E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট

২০২৬ জুন ২৬ ০০:৩০:৩৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট

স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ সম্প্রতি এ রিট দায়ের করেন।

বুধবার (২৫ জুন) রিট আবেদনকারী মহসিন রশিদ জানান, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি চলছে। গত ৭ জুন রিটটি দায়ের করা হয় এবং ২২ জুন এর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, সর্বশেষ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায় যে, এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করবেন। এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে অ্যাটর্নি জেনারেল কবে শুনানিতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। ফলে শুনানি মুলতবি রয়েছে।
আগামী সপ্তাহে বিষয়টি আবার শুনানির জন্য উঠতে পারে।

রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতা হারানো’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনটি বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে এ রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের বিচার করা। কিন্তু পরবর্তীকালে সম্পাদিত শিমলা চুক্তি এবং ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবন্দিদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ায় এই আইনের অধীনে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

রিটে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে আইনটিকে পুনরায় কার্যকর করা হলেও তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে আইনটি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আবেদনকারীর মতে, আইনটির প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিচার ও দণ্ডসংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষার পরিপন্থী।

এ ছাড়া সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে রিটে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা কেবল হাইকোর্ট বিভাগেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য পরিচালনা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের ব্যবস্থা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

(ওএস/এএস/জুন ২৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৬ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test