E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দুই বিচারপতির ভিন্নমত

গর্ভপাতের ওষুধ ডাকযোগে সরবরাহ আপাতত চালু থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে

২০২৬ মে ১৫ ১৮:০২:১৬
গর্ভপাতের ওষুধ ডাকযোগে সরবরাহ আপাতত চালু থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, গর্ভপাতের ওষুধ ডাকযোগে সরবরাহ আপাতত চালু থাকবে। আদালত নিম্ন আদালতের একটি রায় স্থগিত করেছে, যা কার্যকর হলে মিফেপ্রিস্টোন (mifepristone) নামের গর্ভপাতের ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ হতো।

সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তের ফলে মামলাটি চলাকালীন সময়ে ডাকযোগে গর্ভপাতের ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। তবে রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস পৃথকভাবে ভিন্নমত পোষণ করেন।

এর আগে ১ মে নিউ অরলিন্সভিত্তিক রক্ষণশীল ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায় দিয়েছিল, নারীদের মিফেপ্রিস্টোন পেতে হলে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছে যেতে হবে। ওই রায় কার্যকর হলে সারা দেশে গর্ভপাতের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে পড়ত।

বিচারপতি আলিটো তার ভিন্নমতে লিখেছেন, “এই মামলায় আদালতের কারণ ব্যাখ্যাহীন স্থগিতাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক গর্ভপাত অধিকার বাতিল সংক্রান্ত আমাদের সিদ্ধান্তকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঝুঁকি রয়েছে।”

অন্যদিকে বিচারপতি থমাস ১৮৭৩ সালের কমস্টক আইন-এর উল্লেখ করে বলেন, ফেডারেল আইন অনুযায়ী ডাকযোগে মিফেপ্রিস্টোন পাঠানো ইতোমধ্যেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

থমাস লিখেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে লাভ হারানোর অজুহাতে আদালতের আদেশ স্থগিত রাখার অধিকার আবেদনকারীদের নেই। এমন কোনো আদেশ, যা অপরাধ সংঘটনকে কঠিন করে তোলে, তা থেকে তারা আইনি অর্থে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন না।

এই মামলাটি এখন আবার ফিফথ সার্কিট কোর্টে ফিরে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে আসতে পারে।

মিফেপ্রিস্টোন উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠান ড্যাঙ্কো ও জেনবায়োপ্রো সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল। তাদের দাবি, ফিফথ সার্কিটের সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন এবং এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।

জেনবায়োপ্রোর প্রধান নির্বাহী ইভান মাসিংগিল বলেন, “আজকের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত আমেরিকানদের মিফেপ্রিস্টোনে প্রবেশাধিকার অপরিবর্তিত থাকছে। আমরা প্রয়োজনীয় ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এই ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখবো।”

মামলাটির সূত্রপাত হয় যখন লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। লুইজিয়ানার আপত্তি ছিল ২০২৩ সালের সেই নিয়মের বিরুদ্ধে, যা টেলিহেলথ, ফার্মেসি এবং ডাকযোগে মিফেপ্রিস্টোন সরবরাহের অনুমতি দেয়।

রাজ্যটির দাবি, এফডিএ-এর শিথিল নীতিমালা তাদের প্রায় সম্পূর্ণ গর্ভপাত নিষিদ্ধ আইনের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করছে এবং এটি রাজ্যের সার্বভৌম ক্ষমতার লঙ্ঘন। এছাড়া এফডিএ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা তথ্য ছাড়াই সরাসরি ওষুধ বিতরণের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করে লুইজিয়ানা।

লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল এক বিবৃতিতে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট চিকিৎসা নৈতিকতা ও তদারকির সাধারণ বোধসম্পন্ন এই ব্যবস্থাকে আটকে দিয়েছে, যা বিস্ময়কর।

মিফেপ্রিস্টোন নিয়ে এই আইনি লড়াইকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় গর্ভপাতবিষয়ক বিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় চার বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রো বনাম ওয়েড রায় বাতিল করে সাংবিধানিক গর্ভপাত অধিকার প্রত্যাহার করেছিল।

বর্তমানে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভধারণ সমাপ্তির সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি। ডাকযোগে ওষুধ সরবরাহ এবং ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর শিল্ড আইন অনেক নারীর জন্য গর্ভপাতের সুযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যদিও রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতে গর্ভপাত কঠোরভাবে সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে এফডিএ জানিয়েছে, তারা এখনও মিফেপ্রিস্টোনের নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করছে। তবে সেই পর্যালোচনা কবে শেষ হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

(আইএ/এসপি/মে ১৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৫ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test