E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৪:৫৪:৫৯
প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে অস্ত্রটি কী ধরনের, এর সক্ষমতা কী এবং কখন এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে মহাকাশ কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন ছিল।

তার কথায়, মহাকাশে পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।

মহাকাশে বাড়ছে সামরিক প্রতিযোগিতা
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আগেও জানিয়েছেন।

তাদের বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কর্মসূচির কথা উঠে এসেছে। এই দুই দেশ ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা ও সেগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা তৈরি করছে বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্যাটেলাইট এখন সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মহাকাশে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করার সক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশের ভূমিকা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।

এই ব্যবস্থার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকৃতি সেই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি মেইঙ্ক।

তবে তার বক্তব্যে মহাকাশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

মহাকাশে অস্ত্র নিয়ে ১৯৬৭ সালের চুক্তি
১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই চুক্তিতে অন্য ধরনের মহাকাশ অস্ত্রের বিষয়ে একই ধরনের বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা নেই।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ প্রধান শক্তিগুলো মহাকাশে বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট শনাক্ত করা, যোগাযোগে বাধা দেওয়া এবং সেগুলো অকার্যকর করার প্রযুক্তিও রয়েছে।

ফলে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

আক্রমণাত্মক ভূমিকায় মার্কিন স্পেস ফোর্স
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে নতুন শাখা। ২০১৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত শত শত মার্কিন স্যাটেলাইটসহ মহাকাশে থাকা দেশটির সম্পদ সুরক্ষা করা।

তবে গত বছর ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে স্পেস ফোর্সের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের আওতায় প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটানো, তা দুর্বল করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার মতো কার্যক্রমও থাকতে পারে।

এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

রাশিয়া ও চীনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ
মহাকাশে রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন নয়।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানা যায়, দুটি রুশ স্যাটেলাইট সম্ভবত ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে।

এসব হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দারা স্যাটেলাইটে আদান-প্রদান করা সংবেদনশীল তথ্য পড়তে পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এমনকি তাত্ত্বিকভাবে এসব স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।

রাশিয়া তখন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

চীনের মহাকাশ সক্ষমতাও বাড়ছে
মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা তৈরি ও পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্য একটি নির্ণায়ক বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬)







পাঠকের মতামত:

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test