E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

চাকুরি ছেড়ে আঙিনায় শখের নার্সারি, তাতেই সুচিত্র'র কর্মসংস্থান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৫:০১:৪২
চাকুরি ছেড়ে আঙিনায় শখের নার্সারি, তাতেই সুচিত্র'র কর্মসংস্থান

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : হরি নদীর কূলঘেঁষা ছোট্ট মেঠোপথ। পথ ধরে আধা কিলোমিটার যেতেই  চোখে পড়ে সারি সারি গাছ,তাতে নানা প্রজাতির ফুল। কোথাও লাল, কোথাও হলুদ, কোথাও সাদা আবার কোথাও গোলাপি। কোথাও পাতা বাহারির গাছ আপন সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। নানা রং ও গন্ধে জায়গাটি হয়ে উঠেছে ফুলের এক রাজ্য। দেখে মনে হয় বাড়ির আঙিনা ঘিরে গড়ে ওঠা এই বাগান যেন শিল্পীর রংতুলিতে আঁকা।

পরিবার সূত্র জানা গেছে, চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ২০২৪ সালে নিজ বাড়ির আঙিনায় এক একর জমিতে নার্সারি গড়ে তোলেন সুচিত্র।

নড়াইল সদর উপজেলা কলোড়া ইউনিয়নের রামনগরচর গ্রামে সুচিত্র বিশ্বাসের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলা হয়েছে এমন ফুল বাগান।

বাগানে রয়েছে প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুলের গাছ। বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ফুলে বদলে যায় আঙ্গিনার চেহারা। তখন এর সৌন্দর্য দেখতে মানুষের ভিড় জমে।

বাগানটি সুচিত্রের আয়েরও উৎস। শখের বশে শুরু করা ফুলের চাষ ধীরে ধীরে সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানেরও। হচ্ছে বাড়তি আয়ও।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, " টিনের তৈরি বাড়ির আঙিনায় এক একর জমি, সেই জমিতে সুচিত্রের নার্সারি। সেখানে রয়েছে নানা প্রজাতির ফুল। চারা প্রস্তুত, পরিচর্যা ও বিক্রির কাজ চলছে।"

সাজানো নার্সারি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ ছবি তুলছেন। কেউবা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। আবার কেউ পছন্দের চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

সুচিত্রের ভাষ্য, ‘ছয় বছর ধরে আমি একটি কোম্পানিতে চাকুরি করেছি। একপর্যায়ে চাকরিজীবন ভালো না লাগায় সেটি ছেড়ে দিই। এরপর নার্সারি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। নিজের বাড়ির আঙিনায় এক একর জায়গায় নার্সারি শুরু করি। সেখানে এখন বাগান বিলাস, জবা, গাঁদা, গোলাপ, চন্দ্র মল্লিকা, কৃষ্ণচূড়াসহ ২০০ প্রজাতির ফুলের চারা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়াও পাচ্ছি ভালো।’

সুচিত্র বলেন, ‘বর্তমানে নার্সারিতে সঠিক জাতের গাছ পাওয়া কঠিন। আমি সঠিক জাতের গাছগুলো বিক্রি করছি। ফলে এখানকার চারার চাহিদাও বেশি। প্রথম বছরই এক লাখ টাকা চারা বিক্রি করেছি।’

সুচিত্র বলেন, ‘শুধু গাছ বিক্রি করার জন্য নয়, গাছের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করতে আমার এ উদ্যোগ। এখানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসে। তারা ঘুরে ঘুরে চারা দেখেন, ছবি তোলেন। এটা একটা অন্যরকম অনুভূতি।’ নার্সারি আরো বড় করার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান সুচিত্র।

তরুণ এই উদ্যোক্তা জানান, তার নার্সারি শুধু ফুলের সৌন্দর্য নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের কর্মসংস্থানও। গাছের পরিচর্যা, চারা তৈরি, টব প্রস্তুত, পানি দেওয়া, বিক্রির কাজে সময় দিতে হয়। ফলে বাড়ির নারীদের পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ফুলের বাগানে কাজ করা আকাশ বিশ্বাস বলেন, "নার্সারি দেখাশোনা, ফুল গাছে পানি দেওয়া, জায়গা পরিষ্কার রাখায় জন্য আমরা তিনজন এখানে কাজ করি। নদীর কূলে ছায়াঘেরা জায়গায় কাজে কোনো কষ্ট হয় না।"

বাগনাটি দেখতে এসেছেন চিত্রশিল্পী ডি ডি মল্লিক (ধর্ম দাস মল্লিক)। খানিকটা সময় নিয়ে বাগান ঘুরে দেখলেন তিনি।

একপর্যায়ে এ প্রতিবেদককে বললেন, ‘এর আগেও বাগানটি দেখতে এসেছিলাম। আমি এই বাগানে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আসব। তারা এখানে বসে ছবি আঁকবে, আনন্দ করবে।’

ডি ডি মল্লিক আরো বলেন, ‘সুচিত্র তার এই নার্সারি এমন সুন্দর করে সাজিয়েছে, যা গ্রামীণ জনপদে তেমন দেখা যায় না। তার নার্সারিতে শুধু জেলার মানুষ নয়, দেশ বিদেশ থেকে এক সময় পর্যটকরা আসবেন।’

(আরএম/এএস/সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test