E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

রেফ্রিজারেটরের যে যত্নগুলো নেয়া প্রয়োজন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৮:৩৩:৫৫
রেফ্রিজারেটরের যে যত্নগুলো নেয়া প্রয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার : আমাদের ঘরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রেফ্রিজারেটর। ওভেন, ওয়াশিং মেশিন কিংবা এয়ার কন্ডিশনারও বন্ধ রাখার কারণে কিছুটা বিশ্রাম পেলেও রেফ্রিজারেটরের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না। বলা চলে, রেফ্রিজারেটর আমাদের অবিরাম সেবা দেয়। পচনশীল খাবারকে সতেজ ও নিরাপদ রাখতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে রেফ্রিজারেটর; এমনকি বিদ্যুৎ চলে গেলেও কিংবা মাঝরাতেও আমরা খাবার কী আছে তা দেখতে রেফ্রিজারেটরের দরজা খুলি।

আধুনিক সময়ের রেফ্রিজারেটর তৈরিও করা হয় আবশ্যিক এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ঘরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গটির আলাদা যত্ন নেয়ার প্রয়োজন নেই। সামান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই অনেক সময় বড় পার্থক্য গড়ে দেয়; একটি ফ্রিজ পাঁচ বছর টিকবে, নাকি পনেরো বছর, তা নির্ভরও করে আমাদের যত্নের ওপর।

যেমন ধরুন পরিষ্কার করার বিষয়টি। সাধারণত ফ্রিজের ভেতরে কোন কিছু পড়ে ছড়িয়ে পড়লেই মানুষ ফ্রিজ পরিষ্কার করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফ্রিজের তাক, ড্রয়ার এবং দরজার ভেতরের আবরণে সব সময়ই কিছুটা করে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা ও খাবারের অবশিষ্টাংশ জমতে থাকে। এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরে থাকা খাবার পুরোপুরি ভালো থাকলেও, জমতে থাকা এসব অবশিষ্টাংশ থেকেই তৈরি হতে পারে দুর্গন্ধ। তাই, মাঝেমধ্যে একটু মুছে নিলেই সবকিছু সতেজ ও পরিষ্কার রাখা সম্ভব।

তাক অতিরিক্ত খাবার দিয়ে ভরে রাখাও আরেকটি সমস্যা। এর ফলে, কিছু খাবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গরম হয়ে যেতে পারে, আবার কিছু খাবার অপ্রত্যাশিতভাবে জমে যেতে পারে। এর ফলে, যে খাবার কয়েক দিন সতেজ থাকার কথা, সেটি সম্পূর্ণ সচল একটি ফ্রিজের ভেতরেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নষ্ট হতে শুরু করতে পারে।

তবে, আধুনিক ফ্রিজগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজ করে। যেমন, স্যামসাংয়ের ৭০০ লিটারের সাইড-বাই-সাইড রেফ্রিজারেটরের মডেলে রয়েছে ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসর, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রমাগত নিজের কার্যক্ষমতা সামঞ্জস্য করে। ফলে, তাপমাত্রা আরও স্থির থাকে এবং তাপমাত্রার ওঠানামা কম হয়।

স্যামসাং রেফ্রিজারেটরে রয়েছে চারপাশে সমানভাবে ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা, যা এক কোণ থেকে অন্য কোণ পর্যন্ত সমানভাবে ঠান্ডা বাতাস পৌঁছে দেয়। ফলে, কোনো তাক একটু বেশি ভরে গেলেও সেখানে থাকা কোন খাবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গরম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এতে আরও রয়েছে দুর্গন্ধ দূর করার ছাঁকনি, যা রেফ্রিজারেটরের ভেতরে দুর্গন্ধ জমতে বাধা দেয়। ফলে, মুছে পরিষ্কার না করলেও রেফ্রিজারেটরের ভেতরের পরিবেশ আরও দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।

আধুনিক প্রযুক্তির এসব সুবিধা থাকলেও আরও কিছু ছোটখাটো অভ্যাস ফ্রিজের যত্নকে সম্পূর্ণ করে। যেমন, দরজার রাবারের সিল যেন ভালোভাবে আটকে থাকে তা নিশ্চিত করা, বরফ অতিরিক্ত জমে যাওয়ার আগেই তা সরিয়ে ফেলা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঠান্ডা তাপমাত্রা নির্ধারণ না করা এবং ফ্রিজের দুই পাশ ও পেছনে কয়েক ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখা।

এসব অভ্যাস ছোট মনে হলেও একসাথে এর প্রভাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই ছোট ছোট যত্নই পার্থক্য গড়ে দেয়, আমাদের ঘরের রেফ্রিজারেটরটি এক দশক ধরে নির্বিঘ্নে চলবে, নাকি অল্প সময় ব্যবহারে এতে সমস্যা দেখা দিবে।

(পিআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test