E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

চাঁদাবাজি মামলা

রাসেল বাহিনীর প্রধানসহ ৩ জনের ৫ বছরের কারাদণ্ড 

২০২৬ মার্চ ২৯ ১৯:২৩:৫৬
রাসেল বাহিনীর প্রধানসহ ৩ জনের ৫ বছরের কারাদণ্ড 

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে নির্মাণাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় ‘রাসেল বাহিনী’র প্রধান মেহেদী হাসান মিয়া ওরফে রাসেল (৩৬) ও তার দুই সহযোগীকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমাণা অনাদায়ে আরও ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।  

আজ রবিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ যুগ্ম দায়রা জেলা জজ আদালতের বিচারক ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের সাহিদুল শেখের ছেলে ও রাসেলের সহযোগী এসএম সাজিদ ওরফে ইয়াসিন শেখ (২৩) এবং একই গ্রামের আবেদ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ শেখ (২৮)।

গোপালগঞ্জ যুগ্ম দায়রা জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মাললার ১ নং আসামি মেহেদী হাসান মিয়া ওরফে রাসেল পলাতক রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় এসএম সাজিদ ওরফে ইয়াসিন শেখ ও আব্দুল্লাহ শেখ উপস্থিত ছিলেন। তাদের জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানাগেছে, ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া এলাকায় নির্মাণাধীন ‘এম এস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে গিয়ে রাসেল ও তার সহযোগীরা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আজিজুল ইসলাম মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হাতিম আলী মৃধার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তারা কারখানার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরের দিন উপজেলার আড়ুয়াকান্দি বাজারে আসামিরা মোটরসাইকেলে এসে নির্বাহী পরিচালক আজিজুল ইসলাম মিয়ার পথরোধ করেন। চাঁদার টাকা না দিলে তারা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ১০ মার্চ আজিজুল ইসলাম মিয়া বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাশিয়ানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ১১ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক ৩ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান রাসেল ওই এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তার নিজস্ব একটি বাহিনী রয়েছে। রাসেল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাভারের আশুলিয়া থানায় জুলাই বিপ্লবের সময় হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুন, চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। রাসেল কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিদাদর হত্যা মামলায় জেল খেটেছে ৷ সেনাবাহিনীর গাড়ি পোড়ানো মামলা এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। রাসেল ও তার সহযোগীদের সাজার খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বোস্তি ফিরেছে।

(টিবি/এসপি/মার্চ ২৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৯ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test