E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘কেউ মারা গেলে তার অপরাধ মুছে যায় না’

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৫:১৬:০১
‘কেউ মারা গেলে তার অপরাধ মুছে যায় না’

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরও তার বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ নিয়ে সরব অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ভারতে #MeToo আন্দোলনে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। এবার নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে নিজের অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেছেন তনুশ্রী।

তার স্পষ্ট বক্তব্য, কারও মৃত্যু হলেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিংবা ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা মুছে যায় না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তনুশ্রী। তার দাবি, #MeToo আন্দোলনের পর থেকে তাকে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

তনুশ্রীর অভিযোগ, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি আইটেম গানের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছিলেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিনি আবারও সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতে #MeToo আন্দোলন নতুন করে গতি পায়। তবে নানা পাটেকর বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তনুশ্রী দাবি করেন, #MeToo আন্দোলনের পর তার স্বাভাবিক জীবন ব্যাপকভাবে বদলে যায়। আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করতেন, নির্ভয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। কিন্তু অভিযোগ সামনে আনার পর তাকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

তনুশ্রীর ভাষ্য, ‘#MeToo-র পর আমার সঙ্গে এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যা ইনস্টাগ্রামে বলতেও পারব না। মানুষ জানে না, আমাকে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’

২০২৪ সালে কেউ তার গাড়ির ব্রেক কেটে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী। তার দাবি, #MeToo আন্দোলনের পর থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় অনুসরণ করত। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও একাধিকবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনেকে বার্তা পাঠাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তনুশ্রী। তবে তার বক্তব্য, নানা পাটেকর কখনো তার কাছে ক্ষমা চাননি।

এ প্রসঙ্গে তনুশ্রী বলেন, ‘কেউ মারা গেছেন বলে তার জীবনের সব অপরাধ মুছে যায় না। তিনি যাদের হয়রানি করেছেন, যাদের ভুক্তভোগী করেছেন, তাদের হিসাব কি এখানেই শেষ হয়ে যায়?’

অভিনেত্রীর দাবি, কোনো অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাইতে হলে আগে নিজের ভুল স্বীকার করতে হয়। তার ভাষায়, ক্ষমা চাওয়ার আগে অন্যায়টি স্বীকার করা এবং নিজের কাজের দায় নেওয়া জরুরি।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরপরই প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে কয়েক দিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান তনুশ্রী। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়ে আবারও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে হয়েছে তাকে।

২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর অভিযোগ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময় থেকেই ভারতে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

নানা পাটেকর অভিযোগ অস্বীকার করলেও তনুশ্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথা বারবার তুলে ধরেছেন। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরও সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১০, ২০২৬)








পাঠকের মতামত:

১০ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test