E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

২০২৬ আগস্ট ০৭ ১২:৩৭:০৮
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারে সামগ্রিকভাবে মন্দাভাব দেখা গেছে। তবে এই বৈশ্বিক নিম্নগতির মধ্যেও প্রধান প্রতিযোগী দেশ চীন ও ভারতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

যদিও ছয় মাসের হিসাবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে, আবার জুন মাসের একক হিসাবে প্রবৃদ্ধিতে ফেরায় তৈরি পোশাক খাতে আশাবাদের নতুন ইঙ্গিত মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। পরিমাণের হিসাবে (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট-এসএমই) আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।
তবে এ সময়ে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪০০ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম।

পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

তবে একই সময়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ। বিপরীতে চীনের রপ্তানি কমেছে ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ভারতের কমেছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। পাকিস্তানের রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মেক্সিকোর কমেছে ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

রপ্তানিকারক দেশগুলোর নতুন অবস্থান
জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বোচ্চ ৭৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। ৪০০ কোটি ৭৮ লাখ ডলার রপ্তানি করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

এরপর রয়েছে চীন ৩৫৭ কোটি ১০ লাখ ডলার, ইন্দোনেশিয়া ২৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, কম্বোডিয়া ২৩১ কোটি ১৭ লাখ ডলার, ভারত ২১২ কোটি ২০ লাখ ডলার, মেক্সিকো ১১৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলার এবং পাকিস্তান ১০৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

জুনে ফিরেছে প্রবৃদ্ধি
ছয় মাসের সামগ্রিক চিত্র নেতিবাচক হলেও জুন মাসে বাংলাদেশের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। ২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, এ মুহূর্তে শুধু একটি মাসের তথ্যের ভিত্তিতে বড় কোনো মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে একক মাস হিসেবে এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের আমদানি ভালো হয়েছে। এখন দেখতে হবে, সামনের মাসগুলোতেও এই প্রবণতা বজায় থাকে কি না। তখনই এটিকে টেকসই ইতিবাচক ধারা বলা যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে নিঃসন্দেহে আগের কয়েক মাসের তুলনায় এবার পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে। এটি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক এবং ইতিবাচক একটি বিষয়। এখন এই ধারা যদি কোনো কারণে থেমে যায়, তাহলে তা হতাশাজনক হবে। আর যদি এটি অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য খুবই ভালো হবে। আমরা সেটিই আশা করছি।

প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান
ওটেক্সার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিমাণের (ভলিউম) বিচারে কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভলিউম কমেছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে চীনের ক্ষেত্রে এই পতন ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ভারতের ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।

রপ্তানি মূল্যের দিক থেকেও কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। বিপরীতে চীন ও ভারতের বড় ধরনের পতনের তুলনায় বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হ্রাস অপেক্ষাকৃত সীমিত।

তবে একক দামের (ইউনিট প্রাইস) ক্ষেত্রে প্রায় সব দেশকেই ছাড় দিতে হয়েছে। সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে চীনের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ভারতের ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, বাংলাদেশের ২ দশমিক ১৫ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মার্কিন বাজারে বৈশ্বিক মন্দাভাব থাকা সত্ত্বেও চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। আর জুন মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসা আগামী মাসগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য তা ইতিবাচক বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

(ওএস/এএস/আগস্ট ০৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৭ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test