E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় সংকট, দুর্ভোগে নিম্নআয়ের মানুষ

নগরকান্দার কমিউনিটি ক্লিনিকে মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ

২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:২৩:৩৪
নগরকান্দার কমিউনিটি ক্লিনিকে মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ

প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, নগরকান্দা : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে টানা ছয় থেকে সাত মাস ধরে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষ। জ্বর, সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এসে প্রেসক্রিপশন পেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন অধিকাংশ রোগী।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিকভাবে চললেও অধিকাংশ জরুরি ওষুধের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। এতে সরকারের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

পুরাপুড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজীব হোসেন জানান, অসুস্থ সন্তানের জ্বর ও সর্দি-কাশির ওষুধ নিতে ক্লিনিকে এসেছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ পেলেও ওষুধ পাননি। একই গ্রামের রহিমা খাতুন ও রাবেয়া আক্তার বলেন, কয়েক দিন ধরে ক্লিনিকে গেলেও কোনো ওষুধ মেলেনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

উপজেলার ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও একজন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের।

কোদালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার চাঁদনী চৌধুরী বলেন, “আগে বছরে ১২ কার্টন ওষুধ পেলেও গত বছর পেয়েছি মাত্র ৯ কার্টন। দাদ, অ্যালার্জির মলম, জ্বর, কাশি ও ঠান্ডার ওষুধের সংকট সবচেয়ে বেশি। নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারছি না।”

পুরাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোসাম্মৎ রাবেয়া আক্তার বলেন, “ওষুধের সংকটের কারণে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমে গেছে। গত জানুয়ারিতে সর্বশেষ ওষুধ পেয়েছি। এরপর আর কোনো চালান আসেনি।”

প্রসূতি সেবা, টিকাদান ও সাধারণ রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু থাকলেও ওষুধের অভাবে এসব সেবার কার্যকারিতা কমে গেছে। ফলে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আজাদ বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী চার মাসের ওষুধ একসঙ্গে সরবরাহ করা হয়। ওষুধ এলেই স্থানীয়রা দ্রুত সংগ্রহ করেন, ফলে অল্প সময়েই মজুদ শেষ হয়ে যায়। আশা করছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই নতুন ওষুধের সরবরাহ পাওয়া যাবে।”

সরকারের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভিত্তি কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এই সেবার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত ওষুধ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

(পিবি/এসপি/জুলাই ১১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১১ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test