E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বুড়িগঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৩:৪০:০৮
বুড়িগঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামিরা হলেন শহিদুল ইসলাম, নিজাম, মনির হোসেন সেন্টু ও সাইফুল ইসলাম। এদের মধ্যে সাইফুল পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের পূর্বের হাজতবাস সাজা থেকে সমন্বয় হবে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী তার এক বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ এলাকায় বেড়াতে যান। অভিযোগে বলা হয়, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন আসামি জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে একটি বাড়ির কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এজাহারের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর থানায় নিয়মিত মামলা হয়। প্রথমে উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ তদন্তভার গ্রহণ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া প্রস্তুত ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হলে উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার মামলার দায়িত্ব নেন। তিনি পূর্ববর্তী তদন্তের নথি যাচাই করে সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত রাখেন এবং মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। তদন্ত শেষে চার আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়ে এলে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন। বিচার পর্যায়ে পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়ায় শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম (পলাতক), নিজাম এবং মনির হোসেন সেন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

প্রসিকিউশন পক্ষ মোট আটজন সাক্ষী উপস্থাপন করে এবং একাধিক দালিলিক প্রমাণ আদালতে দাখিল করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপন করেননি।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নির্দোষ।

আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে চার আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে।

রায়ে প্রত্যেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত জরিমানার অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়।

গ্রেফতার থাকা আসামি শহিদুল ইসলাম, নিজাম ও মনির হোসেন সেন্টুকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের পূর্বের হাজতবাস সাজা থেকে সমন্বয় হবে। পলাতক আসামি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের অনুলিপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণেরও নির্দেশ দেন আদালত।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬)















পাঠকের মতামত:

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test