E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দ্য ইকোনমিস্ট

লিফট শিল্পকে বদলে দেবে ফিনল্যান্ড-জার্মানির ‘মেগা চুক্তি’

২০২৬ মে ০৩ ১৪:০২:৪১
লিফট শিল্পকে বদলে দেবে ফিনল্যান্ড-জার্মানির ‘মেগা চুক্তি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন বলতে সাধারণত গাড়ি, ট্রেন বা প্লেনকে বোঝানো হলেও আধুনিক নগরসভ্যতার ‘লাইফলাইন’ হিসেবে অনেকটা আড়ালেই থেকে যায় লিফট। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পে ঘটে গেছে এক বিশাল পরিবর্তন। বিশ্বের লিফট বাজারের দুই শীর্ষ জায়ান্ট ফিনল্যান্ডের ‘কোনে’ এবং জার্মানির ‘টিকেই’ একীভূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল ঘোষিত এই মেগা চুক্তির ফলে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম লিফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

এই চুক্তির আওতায় কোনে নগদ ৫০০ কোটি ইউরো পরিশোধ করবে এবং নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৫২০ কোটি ইউরো মূল্যের শেয়ার দেবে। এই শেয়ার পাবে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাডভেন্ট অ্যান্ড সিনভেনকে, যারা পাঁচ বছর আগে টিকেই অধিগ্রহণ করেছিল। একীভূত হওয়ার ফলে কোনের বার্ষিক সাশ্রয় হবে প্রায় ৭০ কোটি ইউরো।

একচেটিয়া আধিপত্যের পথে
বিনিয়োগ ব্যাংক জেফারিসের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত এই নতুন প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববাজারে হিস্যা হবে প্রায় ২৮ শতাংশ। এটি বর্তমানে শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওটিস’ (১৮ শতাংশ) এবং সুইজারল্যান্ডের ‘শিন্ডলার’কে (১৫ শতাংশ) অনেকটা পেছনে ফেলে দেবে।

চীনের আবাসন খাতে মন্দার কারণে নতুন লিফট বিক্রিতে কিছুটা ভাটা পড়লেও, এই শিল্পের মূল মুনাফা আসে মূলত রক্ষণাবেক্ষণ বা সার্ভিসিং থেকে। কনসালট্যান্সি ফার্ম রোনাল্ড বার্জারের হিসাবমতে, ২০২৫ সালে লিফট খাতে মোট ১১ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছিল নতুন লিফটের পেছনে। বাকি বড় অংশই খরচ হয়েছে সার্ভিসিং (৬ হাজার ১০০ কোটি) এবং আধুনিকায়নের (১ হজোর ৬০০ কোটি) জন্য।

পুরোনো লিফটেই বড় ব্যবসা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১৫ বছরের বেশি পুরোনো লিফটের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখে। প্রতি বছর অন্তত তিন লাখ লিফটের বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হবে। কোনে এবং টিকেইর এই একীভূতকরণ তাদের সার্ভিস নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে চীনে কোনের শক্ত অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রে টিকেইর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক মিলে এক অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হবে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে উদ্বেগ
এই মেগা চুক্তি নিয়ে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিন্ডলারের প্রধান পাওলো কম্পাগনা এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য ফলাফলকে ‘রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অ্যান্টি-ট্রাস্ট বা একচেটিয়া ব্যবসা বিরোধী নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই চুক্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওটিসও এই চুক্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে ইউরোপীয় কমিশন তাদের ‘ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন’ তৈরির নীতি অনুযায়ী এই একীভূতকরণকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে উত্থান-পতনের এই লিফট শিল্পে কোনে এখন দ্রুত ওপরে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট
(ওএস/এএস/মে ০৩, ২০২৬)


পাঠকের মতামত:

০৩ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test