E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘বাড়াবো না’ বলেও ট্রাম্প কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন?

২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৩:৫৯:৫৫
‘বাড়াবো না’ বলেও ট্রাম্প কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউজে তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। তার সামনে ছিল একটি বড় সিদ্ধান্ত: ইরানের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

তার দেওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়ে আসছিল। পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের জন্য ‘এয়ার ফোর্স টু’ প্লেন জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের রানওয়েতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু প্রশাসন একটি ধাঁধার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল: ইরানিদের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো সাড়া মিলছিল না।

কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান বিষয়গুলোর একটি তালিকা পাঠিয়েছিল, যাতে পরবর্তী দফার আলোচনার আগে ইরানিরা সেগুলোতে সম্মত হয়। কিন্তু তিন কর্মকর্তার মতে, কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়াই কয়েকদিন পার হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ জাগছিল যে, পূর্বনির্ধারিত সরাসরি আলোচনার জন্য ভ্যান্স এবং অন্যদের পাকিস্তান সফরে আসলে কতটা অর্জন সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প যখন ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেন, তখনও প্রশাসন ইরানের পক্ষ থেকে কিছুই শুনতে পায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে অনুরোধ করেছিলেন যেন ভ্যান্স প্লেনে ওঠার আগে অন্তত কোনো এক ধরনের সাড়া পাওয়া যায়।

তবুও, কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো উত্তর আসেনি।

তিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা বিশ্বাস করেন, সাড়া না পাওয়ার প্রধান কারণ হলো বর্তমান ইরানি নেতৃত্বের মধ্যকার বিভাজন। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে পাওয়া বার্তার ভিত্তিতে তারা এমন ধারণা করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, ইরানিদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে কোনো ঐক্য নেই—বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং তাদের বর্তমান মজুত নিয়ে আলোচনার জন্য তারা মধ্যস্থতাকারীদের কতটুকু ক্ষমতা দেবে, তা নিয়ে কোনো ঐকমত্য নেই। শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বাধা।

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এই জটিলতার একটি বড় কারণ হলো নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি তার অধীনস্থদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছেন কি না—নাকি তারা কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই স্রেফ আন্দাজ করার চেষ্টা করছেন যে তিনি কী চান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, খামেনির আড়ালে থাকার প্রচেষ্টা ইরানি সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে বিঘ্নিত করেছে।

এই বিশাল বাধা সত্ত্বেও, এক কর্মকর্তা বলেছেন, শিগগির মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের একটি সম্ভাবনা এখনো আছে। তবে তা কবে এবং কখন হবে, তা নিশ্চিত নয়।

শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে তা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে এবার তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। মঙ্গলবার বিকেলে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানি কর্মকর্তাদের ‘মারাত্মকভাবে বিভক্ত’ বলে অভিহিত করে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ান। তিনি এখনো যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে আগ্রহী এবং এমন একটি অজনপ্রিয় সংঘাত পুনরুজ্জীবিত করতে চান না, যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন।

তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুন করে আলোচনায় বসার আগে ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। ট্রাম্প এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রণালী উন্মুক্ত করছি না।’

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান যদি আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত থাকে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে খুব দ্রুতই পাকিস্তান সফরের আয়োজন করা সম্ভব। যতক্ষণ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকবে ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র এবং তেহরান—উভয়ই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর জন্য উভয় পক্ষই দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী হবে বলে আশা করছেন অনেকে।

তথ্যসূত্র : সিএনএন

(ওএস/এএস/এপ্রিল ২২, ২০২৬)






















পাঠকের মতামত:

২২ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test