E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আদালতে ‘মাই লর্ড’ সম্বোধন পরিবর্তন চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন

২০২৬ নভেম্বর ০৯ ০১:১২:২৫
আদালতে ‘মাই লর্ড’ সম্বোধন পরিবর্তন চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার : সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ‘মাই লর্ড’ সম্বোধনের পরিবর্তে ‘ইয়োর হাইনেস’ বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য শব্দ ব্যবহারের নির্দেশনা চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসরত মুসলিম আইনজীবীদের জন্য এ নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবর (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এ আবেদন করেন তিনি।

আবেদনে মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের মুসলিম আইনজীবীদের ধর্মীয় বিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির সমাধান প্রয়োজন।”

এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৪১(১)(ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচারের মৌলিক অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকিদা সমুন্নত রাখার অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন দ্বারা সুরক্ষিত।”

আবেদনে বলা হয়, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তি তাওহিদ। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ। তাই কোনো মানুষ বা পার্থিব সত্তাকে ‘প্রভু’ বা ‘লর্ড’ হিসেবে সম্বোধন করা মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ অঞ্চলের বিচারব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবেদনকারী বলেন, হিন্দু ও মুসলিম শাসনামলে বিচারালয়ে ‘মাই লর্ড’ সম্বোধনের প্রচলন ছিল না। ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে এ সম্বোধনের প্রচলন শুরু হয়। তার মতে, এটি এ অঞ্চলের নিজস্ব বিচারিক ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং ঔপনিবেশিক শাসনের উত্তরাধিকার।

আবেদনে আরো বলা হয়, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের ‘মাই লর্ড’ বলে সম্বোধন করা হয়। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘আমার প্রভু’, যা মুসলিম আইনজীবীদের তাওহিদভিত্তিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন আবেদনকারী। তার দাবি, এ সম্বোধন সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারও ক্ষুণ্ন করে।

আবেদনকারী বলেন, “অধস্তন আদালতের বিচারকদের ‘ইয়োর অনার’ বলে সম্বোধন করা হয়। সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘ইয়োর হাইনেস’ সম্বোধনটি মানানসই হতে পারে। এতে বিচারপতিদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি মুসলিম আইনজীবীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংবিধানিক অধিকারও বজায় থাকবে বলে তিনি মনে করেন।”

এ অবস্থায় ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও নৈতিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসরত মুসলিম আইনজীবীদের জন্য ‘মাই লর্ড’ সম্বোধনের পরিবর্তে ‘ইয়োর হাইনেস’ অথবা অন্য কোনো সমীচীন শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা সার্কুলার জারির ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৯, ২০২৬)











পাঠকের মতামত:

০৯ নভেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test