ভর্তি কিংবা চাকুরির প্রতিযোগিতার শুরুতেই কিছু শিক্ষার্থীকে এগিয়ে দেয়। বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার সঙ্গে এই সাংস্কৃতিক পুঁজির সম্পর্ক অস্বীকার করা কঠিন। ফলে যে গোষ্ঠী ইতোমধ্যেই তুলনামূলকভাবে বেশি সাংস্কৃতিক পুঁজির অধিকারী, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক সুবিধা সৃষ্টি করা সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে আরও জটিল করে তোলে। রাষ্ট্রের কাজ প্রতিযোগিতার মাঠকে সমতল করা; ইতোমধ্যে এগিয়ে থাকা অংশকে আরও এগিয়ে দেওয়া নয়।

ভর্তি-পরীক্ষার পৃথক প্রশ্নপত্রের পক্ষে সবচেয়ে জনপ্রিয় যুক্তিটি হলো মেধাপাচার রোধ। জনসাধারণের চক্ষু ধোলায়ে (আই ওয়াশ) মেধাপাচারের সমস্যাটি মূলত উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগের অভাবের সাথে যুক্ত করার একটি রাজনৈতিক অপ্রয়াস মাত্র। ইংরেজি মাধ্যমকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার আসল বিষয়টি কিন্তু দেশে এই বিশেষ শিক্ষাধারার বাজার সম্প্রসারণ করা। অপরদিকে তথাকথিত ‘অভিজাত শ্রেণী’র ছেলেমেয়েদের জন্য বিশেষ কায়দায় বিশেষ সুবিধা দিয়ে উচ্চশিক্ষার সার্বিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিতে দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষকরাজনীতি নিশ্চিত করা। আর রাজনৈতিক ও শ্রেণি স্বার্থে সেটা করার জন্য ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে ভুল ও ক্ষতিকর উদ্যোগ। আমাদের বুঝতে হবে যে, দেশ থেকে মেধাপাচার মূলত একটি কাঠামোগত সমস্যা; যদিও এর মূল নিহিত রয়েছে সর্বক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং জবাবদিহিতার অভাবে। অপরদিকে গবেষণা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগের অভাব, দেশি চাকুরির বাজারে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি, শিক্ষা ও প্রশাসনের রাজনীতিকিকরণ, বৈশ্বিক চাকরির বাজার, উন্নত জীবনমান এবং অর্থনৈতিক সুযোগ এসবই মেধাবীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রধান কারণ। সে যাই হোক, কোনো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রবাহের প্রধান নিয়ামক নয়। যদি সত্যিই দেশ থেকে মেধাপাচার কমাতে হয়, তবে শিক্ষকতায় মেধাবীদের নিয়োগ নিশ্চিতকরণ, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, গবেষকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান উন্নয়নই হতে পারে কার্যকর পথ।
একটি বিশেষ ধারা বা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় ভর্তির বিষয়টি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য একটি নৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং সমান সুযোগের প্রশ্ন। সেই আন্দোলনের অন্তর্নিহিত বার্তা ছিল রাষ্ট্র কোনো বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর জন্য নয়; রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য। দেশে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তখনই তার নৈতিক বৈধতা ধরে রাখতে পারে, যখন সে প্রতিযোগিতার নিয়মকে সবার জন্য সমান রাখে এবং অন্য কোন পরিচয়কে নয়, কেবল মেধাকে ভর্তির যোগ্যতা মূল্যায়নের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সামনে সামাজিক চুক্তির নৈতিকতার প্রশ্নটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিশ্লেষণের উপজীব্য হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়; এটি বাংলাদেশের সামাজিক কল্পনার এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশ। এর ইতিহাস সাধারণ মানুষের ইতিহাস, এর সাফল্য সামাজিক গতিশীলতার সাফল্য, আর এর নৈতিক শক্তি নিহিত রয়েছে মেধার প্রতি তার অঙ্গীকারে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, অন্য সব ধারার শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করবে এবং সফল হবে। কিন্তু সেই সফলতা আসা উচিত সমান প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে, বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে নয়। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্ব কেবল শিক্ষার্থী নির্বাচন নয়; বরং সমাজকে একটি নৈতিক বার্তা দেওয়া যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য সমান; কিন্তু স্বীকৃতি অর্জিত হবে নিজ নিজ মেধা, শ্রম এবং যোগ্যতার মাধ্যমে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তাই প্রশ্ন একটাই: সে কি তার শতবর্ষের প্রতিষ্ঠাদর্শন, সামাজিক ন্যায়বিচারের ঐতিহ্য এবং জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অর্জিত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবে, নাকি উচ্চশিক্ষায় দেশের মূলধারার শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে বিশেষ ধারার শিক্ষার্থীদের ভর্তি সুযোগ তৈরি করার জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের একটি নজির স্থাপন করবে?

লেখক : ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য।

পাঠকের মতামত:

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test