E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দুর্গাপূজায় শ্লোগান উঠুক, ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’ 

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৭:৪৭:৪৩
দুর্গাপূজায় শ্লোগান উঠুক, ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’ 

শিতাংশু গুহ


দুর্গাপূজা এসে গেছে। পূঁজার লেখা নিয়ে অনুরোধ থাকে, কি লিখবো? নিউইয়র্কে দুর্গাপূজা নিয়ে লিখে লাভ নেই, এখানে কেউ মুর্ক্তি ভাঙ্গেনা। পুলিশ প্রহরা লাগেনা। দলীয় ও পাড়ার মাস্তানদের দৌরাত্ম নেই! নারীর গায়ে কেউ হাত দেয়না। নাবালিকা অপহরন হয়না। মারামারি নাই। তবে কোন্দল আছে। একটি মন্দিরে পাল্টাপাল্টি দুই গ্রূপ একই সময়, একই জায়গায় পূজা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’ ও ‘ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অজুহাতে বন্দী সকল হিন্দু’র মুক্তি চাই’, এবং ‘বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা ও হিন্দু নির্যাতন বন্ধ হউক’ ইত্যাদি ব্যানার ও পোষ্টার থাকা উচিত। 

বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত, অবহেলিত, নিউইয়র্কের পূজা কমিটিগুলো এগিয়ে আসতে পারেন। প্রতি পূজায় সামান্য কিছু ডলার বাঁচিয়ে দেশে অন্তত: একটি পরিবারকে সাহায্য দিয়ে রোজগারের ব্যবস্থা করে দিলে মানুষগুলো বেঁচে যায়। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজামণ্ডপ এ ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশে বহু হিন্দু’র কাজের ব্যবস্থা হতে পারে। নিউইয়র্কে অনেকগুলো পূজা হয়, মানুষের ঢল নামে, এটি ভাল। কিন্তু এই মানুষগুলো বা কোন সংগঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলে জাতিসংঘের সামনে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু’র মুক্তির দাবিতে কোন সমাবেশ করেনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দু’একজন চিন্ময় প্রভু’র ছবি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বাংলাদেশে মুর্ক্তিভাঙ্গা জানান দেয় যে দুর্গাপূজা এসে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে বেশ কিছু মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে। আচ্ছা, ধর্মীয় জিঘাংসা ব্যতিত কি মুর্ক্তি ভাঙ্গা সম্ভব? না, সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে হাজার হাজার মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে, মন্দির আক্রমন হয়েছে, বিচার হয়নি। মুর্ক্তিভাঙ্গা জায়েজ, বিচার করে সাধ্য কার? বাংলাদেশে পুলিশ প্রহরায় পূজা হয়, পুলিশ পাহারা ছাড়া পূজা কি সম্ভব? না, কেন নয়? দুর্গাপূজায় পুলিশ লাগে, ঈদের নামাজে লাগেনা। এমনকি ভারতেও হজ্বযাত্রীদের ওপর আক্রমণ হয়না, অমরনাথ মন্দিরে যাত্রীদের ওপর আক্রমন হয়, তাই সেখানে পাহারা লাগে। মমতা ব্যানার্জীর আমলে কলকাতায় মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে।

বাংলাদেশে পূজার সময় প্রতিটি কমিটিকে কিছু অনুদান (ভিক্ষা) দেয়, তাই পূজার সংখ্যা বাড়ে। সরকার এটিকে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র নমুনা বলে প্রচার করে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নেই, কখনো ছিলোনা। যেমন দেশে গণতন্ত্র নেই, কখনো ছিলোনা। ইসলাম ও গণতন্ত্র যেমন একসাথে চলতে পারেনা, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে অন্যরা টিকতে পারেনা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা পুরো মুসলিম বিশ্ব এর উদাহরণ। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে কট্টর ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, এবং এজন্যে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, নেতানেত্রীরা দায়ী। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো হয় আমেরিকা, নয়তো চীনের পা-ধরে বসে আছে, বাংলাদেশও তাই।

দুর্গাপূজা মুখ্যত: শক্তির পূঁজা, বাংলাদেশে হিন্দু শক্তি প্রদর্শন করছে কই? হিন্দু’র প্রতিটি দেবদেবীর হাতে অস্ত্র, রামায়ন-মহাভারত যুদ্ধের কাহিনী। অথচ হিন্দু সকল অস্ত্র দেবতার হাতে দিয়ে নিজে নিরস্ত্র হয়ে বসে আছে। আগে হিন্দুরা বাড়ীতে রামদা থাকতো, এখন থাকেনা। শাঁখারি বাজারে পুরো পাকিস্তান আমলে কোন দাঙ্গা হয়নি, কারণ তাদের হাতে শাখকাটা করাত ছিলো, এজন্যে পাকিস্তান আর্মী ২৫শে মার্চ ১৯৭১’র ভয়াল রাতে শাঁখারী বাজারে আক্রমন চালিয়ে সেই দুর্গ ভেঙ্গে দিয়েছিলো। সেই রাতে ঢাকা ভার্সিটি’র একমাত্র হিন্দু আবাসিক জগন্নাথ হলও আক্রান্ত হয়েছিলো।

দুর্গাপূজা সর্বজনীন, ইউনেস্কো স্বীকৃত। বাংলাদেশে পূজায় এখন দুইদিন ছুটি। এবার নির্বাহী আদেশে ৩দিন হয়েছে। হুজুরদের সেটি পছন্দ হয়নি, কিছু বিবৃতি এসেছে। দুইদিনের দুই ঈদে প্রায় একমাস ছুটি। রমজানে আছে অলিখিত ছুটি। ইহাই সম্প্রীতি। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রীতির মধ্যে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। এজন্যে দাবি উঠেছে পৃথক প্রদেশের। বাংলাদেশের হিন্দুরা মুসলমানের সাথে থাকতে পারবে না? দেশে হিন্দুরা আতঙ্কের মধ্যে আছে, এরই মধ্যে পূজা আসে, কিছুটা সময় ভয়মিশ্রিত আনন্দে কাটে। ভয় কাটুক, দুর্গাপূজা অবিমিশ্র আনন্দে ভোরে উঠুক। সবাইকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

১৬ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test