E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

২০২৬ মার্চ ১৮ ১৪:১১:৪৮
উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ প্রায় তিন সপ্তাহে গড়িয়েছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রতিদিনই নতুন উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। ইরান এখন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে, যেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। এই সংঘাত ইতোমধ্যে মৃত্যু, ধ্বংস, টার্গেটেড হত্যা এবং জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করে অঞ্চল ছাড়িয়ে বৈশ্বিক প্রভাব ফেলছে।

মঙ্গলবার ভোরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ওপর আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা ভোরে একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধ করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইনও সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করার তথ্য দিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’ এর চার ঘণ্টা আগেও ইরানের আরেকটি হামলার খবর পাওয়া যায়।

দুবাই থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানান, ‘ইরানের পাল্টা হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর দিকে ইরান প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি লক্ষ্য ছিল আমিরাত। গত রাতেও একই চিত্র দেখা গেছে, শহরজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাতের আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আলো ও প্রতিহত করার দৃশ্য এখন শুধু দুবাই নয়, পুরো জিসিসি অঞ্চলের শহরগুলোতেই পরিচিত হয়ে গেছে।’

দুবাইয়ের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব বিস্ফোরণ ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ফল।

এই সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রাণহানিও ঘটেছে এবং অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়ছে।

উপসাগরীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের ওপর হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

ইরানের এই হামলায় জ্বালানি উৎপাদন, পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। ফলে ১৯৯০-১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে অঞ্চলটি।

প্রায় তিন সপ্তাহের এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে।

রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন দৈনিক ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। এর অন্যতম কারণ হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।

(ওএস/এএস/মার্চ ১৮, ২০২৬)







পাঠকের মতামত:

১৮ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test