E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে তাইওয়ানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

২০২৬ মে ১৬ ১২:৫৩:১০
স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে তাইওয়ানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে তাইওয়ানকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তাইওয়ানে কোনো যুদ্ধ বা স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না এবং যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চায়।

চীন সফর ও শি জিন পিংয়ের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক শেষে শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,‘আমি চাই না কেউ (তাইওয়ান) স্বাধীন হোক।

যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং আগেই জানিয়েছেন, তাইওয়ানের আলাদা করে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
কারণ, দ্বীপটি নিজেকে আগে থেকেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন আইনে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে ওয়াশিংটনকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হচ্ছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। বেইজিং একাধিকবার বলেছে, প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করেও দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি হলো-তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করে না এবং‘এক চীন নীতি’মেনে চলে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,‘যুদ্ধ করতে হলে আমাদের প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে যেতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই পরিস্থিতি শান্ত থাকুক।’

চীন সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তাইওয়ান ইস্যুতে তার সঙ্গে সি চিন পিংয়ের ‘অনেক আলোচনা’ হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য এড়িয়ে যান তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, শি জিন পিং তাইওয়ান প্রশ্নে খুবই কঠোর অবস্থানে আছেন এবং তিনি সেখানে কোনো স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে সি চিন পিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যুগুলোর একটি। গত কয়েক বছরে তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

এরই মধ্যে গত বছরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আধুনিক রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে বেইজিং।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে শিগ্‌গিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে সি চিন পিংয়ের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

(ওএস/এএস/মে ১৬,২০২৬)


পাঠকের মতামত:

১৬ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test