E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ফার্মাসিস্টস ফোরামের ৬ দাবি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:১১:০৪
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ফার্মাসিস্টস ফোরামের ৬ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়।

সভায় অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্তি, পেশাগত মান উন্নয়ন, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে অবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তিসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আনোয়ার মাজিদ তারেক, প্রচার সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।

বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের ৬ দাবি
১। সকল সরকারি হাসপাতালে ‘হসপিটাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি’ সেবা চালু করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ। উন্নত বিশ্বের আদলে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মতে বাংলাদেশের সকল সরকারি হাসপাতালে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চাল করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।

২।বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি করতে হবে।

৩। স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন। একটি স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন করতে হবে, যা হসপিটাল ফার্মেসি এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

৪। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফার্ম ডি প্রোগ্রাম চালু ও বি ফার্ম থেকে পর্যায়ক্রমে রূপান্তর। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি প্রোগ্রামকে বি ফার্ম থেকে ফার্ম ডি-তে রূপান্তর করতে হবে।

৫। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ফার্মাসিস্ট’ ও ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ পদবির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এবং উন্নত বিশ্বের ন্যায় ফার্মাসিস্ট বলতে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টকেই বোঝায়, তাই ফার্মেসিতে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগের সকল সার্কুলারে ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ শব্দটি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৬। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (ডিজিডিএ) ড্রাগ সুপার পদে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তিদের অবৈধ ফার্মেসি প্র্যাক্টিস বন্ধ করতে হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের নেতৃবৃন্দ তাদের দাবিগুলো তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী দাবি আদায়ে জনসচেতনতা এবং জনমত তৈরির ব্যাপারে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য অন্তত একজন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন এবং উন্নত বিশ্বে প্রতি ২০ শয্যার বিপরীতে একজন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কোনো পদ নেই, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫০০০ রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট এবং শিক্ষারতসহ প্রায় ৩৫০০০ ফার্মাসিস্ট রয়েছে। এই দক্ষ ফার্মাসিস্টরা দেশে-বিদেশে ওষুধ শিল্প, গবেষণা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় তাদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া (ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন) ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালভিত্তিক ফার্মাসিস্ট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬)















পাঠকের মতামত:

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test