E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কালিগঞ্জে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ, সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন

২০২৬ মে ২১ ১৯:০৯:৪৮
কালিগঞ্জে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ, সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন

রঘুনাথ খঁ, সাতক্ষীরা : চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সোহরাব হোসেন সরদার নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সোহরাব হোসেন আদালতের কাঠগোড়ায় হাজির ছিলেন।

আসামি সোহরাব হোসেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের মৃত মহব্বত আলী সরদারের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সম্পর্কে দাদা হওয়ায় কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের সোহরাব হোসেন চার বছর বয়সী ভিকটিমের সাথে মাঝে মাঝে খেলাধুলা করতেন। ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নিজেদের উঠানে খেলা করার একপর্যায়ে আসামী ভিকটিমকে কৌশলে তার ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গলা চেপে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে সোহরাব। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য আবারো ভয় দেখায় সোহরাব। সন্ধ্যায় যৌনাঙ্গে যন্ত্রণা শুরু হলে জানতে চাইলে ওই ভিকটিম বিষয়টি তার মাকে জানায়। এক পর্যায়ে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই বছরের ৪ মার্চ ভিকটিমের মা বাদি হয়ে সোহরাব হোসেনকে আসামী শ্রেণীভুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই দিনে সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম মাসুমা আক্তার ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। একই দিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জাহিদুল আলম এজাহারভুক্ত আসামীর নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে আসামী গ্রেপ্তারের পর থেকে জামিনে মুক্তি পাননি।

১৩ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি এবং মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আসামী সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আসামি মামলার রায় শোনার পর তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. আব্দুল মজিদ (২)। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. শেখ আলী আশরাফ। তিনি এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

(আরকে/এসপি/মে ২১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২১ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test