E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

জমি বিক্রি করে জরিমানা আদায়ের নির্দেশ

মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

২০২৬ জুন ২৫ ১৮:১১:০৯
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর শহরে নিজ মাদ্রাসার হেফজখানায় এক ছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসার পরিচালক মো. আশরাফ আলীকে (৪৬) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার এই টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি (জমিজমা বা অন্যান্য মালামাল) বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আশরাফ আলী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত ‘রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদ্রাসা’র পরিচালক এবং ওই মহল্লারই বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার হেফজখানার আবাসিক ছাত্রী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদ্রাসার হেফজখানার শ্রেণিকক্ষ থেকে ওই ছাত্রীকে নিজের থাকার কক্ষে ডেকে নেন পরিচালক আশরাফ আলী। ওই সময় তার স্ত্রী-সন্তান বাসায় ছিলেন না। বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে তিনি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ওই ছাত্রী কৌশলে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে বিষয়টি খুলে বলে। পরিবারটি প্রথমে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ঘটনার ১৭ দিন পর, ৯ এপ্রিল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে আশরাফ আলীকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরপর আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হলে তিনি পুনরায় পলাতক হয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে আশরাফ আলীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালত জরিমানার ৭০ হাজার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাজা পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে।

পিপি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "এই রায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

(ডিসি/এসপি/জুন ২৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৫ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test