E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্প শিবিরে ফাটল স্পষ্ট

২০২৬ মার্চ ১৩ ১৩:০৮:১৫
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্প শিবিরে ফাটল স্পষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টি ‘ভুল পথে’ এগোচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসের সাবেক সদস্য মার্জোরি টেইলর গ্রিন এমন মন্তব্য করেছেন।

তার এমন মন্তব্যে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’(এমএজিএ) মুভমেন্ট উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জড়িত থাকা নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা স্পষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গ্রিন জানান, তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মতাদর্শের কয়েকজন শীর্ষ রক্ষণশীল নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা সবাই একমত যে রিপাবলিকান পার্টি এখন এমন ব্যক্তিদের অধীনে চলে গেছে, যাদের বিরুদ্ধে ভোটাররা একসময় অবস্থান নিয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন যে, পার্টিটি এখন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, রক্ষণশীল ভাষ্যকার মার্ক লেভিন এবং তথাকথিত ‘নিওকন’ রিপাবলিকানদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

গ্রিন লিখেছেন, ‘যুদ্ধ, এপস্টাইন ইস্যু এবং বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টি ভুল পথে এগোচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার ভবিষ্যৎ আমাদের তরুণ প্রজন্মের হাতে, ক্ষমতায় থাকা বেবি বুমার প্রজন্ম ও তাদের দাতাদের হাতে নয়।’

কংগ্রেসে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর গ্রিন মনে করেন, মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে।’

একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত গ্রিন গত নভেম্বরে ঘোষণা দেন যে তিনি ৫ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি এবং কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপেস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবি নিয়ে রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে কয়েক মাসের দ্বন্দ্বের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পপন্থী শিবিরেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক টাকার কার্লসন এই সংঘাতকে ‘আমেরিকার যুদ্ধ নয়, বরং ইসরায়েলের যুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলারও সমালোচনা করেন, যেখানে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই শিশু।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র চালিয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় পেন্টাগন এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

কার্লসন বলেন, ‘যদি আপনি এমন এক দেশে বাস করেন যেখানে সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের হত্যাকেও স্বাভাবিক মনে করা হয়, তবে সেই দেশের জন্য যুদ্ধ করার কিছুই নেই।’

তবে কার্লসনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প বলেন, ‘টাকার কার্লসন পথ হারিয়েছে। সে এমএজিএ সমর্থক নয়।’

অন্যদিকে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রয়োজনে তিনি তার অঙ্গরাজ্যের জনগণকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে অংশ নিতে তাদের ‘ছেলে-মেয়েদের পাঠাতে’ বলবেন। এই মন্তব্যের পর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি ম্যাক বলেন, তিনি দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সন্তানদের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে পাঠাতে চান না। একইভাবে, প্রতিনিধি আন্না পউলিনা মন্তব্য করেছেন, গ্রাহাম যদি বিদেশি যুদ্ধে লড়তে চান তবে তিনি যেন আগে স্বেচ্ছাসেবক হিসবে যুদ্ধে যোগ দেন।

এদিকে জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের ওপর প্রাথমিক হামলার বিরোধিতা করছেন।

(ওএস/এএস/মার্চ ১৩, ২০২৫)





পাঠকের মতামত:

১৩ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test