E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‌‘ইরান যুদ্ধ চায় না, হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করবে না’

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৩:৫৩:৩৮
‌‘ইরান যুদ্ধ চায় না, হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করবে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না। তবে একই সঙ্গে ন্যায্য আলোচনার পথ ও প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারের কৌশল অনুসরণ করছে। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় নিরাপত্তাকে অক্ষুণ্ণ রেখে ন্যায্য পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে ইরান ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্ট ধাক্কা কাটিয়ে পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোও দূর করা হয়েছে।

মাস্কাটে সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কোনো লিখিত জবাব দেওয়া হয়নি; যা হয়েছে তা কেবল মতবিনিময় এবং এ প্রক্রিয়াই এখন অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোও ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে রাজনৈতিক সমাধানকে সমর্থন করে।

লারিজানি বলেন, আলোচনাটি ইতিবাচক হতে পারে, যদি তা ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত হয় এবং সময়ক্ষেপণ বা পারমাণবিক ইস্যুর বাইরের বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার না হয়ে ওঠে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা-এটাকে তিনি সম্ভাব্য চুক্তির একটি অভিন্ন ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র তদারকিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি-এর কাঠামোর মধ্যে মেনে নেয়। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে পুরোপুরি সরে আসার ধারণাকে তিনি অবাস্তব আখ্যা দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পারমাণবিক জ্ঞান মুছে ফেলা যায় না, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উত্থাপিত হয়নি, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির অংশ এবং তা আলোচনাযোগ্য নয়।

গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েল অঞ্চলটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ও ব্যাপক অপরাধ সংঘটিত করেছে, তবুও দুই বছরের বেশি সময়ের বিধ্বংসী বোমাবর্ষণের পরও হামাসকে উপস্থিতি নির্মূল করতে পারেনি এবং এই সংগঠনটিই এখনও গাজা পরিচালনা করছে।

বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা ক্ষীণ- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্পষ্ট উত্তেজনা বাড়ানো তাদের জন্য লাভজনক হয়নি। ইরান সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, তবে সংঘাতের আগুন জ্বালাতে চায় না।

তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশগুলোর অবস্থানকে আঞ্চলিক বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনুধাবনের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারে ইরানের প্রস্তুতির কথা জানান। মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকারও তিনি প্রশংসা করেন।

লারিজানি বলেন, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তাদের সমর্থন রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। পশ্চিমাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই ইরানের পূর্বমুখী কৌশলের কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লারিজানি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করবে না এবং আলোচনা ও প্রতিরোধ-এই সমন্বিত কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাবে।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬)





পাঠকের মতামত:

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test