কাঁপছে উপকূলবাসী, আগুনের তাপে শীত নিবারণের চেষ্টা
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : কনকনে ঠাণ্ডা, সঙ্গে হিমেল বাতাস। তীব্র শীতে জবুথবু সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের মানুষ। একটু উষ্ণতার জন্য কোথাও খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেছে সাধারণ মানুষ।
রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে উপকূলীয় এলাকার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী, ভামিয়া, মুন্সিগঞ্জ জেলে পল্লী, নীলডুমুরসহ কয়েক স্থানে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যায় সুন্দরবন সংলগ্ন চুনা নদীর পাড়ে মুন্সিগঞ্জ জেলে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায় চারদিকে গোল হয়ে বসেছেন কয়েকজন। এর মাঝে দেখা যাচ্ছে আগুনের শিখা। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এই উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে এমন চিত্র।
মুন্সিগঞ্জ জেলে পল্লীর গোপাল সানা বলেন, ‘ঘরের ভেতরেও যেন ঠাণ্ডায় থাকা দায়, বাইরে তো হাড়কাঁপুনি শীত। তাই কয়েকজনকে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি।’
মুন্সিগঞ্জ জেলে পাড়ার বাঘ বিধবা সোনামণি দাসী বলেন, একটাই পাতলা ছেঁড়া কম্বল আমার সম্বল। রাতে এই পাতলা কম্বলডা পেঁচায়েই শুয়ে থাকি। শীতের আর কাপড় নেই। ঠান্ডা লাগলে কি আর করবো। সুন্ধে হলি (সন্ধ্যা হলে) খুব ঠান্ডা লাগে। এবার কেউ একটা খেতা (কাঁথা) কম্বলও দেইনি। এক কাপড়ে শীত যায় না, কেউ কাপড় দিতেও আসে না বাপ। শীতে টিকতি পারি না। কাপড় কেনার সাধ্য নেই। নদীতে কাঁকড়া ধরে খেতাম, সেটাও বন্ধ হয়ে গেল। এখন খাইতেই পাই না, আর শীতের কাপড় কিনবো কিভাবে। অনেক কষ্ট হয়।’
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভামিয়া গ্রামের মৃত বাহার আলী সরদারের ছেলে গফুর সরদার (৭২) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৬০) বসবাস করেন খলপেটুয়া নদীর চরে। দুই মেয়ে এক ছেলে তাঁদের। মেয়ে দুইটাকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে থাকেন তাঁদের পাশেই। ছেলের কথা শুনতেই কান্না জড়িত কন্ঠে গফুর সরদার বলেন, ছেলের কথা আর শুনো না বাপু। ছেলে আমার নেই।
তাদের সংসার কিভাবে চলে এবং শীতের কাপড় আছে কিনা জানতেই গফুর সরদার বলেন, মানুষের কাছে চেয়ে সংসার চলে আমাদের। গ্রামে গ্রামে হাত পেতে যা পাই, তা দিয়ে তিনবেলা খাইতেই পাই না। শীতের কাপড়ের দাম বেশি, কেনার পয়সা নেই। ছেঁড়া কাপড়ে শীত যায় না। এত শীত পড়তেছে তা একটা কম্বল দেয়নি কেউ।
সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে এখনো শীতার্তদের মাঝে পর্যাপ্ত গরম কাপড় বা কম্বল বিতরণ করা হয়নি জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, শীত নিবারণে গরম কাপড় বিতরণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার। হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীতে হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে। ছেলে-মেয়েরাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারছে না। নিম্ন আয়ের লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে কাহিল হয়ে পড়ছে।
সাতক্ষীরার আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, রবিবার ৫ জানুয়ারি বিকেল ৫ টা পর্যন্ত পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়ার্স। গত ১৫ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আরও কমবে। ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন।
শ্যামনগর উপজেলার প্রায় প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অন্তত সাড়ে তিন লাখ নিম্নবিত্তের শীতবস্ত্র, খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দরকার। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুন জানান, শ্যামনগর উপজেলায় এখন পর্যন্ত ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এটাকায় ভ্যাট ট্যাক্স কেটে ৯৪৭ পিস কম্বল কেনা হয়েছে। এরমধ্যে তারা এ পর্যন্ত ৫০০টির মতো কম্বল বিতরণ করেছেন। বাকি ৪৪৭ পিস কম্বল ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজকর্মী কামরুল ইসলাম বলেন, সমাজের অসহায় ও শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব। কনকনে শীতে ঠকঠক করে কাঁপা মানুষের গায়ে শীতবস্ত্র জড়িয়ে তার মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় মানুষের প্রতি আমাদের মমত্ব ও ভালোবাসার। তাই এই শীতে সরকারের পাশাপাশি এই এলাকার বিত্তবানদের সমাজের অসহায় ও শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে শীতের কারণে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছেন চিকিৎসকরা।
(আরকে/এএস/জানুয়ারি ০৫, ২০২৫)
পাঠকের মতামত:
- কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী
- ভোক্তা অধিকার দিবসে নীলফামারীতে র্যালি, প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন
- ভূরাজনীতি, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও কৌশলগত ভারসাম্যের নতুন সমীকরণ
- প্রকৃতির অভিশাপকে এতো ঠুনকো ভাববেন না
- কর্ণফুলীতে ড্রেজিং বন্ধে শঙ্কা, সিএমপি কমিশনারকে বন্দরের জরুরি চিঠি
- মেয়ে মানুষ
- নীতিগল্প
- ঈদে বাড়ি গেলে অর্থ, গহনা আত্মীয় বা থানায় রেখে যাওয়ার পরামর্শ ডিএমপি কমিশনারের
- ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে’
- একুশে পদক পাওয়ায় ববিতাকে সংবর্ধনা
- জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে গাছ কাটার অভিযোগ
- গোপালগঞ্জে স্নানোৎসব ও মহাবারুনী মেলা নিয়ে মতবিনিময় সভা
- মধুমতির বুকে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুর ভিড়
- ভর্তিতে লটারির সমালোচনা হাসনাতের, বাতিলের আভাস শিক্ষামন্ত্রীর
- মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা, নিহত ১, আহত ২
- নগরকান্দা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- নড়াইলে আগুনে পোড়া বাড়িঘর পরিদর্শন করলেন এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু
- নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি ইরানের
- ‘সময় শেষ হলেও ডাকা হয়নি সংস্কার পরিষদের অধিবেশন’
- বিশ্রামে মেসি, গোলশূন্য ড্র মিয়ামির, লাল কার্ড কোচের
- ঈদযাত্রায় বাড়ছে ট্রেন ও কোচ
- ‘আ. লীগ আমলের সামাজিক ভাতার তালিকা যাচাই করা হচ্ছে’
- গ্রাহকের চাহিদা মতো জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু, মজুত করলে ব্যবস্থা
- চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন স্থগিত চায় রাষ্ট্র
- ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল পুনঃপ্রকাশ
- শেরপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ ৬ যাত্রী নিহত
- মেহেরপুর জেলা জামায়াত ইসলামীর কর্মী সম্মেলন
- সিলেটে বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, নিহত ৩
- আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ক্ষিতিশ চন্দ্র সাহা
- নবীনগরে তিন দিনব্যাপী ফিজিওথেরাপি ক্যাম্পের উদ্বোধন
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বরগুনায় পুলিশ ও নাগরিকদের মতবিনিময় সভা
- ‘দুই ম্যাডামের জন্য আমাদের চাকরি করাটাই এখন ‘টাফ’ হয়ে গেছে’
- বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটির যাত্রা শুরু
- ঠাকুরগাঁওয়ে আলু চুরির মিথ্যে অপবাদে কিশোরকে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ
- বিশ্বের দীর্ঘতম সোজা রাস্তাটি এখন সৌদি আরবে
- ‘নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় কখনও হয়রানি করা হবে না’
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত
- মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে রাজশাহীতে নাইট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
- ‘বিচার বিভাগকে আ. লীগ ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে’
- ‘আ. লীগ আমলের সামাজিক ভাতার তালিকা যাচাই করা হচ্ছে’
- ফরিদপুরে দেশ টিভি ও বাসস’র সাংবাদিক আনিচুর হামলার শিকার
- মিয়ানমার সীমান্তে একের পর এক বিস্ফোরণ, আতঙ্কে টেকনাফবাসী
- বরগুনায় জাকের পার্টির জনসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত
- ‘২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে’
-1.gif)








