E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা, প্লে-নার্সারি-কেজি ও বাড়তি বই নিষিদ্ধে নোটিশ

২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৫:০৭:১৪
প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা, প্লে-নার্সারি-কেজি ও বাড়তি বই নিষিদ্ধে নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার : শিশুদের প্রাক-প্রাথমিকের একাধিক স্তরের পাঠ্যক্রম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই নিষিদ্ধের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। তাদের কাছে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০-এর উল্লেখ করে বলা হয়, দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বেড়েছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়।

এতে বলা হয়, শিশুদের তিন থেকে পাঁচ বছর বয়স থেকেই প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২ এর মতো একাধিক অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি করিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শৈশব বাণিজ্যিক স্বার্থের ফাঁদে পড়ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

নোটিশে এসব অননুমোদিত কোর্স নিষিদ্ধ করে শুধু সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রাখার দাবি জানানো হয়েছে।নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিশুদের পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করা হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা, বাছাই পরীক্ষা (স্ক্রিনিং টেস্ট) ও মৌখিক পরীক্ষার মতো প্রক্রিয়া শিশুদের মধ্যে ভীতি, মানসিক আঘাত ও আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি করতে পারে, যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় হওয়া উচিত উল্লেখ করে নোটিশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ ও নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ করে এনসিটিবির মূল পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, বেসরকারি অনুশীলন বই (ওয়ার্কবুক) ও সহায়ক বই শিশুদের পড়তে বাধ্য করছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়। এতে শিশুদের ওপর পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।নোটিশে আরও বলা হয়, দেশের শিশুদের শৈশব থেকেই অতিরিক্ত পাঠ্যক্রম, ভর্তি পরীক্ষা ও অনুমোদনহীন বইয়ের চাপে রাখা হলে তাদের মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী ও গবেষক তৈরির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে উল্লেখ করেন, শিশুদের ওপর এ ধরনের চাপ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার এবং ১৭ ও ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শিক্ষা ও সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নোটিশে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২সহ অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা, এনসিটিবির পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠনের কার্যকর নির্দেশ জারির দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশুদের সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৯ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test