E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ট্রাম্প: মোজতবা খামেনি

২০২৬ জুন ১৯ ১৮:০৬:৫২
চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ট্রাম্প: মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের আগ্রহে নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মরিয়া মনোভাবের কারণেই শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক লিখিত বিবৃতিতে এই দাবি করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। 

মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আপনারা সবাই ইতিমধ্যে শুনেছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কারণেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন এবং এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সব ধরনের চাপ ও প্রভাব খাটিয়ে এটি সম্পন্ন করেছেন।’

লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা স্বীকার করেন যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই সমঝোতা স্মারক চুক্তির পক্ষে ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে এই চুক্তির ব্যাপারে আমার ভিন্নমত ছিল; তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের জনগণ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের (লেবাননভিত্তিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ) অধিকার রক্ষার যে অঙ্গীকার করেছেন, তার ভিত্তিতেই আমি এটি অনুমোদনের অনুমতি দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ‘ইসলামাবাদ এমওইউ’ চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৪টি পয়েন্টসংবলিত ৮০০ শব্দের এই খসড়া নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় আলোচনা-পর্যালোচনার পর সেটি চুক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয় ইরান।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৭ জুন) প্যারিসে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭ সামিটের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইসলামাবাদ এমওইউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কিছুক্ষণ পরই তেহরানে নিজের দপ্তরে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে দুই প্রেসিডেন্টের চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও প্রকাশ করেছে।

ইসলামেবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সেই চুক্তির বক্তব্য ও শর্ত নির্ধারণ, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি স্পর্শকাতর ইস্যুতে আলোচনার জন্য পরবর্তী ৬০ দিন সময় পাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। চুক্তি অনুযায়ী, এই ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচল করতে দেবে ইরান; আর তার বিপরীতে ইরানের বন্দরগুলো থেকে সব ধরনের অবরোধ তুলে নেবে মার্কিন নৌবাহিনী।

(ওএস/এসপি/জুন ১৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৯ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test