E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব: সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগেই ট্রাম্পের সমালোচনা

২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৩২:০৪
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব: সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগেই ট্রাম্পের সমালোচনা

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : সুপ্রিম কোর্টে আসন্ন শুনানির আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব 'চীনসহ বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বানানোর বিষয় নয়, বরং এটি 'দাসদের সন্তানদের জন্য প্রণীত' ছিল।

তিনি আরও বলেন,'আমরাই বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে এই বিষয়টি নিয়ে এমন আলোচনা হয়। এই আইনটি প্রণীত হয়েছিল গৃহযুদ্ধের একেবারে শেষে।'

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন বছর পর অনুমোদিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং দেশের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন সবাই যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।

এই সংশোধনীটি ১৮৫৮ সালের ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড মামলার পর প্রণীত হয়, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে দাসপ্রথার শিকার ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেও নাগরিক নন।

ট্রাম্প ও বিচার বিভাগ এই সংশোধনীর নাগরিকত্ব নিশ্চয়তার ব্যাখ্যা চ্যালেঞ্জ করছেন। তাদের দাবি, কেবল নাগরিক বা স্থায়ী বৈধ বাসিন্দাদের সন্তানরাই 'যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন' অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী বা অস্থায়ী দর্শনার্থীদের সন্তানরা নয়।

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেন, যা দ্রুতই বিভিন্ন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

বুধবার এ বিষয়ে শুনানি করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ইতোমধ্যে কিছু রক্ষণশীল বিচারপতি ও তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের বিরোধিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিচারপতি সোনিয়া সোতোমায়োর গত বছর মন্তব্য করেছিলেন, সংবিধানের ভাষা, ইতিহাস, পূর্ববর্তী রায় ও ফেডারেল আইন বিবেচনায় এই উদ্যোগ 'বাস্তবায়ন করা অসম্ভব'।
অন্যদিকে ২০২২ সালে ক্ল্যারেন্স থমাস একটি পৃথক মামলায় বলেন, সকল নাগরিক আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী—যা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ে তার অবস্থানও ইঙ্গিত করে।

১৯৯৫ সালে বিচার বিভাগ মত দেয় যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। তবে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই এটি পরিবর্তন করা সম্ভব।

সোমবারের পোস্টে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনাও করেন, বিশেষ করে গত মাসে তার আরোপিত শুল্ক বাতিলের রায় প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, 'বিশ্ব আমাদের দেশে নাগরিকত্ব বিক্রি করে ধনী হচ্ছে, আর আমাদের আদালত ব্যবস্থা কতটা ‘বোকা’ হয়ে গেছে তা দেখে হাসছে।

(আইএ/এসপি/মার্চ ৩১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩১ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test