কুমারী পূজা কী কেন করা হয় এবং কুমারী পূজার ইতিহাস কী?
পূর্ণি ঘোষাল
কুমারী পূজা হলো তন্ত্রশাস্ত্রমতে অনধিক ষোলো বছরের অরজঃস্বলা কুমারী মেয়ের পূজা। আরেকটু স্পষ্ট করে বলা যায়, হিন্দু তন্ত্রশাস্ত্রমতে ষোলো বছরের কম বয়সী এমন কন্যা, যার আদ্য ঋতুস্রাব হয়নি এবং পুরুষ সংসর্গে যোনি বিদীর্ণ হয়নি— এমন কন্যাকে দুর্গার দেবীর প্রতীকে পূজা করার নাম হলো কুমারী পূজা। বিশেষত দুর্গাপূজার অংশ হিসেবে কুমারী পূজা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া কালীপূজা, জগদ্ধাত্রীপূজা এবং অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে এবং কামাখ্যাদি শক্তিক্ষেত্রেও কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে কুমারী পূজার প্রচলন কমে গেছে।
পৌরাণিক উপাখ্যান বা কুমারী পূজার ইতিহাস ও পটভূমি
শাস্ত্রমতে কুমারী পূজার উদ্ভব হয় বানাসুর বা কোলাসুরকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য, কোলাসুর নামক অসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করে নেয়। কোলাসুর স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী দেবতাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী মানবকন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করেন কুমারী অবস্থায় কোলাসুরকে হত্যা করেন। পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।
প্রতিবছর দুর্গাদেবীর মহাষ্টমী পূজাশেষে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মতান্তরে নবমী পূজার দিনও এ পূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
কুমারী পূজায় কোন ধরনের কুমারীর পূজা করা যাবে?
পুরোহিতদর্পণ প্রভৃতি ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পূজার পদ্ধতি এবং মাহাত্ম্য বিশদভাবে বর্ণিত হযে়ছে। বর্ণনানুসারে কুমারী পূজায় কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যে-কোন কুমারীই পূজনীয় । তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত।
এক্ষেত্রে এক থেকে ষোলো বছর বয়সী যে-কোনো কুমারী মেয়ের পূজা করা যায়। অনেকের মতে দুই বছর থেকে দশ বছরের মেয়েদের পূজা করা যায়।
বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে সকল বয়সের কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়, এগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো—
১. এক বছরের কন্যাকে বলা হয় সন্ধ্যা, ২. দুই বছরের কন্যাকে বলা হয় সরস্বতী, ৩. তিন বছরের কন্যাকে বলা হয় ত্রিধামূর্তি, ৪. চার বছরের কন্যাকে বলা হয় কালীকা, ৫. পাঁচ বছরের কন্যাকে বলা হয় সুভগা, ৬. ছয় বছরের কন্যাকে বলা হয় উমা, ৭. সাত বছরের কন্যাকে বলা হয় মালিনী, ৮. আট বছরের কন্যাকে বলা হয় কুব্জিকা, ৯. নয় বছরের কন্যাকে বলা হয় কালসন্দর্ভা, ১০. দশ বছরের কন্যাকে বলা হয় অপরাজিতা, ১১. এগারো বছরের কন্যাকে বলা হয় রূদ্রাণী, ১২. বারো বছরের কন্যাকে বলা হয় ভৈরবী, ১৩. তেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় মহালক্ষ্মী, ১৪. চৌদ্দ বছরের কন্যাকে বলা হয় পীঠনায়িকা, ১৫পনেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় ক্ষেত্রজ্ঞা, ১৬.ষোলো বছরের কন্যাকে বলা হয় অন্নদা বা অম্বিকা।
কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত্ব
কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত্ব হলো— নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া সাধিত হচ্ছে, সেই ত্রিবিধ শক্তিই বীজাকারে কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজাবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়। পৌরাণিক কল্পকাহিনিতে বর্ণিত আছে, এ ভাবনায় ভাবিত হওয়ার মাধ্যমে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শী জ্ঞানে পূজা করেছিলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের মতে— সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক একটি রূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণ ৫ থেকে ৭ বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে পূজা করা হয়। চণ্ডীতে বলা হয়েছে— “যা দেবী সর্বভূতেষু; মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্য মধ্যে মায়ের রূপ”
হিন্দু ধর্মে বলা হয়- দেবকী কুমারী প্রতীকে হিন্দুদের মাতৃরূপে অবস্থিত। সর্বব্যাপী ঈশ্বরেরই মাতৃভাবে আরাধনা করার জন্য কুমারী পূজা করা হয়। আবার কুমারী পূজার মাধ্যমে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ নিজেকেই শ্রদ্ধা জানায়।
লেখক : সংবাদকর্মী।
পাঠকের মতামত:
- ‘আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চান, পরে ভোট চান’
- ই-ভ্যাট সেবা সাময়িক বন্ধ, যুক্ত হচ্ছে নতুন ফিচার
- ‘মুক্তিযুদ্ধ না থাকলে শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমান থাকে না’
- গোবিপ্রবিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ শুরু
- গোপালগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনে ককটেল নিক্ষেপ
- বাড়লো সোনার দাম ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার
- ২০২২-২৩ অর্থবছরের রপ্তানি ট্রফি বাতিল ঘোষণা
- ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত
- ‘জনগণ গণতন্ত্রের পথেই যাবে’
- ‘গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে তরুণরাই গণতন্ত্রের ভিত রচনা করবে’
- ফরিদপুরে যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ উপজেলা যুবদলনেতা গ্রেপ্তার
- ‘আমি জেলারের পায়ে ধরে মুক্তি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি দেননি’
- জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া প্রকাশ
- ‘জয় বাংলা শ্লোগানের সাথে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না’
- অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পথে বাংলাদেশ: অর্জন, বৈষম্য ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
- সাতক্ষীরায় শিশু রিয়ানকে নির্যাতনের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১
- অপরাগতা প্রকাশ করায় একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে জখম, বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট
- গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মুলা’ ঝুলিয়ে অভিনব প্রতিবাদ
- সিএসই বিভাগের প্রয়াত শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের হাতে পেনশনের চেক হস্তান্তর
- লৌহজংয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
- একই পরিবারের আটজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম, লুটপাট শেষে বাড়িঘর ভাঙচুর
- অবশেষে টাঙ্গাইলে আসছেন তারেক রহমান
- শুরু হল ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬
- কাপাসিয়ার ইকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
- মুক্তিপণের বিনিময়ে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ১৪ জেলের মুক্তি
- ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মাদরাসা শিক্ষার্থীর
- ‘শাহজালালের আগুন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নাশকতার অংশ’
- বন্যার পানিতে পাঁচ দিন ধরে বন্ধ কুমিল্লা ইপিজেড
- বিএনপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে জমে উঠেছে সমীকরণ
- ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু
- পারিবারিক ষড়যন্ত্রের শিকার ব্যবসায়ী আবুল বাশার শামীম
- 'পিতা যদি রাষ্ট্রপতির প্রটোকল মেনে বঙ্গভবনে থাকতেন, তাহলে বাঙালির এতো বড় মহাসর্বনাশ কেউ করতে পারতো না'
- ‘মুক্তিযুদ্ধ না থাকলে শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমান থাকে না’
- ধূমপায়ীরা প্রাথমিকের শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন না
- নরসিংদীতে ট্রাকচাপায় সিএনজির ৬ যাত্রী নিহত
- তজুমদ্দিন চাঁদপুর ইউনিয়ন (দক্ষিণ) বিএনপির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- ‘নোটিশ, আমিরগঞ্জ স্টেশন বন্ধ’
- গোবিপ্রবিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ শুরু
- পরিবর্তন হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার নাম
- কুমিল্লায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
- টুঙ্গিপাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাংবাদিক মেহেদী গ্রেপ্তার
- সুনামগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু
- ‘জুলাই যোদ্ধাদের স্বৈরাচারের দোসর বলাটা গুরুতর অসৌজন্যতা’
- সাভারে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ১৬ ফুটের শ্যামা প্রতিমা
- গলাচিপায় নানা প্রজাতির আম চাষে সফলতা
-1.gif)








