E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘আমার বুদ্ধি সবচেয়ে বেশি’

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ০০:৫০:০৪
‘আমার বুদ্ধি সবচেয়ে বেশি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিজের ‘সর্বোচ্চ আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য তিনি তার প্রয়াত চাচা জন ট্রাম্পের জিনগত প্রভাবের কথাও তুলে ধরেছেন। জন ট্রাম্প ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটির খ্যাতিমান পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী ছিলেন এবং সেখানে ৪১ বছর শিক্ষকতা করেছেন।

সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব দাবি করেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে তার বিরোধ, ওয়াশিংটন ডিসিতে তার পরিবর্তন আনার উদ্যোগ, ইরান যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে তার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ট্রাম্প হঠাৎ তার চাচার প্রসঙ্গ তোলেন।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কি আমার চাচাকে নিয়ে খবরটি দেখেছেন? এরপর বলেন, আমার আইকিউ সর্বোচ্চ। আমি ঠিক আছি ও আমি প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো বুঝি। আপনারা জানেন, আমার চাচা এমআইটিতে ৪১ বছর ছিলেন। আর আমি, সত্যি বলতে, জিনতত্ত্বে বিশ্বাস করি ও বিষয়টি বুঝি।

এরপর ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন অন্য যে কোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় এসব বিষয় তিনি অনেক বেশি বোঝেন ও নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোতে তার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে।

কে ছিলেন ট্রাম্পের চাচা জন ট্রাম্প?
ট্রাম্পের প্রয়াত চাচা ড. জন জর্জ ট্রাম্প এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি উচ্চভোল্টেজ প্রযুক্তি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাডার প্রযুক্তি এবং ক্যানসার চিকিৎসা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাকে ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স- এ ভূষিত করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি মারা যান।

জন ট্রাম্পকে নিয়ে এর আগেও বহুবার কথা বলেছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি চাচার ‘ভালো জিন’-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন।

২০২৪ সালের শুরুর দিকেও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমআইটিতে তার চাচার একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ছবিতে জন ট্রাম্পকে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে দেখা যায়। ছবিটি পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছিলেন, এমআইটি ওউক (woke) প্রতিষ্ঠান হওয়ার অনেক আগে আমার চাচা সেখানে ছিলেন।

ট্রাম্প এর আগেও নিজের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে চাচার বংশগত বৈশিষ্ট্যের যোগসূত্রের কথা বলেছেন। ২০১৬ সালের প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, এটা আমার রক্তে আছে। আমি বুদ্ধিমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠাট্টা
এবার ট্রাম্পের ‘চাচার কাছ থেকে আইকিউ পাওয়া’ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ঠাট্টার জন্ম দিয়েছে। ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, জিনগতভাবে চাচার বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ভাতিজার মধ্যে চলে আসার এমন দাবি কতটা যৌক্তিক।

একজন এক্স ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ট্রাম্প জেনেটিকস কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন না। তার যুক্তি ছিল, চাচা যদি ট্রাম্পের বাবা না হয়ে থাকেন, তাহলে তার বুদ্ধিমত্তার জিন সরাসরি চাচার কাছ থেকে আসার কথা নয়; বরং বাবা-মা ও দাদা-দাদির মাধ্যমে জিনগত বৈশিষ্ট্য আসে।

আরেকজন লেখেন, কারও চাচা অত্যন্ত বুদ্ধিমান হলেই সেই ব্যক্তিও তার মতো বুদ্ধিমান হয়ে যান- এমনটা কেউ বিশ্বাস করে না।

অন্য একজনের মন্তব্য, আপনার চাচা বুদ্ধিমান হলেই আপনিও বুদ্ধিমান- এমন নয়।

তবে ট্রাম্পের চাচার মেধা নিয়ে বিতর্ক নেই। জন ট্রাম্প সত্যিই এমআইটির দীর্ঘদিনের অধ্যাপক ছিলেন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাডার প্রযুক্তির উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় কাজ করেন এবং ক্যানসার চিকিৎসা ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণাতেও অবদান রাখেন।

চাচাকে নিয়ে আগেও বিতর্কিত দাবি ট্রাম্পের
গত বছরও জন ট্রাম্পকে নিয়ে একটি বিতর্কিত দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, তার চাচা কুখ্যাত মার্কিন বোমা হামলাকারী টেড ক্যাসিনস্কি, যিনি ‘আনাবোম্বার’ নামে পরিচিত, তাকে পড়িয়েছিলেন।

তবে ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্যাসিনস্কি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি করেন। জন ট্রাম্প এমআইটিতে শিক্ষকতা করলেও ক্যাসিনস্কি সেখানে পড়াশোনা করেননি। এমআইটিও জানিয়েছিল, ক্যাসিনস্কি কখনো প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ছিলেন না।

এমনকি ক্যাসিনস্কির শিক্ষাজীবন ও পরবর্তী জীবনের বিভিন্ন নথি ও সাক্ষাৎকারেও জন ট্রাম্পের সঙ্গে তার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

তখন ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট তার পরিবার নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের কাছে তার চাচার এমআইটির লেটারহেডে লেখা একটি চিঠি রয়েছে, যা ওভাল অফিসের ডাইনিং রুমে রাখা আছে।

তথ্যসূত্র : ইনডিপেন্ডেন্ট (ইউকে)
(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৩ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test