E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দীদের বর্ণিল ঈদ উৎসব: খাবারে রাজকীয় মেন্যু

২০২৬ মে ৩০ ১৪:৫৭:৩৮
কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দীদের বর্ণিল ঈদ উৎসব: খাবারে রাজকীয় মেন্যু

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম : পবিত্র ঈদুল আজহায় কুড়িগ্রাম কারাগারে চলছে ৩দিন ব্যাপী বন্দীদের বর্ণিল ঈদ উৎসব। বৃহস্পতিবার ২৮মে ঈদুল আজহার দিনে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে শনিবার ৩০ মে পর্যন্ত। ঈদের দিন বন্দীদের খবারের মেন্যুতে ছিল রাজকীয় পরিবেশন। এছাড়াও উৎসবের নির্ধারিত ৩ দিন বন্দীদের দেখতে আসা স্বজনদের জানানো হবে ফুলেল অভ্যর্থনা, বন্দীরা নিতে পারবেন পরিবার ও স্বজনদের বাড়িতে রান্না করা খাবারের স্বাদ। বাড়তি সুবিধা হিসেবে পাবেন কারা অভ্যন্তরের ডিজিটাল মোবাইল বুথ থেকে প্রিয়জনদের সাথে ৫ মিনিট নিরিবিছিন্ন কথা বলার সুযোগ।

কারা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় কারাগারে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে বন্দীরা করেন একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়। উৎসবের আমেজ বাড়াতে সকালের শুরুতেই বন্দীদের আপ্যায়ন করা হয় সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি দিয়ে।

এরপর দুপুরের মেন্যুতে ছিল সুগন্ধি পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও সালাদ। খাবার পরবর্তী ডেজার্ট হিসেবে ছিল মিষ্টি ও চমচম। খাবারে তৃপ্ততা আনতে যোগ ছিল কোমল পানীয় ও পান-সুপারি। এদিন রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত, ফ্রাই রুই মাছ ও মজাদার আলুর দম।

ঈদের দিনের সাজসজ্জায় নারী বন্দীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় মেহেদী, লিপস্টিক, হেয়ার ক্ল্যাচারসহ নানান প্রসাধনী। এছাড়া বন্দী মায়ের সাথে থাকা ২বছরের এক শিশুকে দেয়া হয় নতুন পোশাক।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১০ টায় উলিপুর থেকে বন্দী স্বজনকে দেখতে আসা আছিয়া বেগম, রৌমারীর ময়নুল ইসলাম, নাগেশ্বরীর সামিউল হকের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে জেলখানার ভিতরে বাসা থেকে প্রয়োজনীয় রান্না করা খাবার দিতে পারছি, তবে এই খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই ভিতরে পাঠানো হচ্ছে। সাক্ষাতের সময় আগের চেয়ে নির্বিঘ্নে একটু বেশি সময় কথা বলতে পারছি, ঈদের জন্য নতুন পোশাকও দিতে পারছি এজন্য আমাদের কাছে কারা কর্তৃপক্ষের এই আন্তরিকতা অনেক ভালো লাগছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের জেলার এজি মামুদ জানান, কারাগারে বর্তমানে ৩৬৪জন বন্দী রয়েছে, এর মধ্যে নারী বন্দীর সংখ্যা ১৮ জন। আমরা বন্দীদের জন্য সবসময় মানবিক আচরণ করি। তারা যেন নিজেদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন সেই লক্ষ্যেই ৩দিন ব্যাপী এই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা। আমরা মনে করি, বন্দীদের সংশোধন প্রক্রিয়ায় আমাদের মানবিক আচরণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

(পিএস/এসপি/মে ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test