E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলসহ কোন কোন দেশে অস্ত্র বিক্রি করছেন ট্রাম্প

২০২৬ মে ০২ ১৪:৩৩:২৫
জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলসহ কোন কোন দেশে অস্ত্র বিক্রি করছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির জরুরি অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

বুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের সাধারণ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে জরুরিভিত্তিতে এই অস্ত্র হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা এবং মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এই বিশাল অস্ত্র চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০ হাজার ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২’, যা বিএই সিস্টেমস নামক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে থাকে। কাতারকেও একই পরিমাণ ও মূল্যের অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার এপিকেডব্লিউএস-টু এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কাতারের জন্য ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ২০০টি ‘প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাবিলিটি-২’ এবং ৩০০টি ‘প্যাট্রিয়ট-৩’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্যও প্রায় ১৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এপিকেডব্লিউএস বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল কমান্ড সিস্টেম’ এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে নর্থরোপ গ্রাম্যান, আরটিএক্স এবং লকহিড মার্টিনের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রতিটি বিক্রির ক্ষেত্রেই একটি ‘জরুরি অবস্থা’ বিদ্যমান থাকার সপক্ষে বিস্তারিত যুক্তি প্রদান করেছেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে এই অস্ত্রগুলো অবিলম্বে সরবরাহ করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। সাধারণত এ ধরনের বড় অস্ত্র চুক্তির ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘ পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়, তবে বিশেষ ক্ষমতাবলে এবার সেই প্রথা ভাঙা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকট কেবল সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় আবারও আকাশপথে বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন এক অনিশ্চিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। গত মার্চ মাসেও ট্রাম্প প্রশাসন একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে জরুরিভিত্তিতে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যা মার্কিন প্রশাসনের ইরান বিষয়ক কঠোর নীতিরই প্রতিফলন।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি

(ওএস/এএস/মে ০২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০২ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test