E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ফরিদপুরে হত্যা মামলায় ১১ বছর পর ‌রাকিব বেপারীর ‌যাবজ্জীবন 

২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:১৪:০০
ফরিদপুরে হত্যা মামলায় ১১ বছর পর ‌রাকিব বেপারীর ‌যাবজ্জীবন 

দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে মোটরসাইকেল না পেয়ে স্ত্রী হ্যাপি বেগমকে (১৮) নির্যাতন ও হত্যার দায়ে স্বামী রাকিব বেপারীকে (৩৬) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যার ১১ বছর পর আজ এ আদেশ প্রদান করা হয়।

আজ রবিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রাকিব বেপারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হ্যাপি বেগমকে মারধর করেন স্বামী রাকিব বেপারী ও তাঁর স্বজনরা। এ অভিযোগ অনুযায়ী, হ্যাপির পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল যৌতুক দাবি করেছিলেন রাকিব। দাবিকৃত যৌতুক দিতে না পারায় হ্যাপির ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।

ঘটনার দিন রাতে হ্যাপিকে মারধর করছে, এ খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে আসামিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরেরদিন ৫ আগস্ট সকালে হ্যাপির মৃত্যুর খবর পান তাঁর বাবা হুমায়ুন শেখ। তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বারান্দায় হ্যাপির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান।

মামলার নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় হ্যাপি বেগম ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচানোর চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ওইদিনই এ ঘটনায় নিহতের বাবা হুমায়ুন শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৮ জুলাই রাকিব বেপারীসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ূন শেখ।

নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী খান ভুইয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালতের এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট।

(ডিসি/এসপি/আগস্ট ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test