প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে অস্ত্রটি কী ধরনের, এর সক্ষমতা কী এবং কখন এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে মহাকাশ কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন ছিল।
তার কথায়, মহাকাশে পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
মহাকাশে বাড়ছে সামরিক প্রতিযোগিতা
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আগেও জানিয়েছেন।
তাদের বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কর্মসূচির কথা উঠে এসেছে। এই দুই দেশ ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা ও সেগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা তৈরি করছে বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্যাটেলাইট এখন সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মহাকাশে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করার সক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশের ভূমিকা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।
এই ব্যবস্থার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকৃতি সেই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি মেইঙ্ক।
তবে তার বক্তব্যে মহাকাশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
মহাকাশে অস্ত্র নিয়ে ১৯৬৭ সালের চুক্তি
১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই চুক্তিতে অন্য ধরনের মহাকাশ অস্ত্রের বিষয়ে একই ধরনের বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা নেই।
এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ প্রধান শক্তিগুলো মহাকাশে বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট শনাক্ত করা, যোগাযোগে বাধা দেওয়া এবং সেগুলো অকার্যকর করার প্রযুক্তিও রয়েছে।
ফলে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।
আক্রমণাত্মক ভূমিকায় মার্কিন স্পেস ফোর্স
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে নতুন শাখা। ২০১৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত শত শত মার্কিন স্যাটেলাইটসহ মহাকাশে থাকা দেশটির সম্পদ সুরক্ষা করা।
তবে গত বছর ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে স্পেস ফোর্সের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের আওতায় প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটানো, তা দুর্বল করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার মতো কার্যক্রমও থাকতে পারে।
এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রাশিয়া ও চীনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ
মহাকাশে রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন নয়।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানা যায়, দুটি রুশ স্যাটেলাইট সম্ভবত ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে।
এসব হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দারা স্যাটেলাইটে আদান-প্রদান করা সংবেদনশীল তথ্য পড়তে পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমনকি তাত্ত্বিকভাবে এসব স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।
রাশিয়া তখন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
চীনের মহাকাশ সক্ষমতাও বাড়ছে
মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা তৈরি ও পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্য একটি নির্ণায়ক বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬)
পাঠকের মতামত:
- শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি
- ২২ দিন ইলিশ ধরা মানা, কেনাবেচাতেও নিষেধাজ্ঞা
- শ্যামনগরে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ কর্মী নিহত
- ‘বর্বরতা বন্ধ হতে হবে’
- প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
- ‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’
- ‘ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ-বিরাগ নেই’
- রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- নগরকান্দায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পদত্যাগ
- ‘মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে প্রতিশোধের সম্পর্ক নেই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই’
- মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
- ‘বিমা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি গভীরে, কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
- ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, নিহত ৬
- মুক্তিবাহিনী শালদা নদীর পাকসেনা ঘাঁটির ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়
- ১ হাজার ২শ’ মিটার চায়না ম্যাজিক জাল ধ্বংস
- মহম্মদপুরে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী ও ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন
- ‘বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নিজের ঘর থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে’
- নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি: দুই হোটেলকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা
- সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে অসহায় বৃদ্ধা রউফুন্নেছার জদি দখল, ভাঙচুর ও লুটপাট
- দিনাজপুরে বিএডিসি'র সার নিয়ে তুঘলকি কারবার
- বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য ‘কথা বলা শুক্রবারে ফ্রি’
- চাটমোহরে দিনমজুরের মৃত্যুর ঘটনায় অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ
- বাগেরহাটে নিখোঁজের তিনদিন পর খালে মিললো শিশুর লাশ, আটক ৫
- সাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
- বিটপি গ্রুপের কর্মীদের উন্নত এমপ্লয়ি ব্যাংকিং সুবিধা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক
- বাউফলে মেয়েকে কেন্দ্রে নেওয়ার পথে প্রধান শিক্ষক বাবার মৃত্যু
- তারাকান্দায় নির্যাতিত ও অসহায় পরিবারের পাশে ওসি ওয়াজেদ
- কলাপাড়ায় অস্ত্রসহ ৬ ডাকাত আটক
- ৩৯টি শহীদ পরিবারের মেলেনি ‘রাষ্ট্রীয়’ স্বীকৃতি, নির্মিত হয়নি স্মৃতিসৌধ
- ভোট বর্জন সার্থক: রিজভী
- বগুড়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের দাবি
- সরকারি জমি আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা
- লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ-হত্যার ঘটনায় ৪ মামলা, এ্যানীসহ আসামি সাড়ে তিন হাজার
- কলাপাড়ায় কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ
- বৃত্তির দাবিতে কেন্দুয়ায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বিক্ষোভ
- নগরকান্দায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পদত্যাগ
- ‘বিএনপি নির্বাচিত হলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাবে’
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- ভৈরবে ধর্ষণের অভিযোগে স্বামী ও পর্নোগ্রাফি মামলায় স্ত্রী গ্রেপ্তার
- লক্ষ্মীপুরে বোমা ফাটিয়ে স্বর্ণের দোকান লুট, ডাকাতের গাড়ি চাপায় পথচারী নিহত
- গাইবান্ধায় চোর সন্দেহে গণপিটুনি, ৩ জনের মৃত্যু
- নীলফামারী- ২ আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন
- কলাপাড়ায় ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে থানা ঘেরাও, ঝাড়ু মিছিল
- কুমিল্লায় নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে আলাউদ্দিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- ‘ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ-বিরাগ নেই’
-1.gif)








