E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘সরকার বলছে তেল আছে, তবে ভোগান্তি কেন’

২০২৬ মার্চ ১০ ১৪:৫৩:২৫
‘সরকার বলছে তেল আছে, তবে ভোগান্তি কেন’

বিনোদন ডেস্ক : দেশে কয়েকদিনের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। পবিত্র রমজান মাসে হঠাৎ করে বিভিন্ন স্থানে তেলের পাম্প বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি।

সোমবার (৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী লেখেন, ‘রমজানের পবিত্র মাস। মানুষ রোজা রাখছে, কাজ করছে, সময়মতো বাসায় ফিরতে চায়। আর ঠিক এই সময়েই হঠাৎ করে তেলের পাম্প বন্ধ! কাল সরাইল থেকে ঢাকা ঢোকার পথে প্রায় সব পাম্প বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার মহাখালীর আমাদের নিয়মিত পাম্পটাও বন্ধ। রাস্তায় মাইলের পর মাইল গাড়ির লাইন, শুধু তেলের জন্য। অথচ বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত তেল আছে। তাহলে এই ভোগান্তি কেন? কোনো কারণ নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘মনে হলো একটু সংকট তৈরি করি, মানুষকে হয়রানি করি- তাই করলাম। পবিত্র মাসে মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়াটাই কি এখন নতুন স্বাভাবিক?’

অভিনেত্রীর এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই তেলের পাম্প বন্ধ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতি গত কয়েক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে। অনেক গাড়িচালক তিন থেকে চারটি পাম্প ঘুরে তেল সংগ্রহ করছেন। কোথাও আবার কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সীমিত পরিমাণে জ্বালানি পাচ্ছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তবে বাস্তবে অনেক এলাকায় পাম্পগুলোতে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। কিন্তু এতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও ক্রেতা ও পাম্পকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে সুযোগ নিয়ে কিছু ডিলার ও পাম্প মালিক তেল মজুত করছেন- এমন অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল ডিপোগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানো এবং অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এপ্রিল মাসের জন্য প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির চেষ্টা চলছে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতেও জ্বালানি কেনা হতে পারে।

(ওএস/এএস/মার্চ ১০, ২০২৬)





পাঠকের মতামত:

১০ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test