E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চেয়ে রিট

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৩:০৫:৫৩
নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চেয়ে রিট

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহম্মদ মিসবাহ উদ্দিন এই রিট দায়ের করেন। রিটে নির্বাচন কমিশন (ইসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়, গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বৈধ নির্বাচনি প্রচারণাকালে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারীরা, বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হুমকির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাই রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, এসব ঘটনা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮ (বৈষম্য নিষিদ্ধ), ৩২ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা), ৩৬ (চলাচলের স্বাধীনতা), ৩৭ (সমাবেশের স্বাধীনতা), ৩৮ (সমিতির স্বাধীনতা) ও ৪১ (ধর্মীয় স্বাধীনতা) সরাসরি লঙ্ঘন।

এছাড়া সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার যে সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।

এর আগে নির্বাচনি প্রচারণাকালে নারীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে সালমার পক্ষে আইনজীবী মুহম্মদ মিসবাহ উদ্দিন গত ২৯ জানুয়ারি এই নোটিশ পাঠান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে, যা সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকেরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। কিন্তু ওই সময় থেকে বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারীরা সংগঠিত হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়, এসব হামলা শুধু ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং সংবিধানের ২৮, ৩২, ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার, যেমন লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য থেকে মুক্তি, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা, চলাচল, সমাবেশ, সংগঠন ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।

নোটিশে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো প্রতিরোধমূলক, প্রতিকারমূলক কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি, যা গুরুতর দায়িত্বহীনতার শামিল।

নোটিশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রতিকার চেয়ে রিট করা হয়।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test