E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘গালি দেওয়ার অধিকার কি পুরুষের একার’

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৪:৪৫:১১
‘গালি দেওয়ার অধিকার কি পুরুষের একার’

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন নিয়ে গাড়িতে উঠতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সাংবাদিকদের মারধর, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে পরীমণি ও তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে। আদালত প্রাঙ্গণে ধারণকৃত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ মেজাজ হারিয়ে একজনের দিকে তেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজ করেন এই অভিনেত্রী।

পরীমণির মেজাজ হারানোর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর চর্চায় মেতেছেন নেটিজেনরা। চিত্রনায়িকার মুখে গালিগালাজ শুনে অনেকে তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেননি। এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও জানাচ্ছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে পরীমণির পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে কথা বলেছেন ‘লজ্জা’খ্যাত এই লেখিকা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি পোস্টে তসলিমা নাসরিন বলেন, “পরীমণি গালি দিয়েছে বলে দেশ তোলপাড়। পুরুষের মুখে যে গালি শুনতে শুনতে কারো ভ্রু কুঁচকায় না, নারীর মুখে সেই গালি শুনলেই আঁতকে ওঠে সবাই। ‘মেয়ে হয়েও এমন নোংরা কথা!’ মেয়ে হলে কী করতে হবে? অপমান গিলে মুখে মধু মেখে বসে থাকতে হবে? গালি দেওয়ার অধিকারও কি পুরুষের একার?”

মানুষের ভালো গুণগুলোর মতো খারাপ গুণগুলোও কোনো লিঙ্গের সম্পত্তি নয় বলে মত তসলিমা নাসরিনে। তার ভাষায়, “পুরুষ-শাসক বর্বর হতে পারে, নারী-শাসকও পারে। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি। পুরুষ নৃশংস হতে পারে, হত্যা করতে পারে, নারীও পারে। পুরুষ ষড়যন্ত্র করতে পারে, নারীও পারে। পুরুষ পরকীয়া করতে পারে, প্রতারণা করতে পারে, নারীও পারে। মানুষের ভালো গুণগুলোর মতো খারাপ গুণগুলোও কোনো একটি লিঙ্গের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। নারী মানেই মমতাময়ী, সহনশীলা, পবিত্র, নিষ্পাপ—এই ছাঁচটিও পুরুষতন্ত্রের তৈরি। নারীর রাগ থাকবে না, ঘৃণা থাকবে না, মুখে কটু কথা থাকবে না—পুরুষ যা-ই করুক, নারীকে দেবী হয়ে থাকতে হবে।”

প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, “নারীকে সমান অধিকার পেতে হলে পুরুষের চেয়ে ভালো মানুষ হওয়ার পরীক্ষা দিতে হবে কেন? কোনো নারী অসভ্য হলে তার অসভ্যতার সমালোচনা করো। ‘মেয়ে হয়েও’ অসভ্য কেন, সেই প্রশ্ন তুলো না। নৃশংসতার বিচার করো নৃশংসতা হিসেবে, প্রতারণার বিচার করো প্রতারণা হিসেবে। নারী করেছে বলে বাড়তি অপরাধ, পুরুষ করেছে বলে সাত খুন মাফ—এই দ্বিচারিতা বন্ধ হোক।”

তসলিমা নাসরিন মনে করেন—নারী আর পুরুষ সমান মর্যাদার মানুষ। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “প্রজননে নারী ও পুরুষের কিছু জৈবিক পার্থক্য আছে। সেই পার্থক্য কাউকে প্রভু, কাউকে দাসী বানানোর যুক্তি হতে পারে না। নারী আর পুরুষ সমান মর্যাদার মানুষ। অথচ রাষ্ট্র, সমাজ আর পরিবারের কত আইন, কত প্রথা এখনো পুরুষকে নারীর মাথার ওপর বসিয়ে রাখছে! যোগ্যতা নেই, সততা নেই, মানবিকতা নেই—তবু শুধু পুরুষ বলে বাড়তি ক্ষমতা, বাড়তি স্বাধীনতা, বাড়তি ছাড়। পুরুষাঙ্গ থাকার সুবিধে ছাড়া এ আর কী? ইয়াক!”

তসলিমা নাসরিনের এসব ভাবনার সঙ্গে সবাই একমত নন। নেটিজেনরাও দুটি শিবিরে বিভক্ত। একাংশ তসলিমার বয়ানের পক্ষে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ তার বিপরীত।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এ ঘটনার একদিন পরই অর্থাৎ গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন এই চিত্রনায়িকা। জামিন নিয়ে ফেরার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি এই নায়িকাকে বলতে শোনা যায়—“তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস ক্যান!” যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিক।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৭, ২০২৬)











পাঠকের মতামত:

০৭ নভেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test