E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন ৭৪ লাখের বেশি মানুষ’

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৩:৩০:৩৭
‘দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন ৭৪ লাখের বেশি মানুষ’

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে প্রায় ৭৪ লাখের বেশি মানুষ গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন। এর বড় একটি অংশের প্রধান কারণ ছানি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি নিরাময় করা সম্ভব হলেও তৃণমূল পর্যায়ে চক্ষু সেবার সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির বেশি মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের দৃষ্টিজনিত সমস্যা যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশের চক্ষুস্বাস্থ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের বড় অংশ ছানিতে ভুগছেন। ছানি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যে প্রতিসরণজনিত ত্রুটি এবং বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো চোখের সমস্যাও বাড়ছে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, চোখের চিকিৎসা এখনো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। তাই প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভিশন সেন্টার চালুর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্ষু সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ছানিজনিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা পুরোপুরি দূর করার লক্ষ্য নেওয়ার কথাও বলা হয়। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার ও চশমা বিতরণের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

শিশুদের চোখের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ভিত্তিক নিয়মিত চোখ পরীক্ষা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হয়।

কর্মক্ষেত্রে চোখের যত্ন নিশ্চিত করতে কলকারখানা, অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ডিজিটাল পর্দার অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে চোখের ওপর চাপ কমাতে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে বলা হয়।

গোলাম মোস্তফা বলেন, দৃষ্টিশক্তি হারানোর অর্থ শুধু চোখের আলো হারানো নয়; এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়ও জড়িত। তাই নিজের ও পরিবারের চোখের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের পুনর্বাসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরীসহ বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনে সদস্যরা।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৮, ২০২৬)





পাঠকের মতামত:

০৮ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test