কালের স্বাক্ষী লোহাগড়ার ইতনার 'নহবতখানা'
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : এক সময় এ দেশে জমিদারি শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। জমিদাররা শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। জমিদারি শাসন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন জমিদার। মূলত জমিদারকে ঘিরেই আবর্তিত হতো জমিদারি শাসন ব্যবস্থা। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য এবং শাসন ব্যবস্থা পরিচালনায় জমিদাররা এদেশে নির্মাণ করেছিলেন সুরম্য অসংখ্য অট্টালিকা। সুরম্য এসব কারুকার্যময় অট্টালিকার প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রবেশদ্বারের ‘নহবতখানা’।
সকল বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত সুর-ঝংকারের অন্যরকম আকর্ষণ ছিল নহবতখানা। জমিদারি বিনোদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই নহবতখানা।
এরকমই একটি নহবতখানা কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে নড়াইলের লোহাগড়ার ঐতিহ্যবাহী ইতনা গ্রামে।
এলাকার প্রবীণ মানুষজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জমিদার বাড়ির বিশাল অট্টালিকার প্রবেশমুখে নহবতখানা নির্মাণ করা হতো। নহবতখানা ছিল সুউচ্চ, যা কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হতো। কাঠের তৈরি নহবতখানার পাশাপাশি ইটের তৈরি সুরক্ষিত নহবতখানা ছিল নজরকাড়ার মতো।
দৃষ্টিনন্দন ও নানা কারুকার্য খচিত নহবতখানা ঘিরে গড়ে উঠেছিল বাদ্যকর শ্রেণি। নহবতখানা ও বাদ্যকররা ছিল একে অপরের পরিপূরক। বাদ্যকরদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি মুসলমান সম্প্রদায়ের বাদ্যকররা সহশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশ নিত। বাদ্যকরদের কাজ ছিল, সকাল-সন্ধ্যা নানা বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণে রাগ-রাগিণীর সুর ঝংকারে জমিদারসহ প্রজাদের মনোরঞ্জন করা।
বাদ্যকররা পূজা-পার্বণসহ বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতামূলক সুরের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতো। এ জন্য জমিদার কর্তৃক তাদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হতো। অট্টালিকার আশেপাশেই এসব বাদ্যকর পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করত। জমিদাররা বাদ্যকরদের বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করত। এখনও এদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাদ্যকর সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব এবং উপস্থিতি দেখা যায়। আসলে জমিদারি শাসন ব্যবস্থায় গণবিনোদনের ক্ষেত্রে নহবতখানার গুরুত্ব ও অবদান স্বীকার্য সত্য।
সানাই, বাঁশি, ঢাক, ঢোল, খোল, তবলা, হারমোনিয়াম, করতাল, প্রেমজুড়ি, ম্যান্ডলিন, ক্লাইনেটসহ অন্যান্য দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্রের সমাহারে নহবতখানা মুখরিত থাকত। যে জমিদারের ঐশ্বর্য, প্রভাব-প্রতিপত্তি বেশি ছিল, সে জমিদারের নহবতখানা ছিল বেশি জৌলুসপূর্ণ।
তৎকালীন সময়ে জমিদারি শাসন ব্যবস্থায় বিনোদনের অন্যতম আধার ছিল নহবতখানা। শুধু যে জমিদাররাই নহবতখানা নির্মাণ করত তা নয়Ñ জমিদারদের পাশাপাশি রাজা, মহারাজা, জোতদার, গাতিদার, তালুকদারসহ ধনাঢ্য ব্যক্তিরাও এটি নির্মাণ করতেন। বংশীয় আভিজাত্যের বিকাশ ঘটানোর জন্য অনেকে নহবতখানা নির্মাণ করতেন।
জমিদারি শাসন ব্যবস্থা উচ্ছেদ হওয়ার সাথে সাথে নহবতখানার অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে নহবতখানা জৌলুস হারিয়ে শ্রীহীন হয়ে পড়ে। এখনও এদেশের অনেক এলাকায় নহবতখানার অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়।
এরকম একটি নহবতখানা আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইতনা গ্রামে।
লোহাগড়া উপজেলার কুন্দশী চৌরাস্তা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে মধুমতি নদীর পাড়ে ব্যানার্জি বাড়ির প্রবেশমুখে নহবতখানার অবস্থান।
ইটের তৈরি নহবতখানায় রয়েছে শৈল্পিক নানা কারুকার্য। নহবতখানার মালিক ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বাসুদেব ব্যানার্জির ভাই তরুণ ব্যানার্জি জানান, আমার দাদা মন্মথনাথ ব্যানার্জি রানী রাশমনির স্টেটের অধীনে ‘গাতিদার’ ও ‘তালুকদার’ ছিল। সে সময়ে তিনি নিজের এবং এলাকাবাসীর মনোরঞ্জনের জন্য বাড়ির সম্মুখে একটি কারুকার্যময় নহবতখানা নির্মাণ করেন।
জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর স্থাপিত নহবতখানাটি সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। পরবর্তীতে নহবতখানা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করানোর জন্য আমরস এটি সংস্কার করেছি। এখনও দুর্গা পূজাসহ বাড়ির অন্যান্য উৎসব অনুষ্ঠানে এই নহবতখানা থেকে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়ে থাকে।
(আরআর/এএস/মে ১৬,২০২৬)
পাঠকের মতামত:
- ‘এনসিপিকে সমর্থন দিন, আমরা প্রতারণা করবো না’
- রাজাকাররা ভীত হয়ে সম্পূর্ণভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে
- রাজবাড়ীতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও মাদক বিরোধী আলোচনা সভা
- শ্যামনগরে জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত
- শ্যামনগরে উদ্ধারকৃত ৭৭ বস্তা ঝিনুক মালঞ্চ নদীতে অবমুক্ত
- এবার সেই ওসি শরীফের সঙ্গে আ. লীগ নেতার কোলাকুলি, ভিডিও ভাইরাল
- গাজী নজরুলের পদত্যাগ দাবিতে শ্যামনগরে সচেতন নাগরিক সমাজের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ
- ডলারের আধিপত্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দাসত্ব: গ্লোবাল সাউথের মুদ্রার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিকল্প কী?
- সুবর্ণচরে বাড়ীঘরে হামলা ভাঙচুরসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন
- ‘দুশ্চরিত্র ঢাকতে তারা ইসলামকে ব্যবহার করে’
- ভাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭০০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২
- ময়মনসিংহে হেরোইন-ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
- ফুলপুরে বেসরকারি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা
- নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
- অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, ফরিদপুরে বিএনপি নেতা বহিস্কার
- গাজী নজরুলের ভিডিও বিতর্ক, দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত কর্মীর পদত্যাগ
- দিল্লীতে ছাত্র-আন্দোলন বাংলাদেশের মত ভুলপথে যাবেনা তো?
- চুক্তি ও অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন এনপিসিবিএল
- ভারসাম্যহীন মেয়েকে দিয়ে অপপ্রচার, প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
- রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার
- পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
- বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক
- গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে আহত ২৫
- মেজর মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
- ভেনিস উৎসবে বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’
- খুলনায় ‘মদপানে’ পাঁচজনের মৃত্যু
- যশোর এম এম কলেজে পিঠা উৎসব মিলন মেলায় পরিণত
- এমন যদি হতো
- অতীতের ভুল শুধরে ইতিহাসের সেরা ফোবানা সম্মেলন হবে ভার্জিনিয়ায়
- ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা উপসর্গে দু’জনের মৃত্যু
- দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সম্প্রসারণ: তৃণমূলে ব্যাপক পদক্ষেপের আহ্বান
- বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায় ১১ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ
- সভাপতি এস এ বাবলু, সম্পাদক রফিকুল ইসলাম
- কুষ্টিয়ায় কিশোর ভ্যান চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
- টুনিরহাট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নওগাঁ
- সুবর্ণচরে চাকরিকালে ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকৌশলীকে সংবর্ধনা
- ঘরপালানো এক শিশুর কাহিনী
- দেশে ২৮ শতাংশ নারী প্রথম সন্তান চান ছেলে
- চট্টগ্রাম ইপিজেডে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৭ ইউনিট
- চাঁদপুর শহরে রংভিত্তিক সিএনজি-অটোবাইক চলাচল নিয়ে চালকদের বিক্ষোভ সড়ক অবরোধ
- এইচএসসি পরীক্ষায় জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ঈর্ষণীয় সাফল্য
- সবার জন্য উন্মুক্ত হলো ঐতিহাসিক জালাল মঞ্চ, নির্মাণ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- চাঁদপুরে ঘরের গর্তে লুকানো সাপের দংশনে প্রাণ গেলো শিশুর
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
-1.gif)








