প্রকৃতির চেনা অতিথি দোয়েল পাখি অস্তিত্ব সংকটে
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। শহরে কিংবা গ্রামে অতি পরিচিত পাখি হলো দোয়েল।
বাড়ির আঙিনা, বাগান, ঝোপঝাড় কিংবা গাছের ডালে চঞ্চল ভঙ্গিতে উড়ে বেড়ানো এই পাখির দেখা মিলত প্রায় সর্বত্র।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির এই পরিচিত অতিথি এখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দোয়েলের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দোয়েলের সংখ্যা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক আবাসস্থলের সংকট। একসময় গ্রামাঞ্চলে বিস্তীর্ণ গাছপালা, ঝোপঝাড় ও সবুজ পরিবেশ থাকলেও দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি উজাড় এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে এসব এলাকা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে দোয়েল।
খাদ্য সংকটও এ পাখির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোয়েল মূলত বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের খাদ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এসব রাসায়নিকের প্রভাব পাখির স্বাভাবিক জীবনচক্র ও প্রজনন ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
প্রকৃতি প্রেমী তরুণ সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী শুভ সরকার বলেন, “একসময় আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই দোয়েল দেখা যেত। এখন আগের মতো আর দেখা যায় না। গাছপালা ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়ায় পাখিগুলো তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারাচ্ছে।”
ভওয়াখালী এলাকার পম্পা মুখার্জি বলেন, “পরিবেশ দূষণ, কীটনাশকের ব্যবহার এবং নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে দোয়েলের সংখ্যা দিন দিন কমছে। জাতীয় পাখি সংরক্ষণে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।”
পরিবেশ দূষণও দোয়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এবং শিল্প-কারখানার বর্জ্য প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক এলাকায় তাদের বসবাস কঠিন হয়ে পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও দোয়েলের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবনচক্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক সময় বাসা নষ্ট হয়ে যায়, ডিম ও ছানার ক্ষতি হয়, যা দোয়েলের বংশবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
নড়াইল জেলা বন বিভাগের বন কর্মী হাসান খান বলেন, “দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি এবং প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গাছপালা কমে যাওয়া, পরিবেশ দূষণ এবং নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের কারণে এ পাখির সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। দোয়েলসহ সব বন্যপ্রাণী রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
প্রকৃতিবিদদের মতে, দোয়েল শুধু একটি পাখি নয়; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষি ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে সহায়তা করে এই পাখি। তাই দোয়েলের সংখ্যা কমে যাওয়া কেবল একটি প্রজাতির সংকট নয়, বরং পরিবেশের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় পাখি দোয়েলকে রক্ষা করতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশীয় গাছ লাগানো, বন ও ঝোপঝাড় সংরক্ষণ, রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং পাখিবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে জাতীয় পাখি দোয়েলকে টিকিয়ে রাখতে।
(আরএম/এএস/জুন ২৫, ২০২৬)
পাঠকের মতামত:
- দুর্নীতিতে শীর্ষে পাসপোর্ট অফিস, দ্বিতীয় বিআরটিএ
- প্রকৃতির চেনা অতিথি দোয়েল পাখি অস্তিত্ব সংকটে
- নড়াইলের ৬০ ভাগই কাঁচা রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে
- ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক
- সালথায় রাস্তার পাশেই পড়ে ছিলো যুবকের মরদেহ
- ‘দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’
- তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-চীন
- নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে নগরকান্দার সাংবাদিকদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা
- ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
- ২০২৬ বিশ্বকাপকেই সবচেয়ে সফল বললেন ফিফা সভাপতি
- চিকিৎসা কষ্টে থাকা কাঙালিনী সুফিয়ার দায়িত্ব নিলো বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন
- ভালুকায় একটানা বিয়াল্লিশ ঘন্টা যুদ্ধে পাকবাহিনীর ১২৫ জন সেনা নিহত হয়
- সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
- সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ বলায় ডিসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন
- প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ সাতক্ষীরার আমজাদ হোসেনের
- ফরিদপুরে ‘এসকাফ’ সিরাপসহ নারী গ্রেফতার, মামলা দায়ের
- এখতিয়ার বহির্ভূত বিচারে বিবাহ বিচ্ছেদের রায়!
- ঈশ্বরদীতে ৭৬ বোতল কোডিন সিরাপসহ নারী গ্রেফতার
- দিনাজপুর সীমান্তে ভারত থেকে চারজনের অনুপ্রবেশ, জিজ্ঞাসাবাদ করছে বিজিবি
- ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ নিয়ে এলো শাওমি
- দেশজুড়ে ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় মেডিক্যাল ক্যাম্পে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান
- প্রবাসীদের সংগঠন ‘নয় বাড়ীয়া ফোরাম’র নতুন কমিটি ঘোষণা
- ফুলপুরে আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৯ নেতাকর্মী গ্রেফতার
- গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত, আহত ২
- শ্যামনগরে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, গ্রেফতার ২
- প্রেমের টানা কুষ্টিয়ায় চীনা যুবক, বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
- ‘ফেনীর বন্যা সমাধানে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ হবে’
- মাদারীপুরে বিষ প্রয়োগে ১৫ লাখ টাকার মাছ নিধন
- শরীয়তপুরের দুই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ
- এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব গাথা
- বিজয়ের চারদিন পর চাটমোহর হানাদার মুক্ত হয়
- উত্তম ও অধম
- ঝালকাঠি ও নলছিটি মুক্ত দিবস বিজয়োল্লাসের এক অবিস্মরণীয় দিন
- মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা
- মরা নদের গল্প
- এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ কথা
- ‘ফ্যাসিস্টদের উদ্দেশ্য ছিল জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা’
- লাওসকে উড়িয়ে দারুণ শুরু বাংলাদেশের
- ‘বুড়িগঙ্গার পানি যেন খাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করবো’
- শাহজাদপুরে মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি গ্রেফতার
- গ্রামবাংলার স্বাদ ও স্মৃতি মিশে থাকা বুনো আমড়া, নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ ঐতিহ্য
- গাজায় ‘শক্তিশালী’ হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- আবদুল হামিদ মাহবুব’র একগুচ্ছ লিমেরিক
- সালথায় রাস্তার পাশেই পড়ে ছিলো যুবকের মরদেহ
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
-1.gif)







