E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে উড়বেন দর্শকরাও, হতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস

২০২৬ জুন ২৩ ১৪:৪২:১৮
স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে উড়বেন দর্শকরাও, হতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস

বিনোদন ডেস্ক : টম হল্যান্ড অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শুধু সুপারহিরো সিনেমা হিসেবেই নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এটি হতে পারে বিশ্বের প্রথম বড় বাজেটের চলচ্চিত্র, যা শুরু থেকেই স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তির জন্য বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।

সাধারণ সিনেমা হলে দর্শক শুধু সামনের পর্দায় দৃশ্য দেখতে পান। কিন্তু স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তিতে মূল পর্দার পাশাপাশি হলের দুই পাশের দেয়ালও পর্দার অংশ হয়ে যায়। ফলে দর্শক একসঙ্গে ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করতে পারেন। এটি সিনেমাকে আরও বাস্তব ও নিমগ্ন অভিজ্ঞতায় পরিণত করে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা মিলবে স্পাইডার-ম্যানের অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে। যখন স্পাইডার-ম্যান নিউইয়র্কের আকাশচুম্বী ভবনের মাঝখান দিয়ে জাল ছুড়ে উড়ে যাবে, তখন শুধু সামনের পর্দায় নয়, দুই পাশের দেয়ালেও সেই পরিবেশ দৃশ্যমান হবে। এতে দর্শকদের মনে হবে, তারাও যেন স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে একই যাত্রার অংশ।

এর আগে অনেক হলিউড ব্লকবাস্টার স্ক্রিন-এক্স ফরম্যাটে মুক্তি পেলেও সেগুলোর ক্ষেত্রে মূল শুটিংয়ের পর সম্পাদনার মাধ্যমে অতিরিক্ত দৃশ্য যোগ করা হতো। কিন্তু ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর ক্ষেত্রে পুরো পরিকল্পনাই করা হয়েছে ভিন্নভাবে। সিনেমাটি মাল্টি-ক্যামেরা ব্যবস্থায় শুটিং করা হয়েছে, যাতে শুরু থেকেই স্ক্রিন-এক্স অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়।

স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তির উদ্ভাবক দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান সিজে ফোর ডিপ্লেক্সের প্রধান নির্বাহী জুন ব্যাং জানিয়েছেন, সনি পিকচার্স এবং পরিচালক ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।

তার ভাষায়, পরিচালকের সৃজনশীল ভাবনাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই সিনেমার ভিজ্যুয়াল ক্যানভাস আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে।

পরিচালক ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটনও বিষয়টিকে চলচ্চিত্র ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, মূল ক্যামেরার পাশাপাশি বিশেষ ক্যামেরায় দুই পাশের পর্দার জন্য প্রয়োজনীয় ফুটেজও সরাসরি শুটিং সেটেই ধারণ করা হয়েছে।

হলিউডে সাধারণত মার্ভেল ও সনির বড় বাজেটের সিনেমাগুলো আইম্যাক্স সংস্করণকে কেন্দ্র করে নির্মিত ও মুক্তি পায়। তবে এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’র সঙ্গে আইম্যাক্সের একচেটিয়া চুক্তির কারণে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির সময় পর্যাপ্ত আইম্যাক্স স্ক্রিন পাওয়া যাচ্ছিল না।

তবে সেই সীমাবদ্ধতাকেই নতুন সুযোগে পরিণত করেছে সনি ও মার্ভেল। আইম্যাক্সের বিকল্প হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তিকে, আর সেটিকে কেন্দ্র করেই নির্মাণ করেছে পুরো সিনেমা। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগে দর্শকদের আবারও প্রেক্ষাগৃহমুখী করতে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩১ জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। প্রযুক্তি ও বিনোদনের এই নতুন মেলবন্ধন দর্শকদের জন্য কতটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

(ওএস/এএস/জুন ২৩, ২০২৬)




পাঠকের মতামত:

২৪ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test