E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ট্রাম্প: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে স্ত্রীসহ ধরে নিয়ে গেছে মার্কিন সেনারা

২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৯:০২:১৭
ট্রাম্প: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে স্ত্রীসহ ধরে নিয়ে গেছে মার্কিন সেনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে স্থানীয় সময় শুক্রবার শেষ রাত থেকে মার্কিন বিমান থেকে সিরিজ বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভয়াবহ এ হামলায় রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির কয়েকটি স্থাপনায় আগুনও ধরে গেছে। 

ভেনেজুয়েলার ওপর ভয়াবহ এ হামলা চালানোর কথা এরই মধ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। শুধু তাই নয়, দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে নিয়ে গেছেন মার্কিন সেনারা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক জরুরি বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসির।

এদিন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ পরিসরের অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে ভেনেজুয়েলার বাইরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত ৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও দেশের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতিকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে গ্রেপ্তার করেছে এবং তৃতীয় কোনও দেশে বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে। এর আগে, ১৯৯০ সালে পানামা আক্রমণের পর দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান ম্যানুয়েল নোরিগাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

ধরা পড়ার আগে নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এই আগ্রাসন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি লুসিয়া নিউমান জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফরচুনার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় গতকাল শেষ রাত এবং আজ ভোরবেলায় সিরিজ বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণ শুরুর পর থেকেই ফরচুনা ও আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ইচ্ছা বা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিন চান ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যেন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ ছেড়ে চলে যান।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে সরাসরি ঢুকে মার্কিন সেনাবাহিনীর এই হামলার খবরে এরই মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।

শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে এটি দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে এই আক্রমণকে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নিয়ম, বিশেষ করে সনদের অনুচ্ছেদ ২, অনুচ্ছেদ ৪, যা বল প্রয়োগ নিষিদ্ধ করে, তার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ বলে অভিহিত করেছে, যা জাতিসংঘ এবং আইনের শাসন, শান্তি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সমুন্নত রাখার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত রাষ্ট্র কর্তৃক অবিলম্বে এবং স্পষ্টভাবে নিন্দা করা উচিত।

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের একটি স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মার্কিন এমন সামরিক হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন। এই ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে আরও দুর্বল এবং ক্ষয়ক্ষতি করবে।

ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষার অন্তর্নিহিত অধিকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ০৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৫ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test