আবারও আদালতের ধাক্কায় ট্রাম্পের শুল্কনীতি, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি আবারও আদালতের বাধার মুখে পড়েছে। সর্বশেষ এক ফেডারেল আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তার বাণিজ্য নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত-এর তিন বিচারকের ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক 'আইন দ্বারা অনুমোদিত নয়'। এই শুল্ক প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছিল এবং এটি সেই আগের বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থার বিকল্প ছিল, যেটি ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল।
প্রথম মেয়াদে সীমিত ও নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করলেও দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও বিস্তৃত শুল্কনীতি গ্রহণ করেছেন। তবে আদালত বারবার বলছে, তিনি বাণিজ্য আইনকে আইনি সীমার বাইরে প্রসারিত করছেন।
আদালতের এসব রায়ে ট্রাম্প স্পষ্টতই বিরক্ত হলেও তিনি পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
বৃহস্পতিবার তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি ৪ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণ না করে, তবে তাদের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে। গত সপ্তাহে তিনি ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ি ও ট্রাকের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়েছেন।
এ পরিস্থিতি এমন সময় তৈরি হয়েছে, যখন ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থন না পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই রায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
ক্যাটো ইনস্টিটিউট-এর অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট লিনসিকোম বলেন, গত এক বছরে যেসব দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে ছিল, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে নতুন কৌশলগত সুবিধা।
তিনি বলেন, দেশগুলো হয়তো ট্রাম্পের সঙ্গে করা চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করবে না, তবে তারা এখন আরও কঠোর অবস্থানে দরকষাকষি করতে পারবে।
প্যাসিফিক গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ওয়েন ওয়াইনগার্ডেন ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিকে জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র 'চার্লি ব্রাউন' ও 'লুসি'-র ফুটবল দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেন।
তার ভাষায়, একসময় আপনি আর বল কিক করতে যান না, কারণ জানেন লুসি আবার বল সরিয়ে নেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার কিছু অংশীদার এখন ঠিক সেই অনুভূতিই করছে।
তবে হোয়াইট হাউস আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই বলেন, কংগ্রেস যে ক্ষমতা দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈধভাবেই তা ব্যবহার করেছেন। প্রশাসন এখন আইনি বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
ট্রাম্প নিজেও আদালতের রায়ে বিস্মিত নন বলে জানান। তিনি উগ্র বামপন্থী বিচারকদের” সমালোচনা করে বলেন, “আদালত নিয়ে আমাকে কিছুই আর অবাক করে না। আমরা একভাবে বাধা পেলে অন্যভাবে এগোব।
তিনি পুনরায় দাবি করেন, শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র 'শত শত বিলিয়ন ডলার' আয় করছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রশাসন তাদের আপিলে জয়ী হবে বলে আশাবাদী। তার দাবি, আদালত এমন একটি আইনকে অকার্যকর বলছে, যা কংগ্রেস কার্যকর করার জন্যই পাস করেছিল।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন অন্য আইনি পথ ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করবে।
ব্রুকিংস ইন টিটিউশন-এর বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ কারি হেরম্যান বলেন, প্রশাসনের হাতে এখনও আরও কয়েকটি শুল্ক আরোপের আইনি উপায় রয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই শুল্কনীতিকে কার্যকর মনে করেন, তাহলে তার উচিত কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন পাস করিয়ে সেটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া।
(আইএ/এসপি/মে ১১, ২০২৬)
পাঠকের মতামত:
- ‘বাংলাদেশ একদিন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে’
- ‘ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের’
- ‘কাউকে কোন ছাড় নয়’
- ‘গুমের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না’
- এয়ার মার্শাল আসগর খান করাচী থেকে ঢাকায় আসেন
- গোপালগঞ্জে বন্ধুর বাড়ি রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারের উদ্বোধন
- চাটমোহরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮
- গোপালগঞ্জে মাদক বিরোধী র্যালী ও আলোচনা সভা
- কুড়িগ্রাম সীমান্তের ঘেরাটোপে আটকে আছে তিন যুবকের ভাগ্য
- মাদক প্রতিরোধে দুই পুরস্কার পেল ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন
- তিস্তার তীব্র ভাঙনে ৩০ বাড়ি বিলীন, দিশেহারা তীরবর্তী মানুষ
- শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: যুদ্ধাপরাধী বিচারের অগ্রদূত ও অকুতোভয় চেতনার বাতিঘর
- ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত
- ধূমকেতু এক্সপ্রেসে ১০ লাখ টাকার হেরোইনসহ দম্পতি গ্রেফতার
- অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
- চরজব্বর ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান
- তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে ১১ দলের ৩৬ দিনের কর্মসূচি
- বিশ্বজয় করতে ফিরছে নতুন ‘বাহুবলী’
- জিম্বাবুয়ে সফরের ওয়ানডে দল ঘোষণা
- ‘বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বড় ব্যবধান রয়েছে’
- ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে কানাডা
- সোনার দাম বিশ্ববাজারে আরও কমলো
- পবিত্র আশুরা আজ
- সিদ্ধ ডিম পুনরায় গরম করার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব গাথা
- উত্তম ও অধম
- ‘বুড়িগঙ্গার পানি যেন খাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করবো’
- শাহজাদপুরে মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি গ্রেফতার
- বিজয়ের চারদিন পর চাটমোহর হানাদার মুক্ত হয়
- ঝালকাঠি ও নলছিটি মুক্ত দিবস বিজয়োল্লাসের এক অবিস্মরণীয় দিন
- মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা
- কুয়াকাটায় ১৩ জেলে আটক, জাল ও ট্রলার জব্দ
- মরা নদের গল্প
- এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ কথা
- ‘ফ্যাসিস্টদের উদ্দেশ্য ছিল জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা’
- লাওসকে উড়িয়ে দারুণ শুরু বাংলাদেশের
- গ্রামবাংলার স্বাদ ও স্মৃতি মিশে থাকা বুনো আমড়া, নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ ঐতিহ্য
- আলুর উদ্বৃত্ত সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ডিসেম্বরে
- আবদুল হামিদ মাহবুব’র একগুচ্ছ লিমেরিক
- গাজায় ‘শক্তিশালী’ হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- সোনার দাম বেড়ে ভরি ২১৭৩৮২ টাকা
- ‘এনসিপিকে শাপলা দেওয়ার সুযোগ নেই’
- ২৩ এপ্রিল তালার পারকুমিরা গণহত্যা দিবস
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
-1.gif)







