মুকুটি আর কুকুটি
লিপিকা রায়
ঘন জঙ্গলের মধ্যে সবে ভোর হব হব করছে। দু একটা নিভু নিভু তারা জ্বলে রয়েছে এখনো । মুকুটি গলা তুলে একবার দেখে নিল আকাশের দিকে। তারপর এমন জোরে ঝুঁটি দুলিয়ে আর গলা ফুলিয়ে কোঁকর কোঁ ডাক ছাড়লো যে বাকি ভোরের তারা গুলো ভয় পেয়ে টুপটাপ লুকিয়ে পড়ল। সেই জোরালো হাঁক ডাকে সূর্য কি আর ঘুমিয়ে থাকতে পারে? কোনো রকমে চোখ খুললো।
“উঠছি উঠছি দাঁড়া, এত জোরে চেঁচিয়ে মাথা ধরিয়ে দিলি যে”
“ওঠো ও ও, কোঁকোর কোঁ কোঁ… তাড়াতাড়ি সকাল করে দাও । খিদে পেয়ে গেছে এ এ এ”।
সেই ডাক শুনে রাতচরা বাদুড়ের ঝাঁক তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে শুরু করল ।সকাল হতেই মাথা নিচে করে ঝুলে পড়তে হবে গাছের ডালে। প্যাঁচাও তাড়াতাড়ি আধ খাওয়া জংলি ইঁদুর মুখে নিয়ে উড়তে শুরু করল। ভোর হয়ে গেলে মহা মুশকিল। চোখে দেখতে পাবে না ওরা।
ওদিকে ভবানী ঠাকুমার মাটির বাড়ির ঘরের এক কোণে ঝুড়ি চাপা ছিল কুকুটি। সেও ওই চিৎকারে ছানাপোনা নিয়ে তড়বড় করে, খচ মচ করে ঝুড়ি থেকে বেরতে গিয়ে এমন কাণ্ড বাধালো যে , ভুলেই গেল তারও এখন গলা ফুলিয়ে ডেকে ঠাকুমাকে জাগানোর কথা।
কোনরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে সরু গলায় কুকুটিও চেঁচিয়ে ওঠে, কোঁক কোঁক কোঁ ও ও…
ভবানী ঠাকুমা খ্যানখ্যান করে ওঠে, “ভালো করে ডাকতে পারিস না? খেতে দিই না নাকি তোকে? শুনলি মুকুটির ডাক? ওকে বলে গলা”।
“হুঁঃ , খেতে দাও তো চারটে ভাত আর কটা দানা ।ওই খেয়ে গলার জোর হয়? চলে যাব আমি জঙ্গলে”।
“তা যা না। কে বারণ করেছে? ছানাগুলোকে এখানে রেখে যেখানে ইচ্ছে যা ।“
সকালে উঠেই বুড়ির দাঁত খিচুনি খেয়ে মেজাজটা বিগড়ে গেল কুকুটির ।
"ধুত্তোরি। থাকল সব পড়ে। চললাম আমি।"
"হ্যাঁ যা, মু্রোদ জানা আছে ।"
কুকুটি লাফ দিয়ে উঠল ঠাকুমার বাড়ির নীচু দেয়ালে। তারপর ডানাটা একটু ছড়িয়ে ধপাস করে বাইরে নেমে ব্যাজার মূখে হাঁটা লাগালো জংগলের দিকে। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, বুড়ি ডাকে কিনা। মোটেও ঠাকুমা ডাকলো না দেখে আর কি করে? হাঁটতে থাকল।
ওদিকে সূর্য তখন ঘুম ভেঙে উঠে পড়েছে। মুকুটি জঙ্গলের মাটিতে পাতার মধ্যে খুঁজে খুঁজে ঠিক পেয়ে গেছে একটা মোটকা কেঁচো। ওটাকে পেটে চালান দিয়েই গেল সামনে উইঢিপিটায়। দুটো উইপোকা, চারটে কাঠপিঁপড়ে খেয়ে পেটটা একটু ঠান্ডা হলো। হেলতে দুলতে এগোতে এগোতে দেখল দূরে একটা রোগাপটকা মুরগি হাঁটতে হাঁটতে আসছে।
এটা আবার এখানে আসছে কেন? ভাবলো মুকুটি।
“ তুই কে রে”?
“আমি কুকুটি। আমি এখন থেকে এখানে জঙ্গলেই থাকবো”।
“ ইঃ এখানে থাকবে! কেন রে এখানে থাকবি কেন? এখানে আমি কাউকে থাকতে থাকতে দিতে পারব না। এখানকার সব পোকা আমার প্রজা, আমি ওদের ধরে খাই” ।
“ আমাকেও একটু ভাগ দেবে? আমি তোমায় পোকা ধরে দিতে পারি।“
“হুঁঃ ভাগ দেবে!ওগুলো তোর মত ওই পেটরোগা ঘরের মুরগির হজম হবে? দানা খে গে যা ঠাকুরমার বাড়িতে”। গলা ফুলিয়ে চেঁচিয়ে উঠে মুকুটি। কোঁকোঁকোঁ ও ও ও। ওই বাজখাঁই আওয়াজে চমকে গিয়ে পিছিয়ে যেতে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ে কুকুটি ।দু পা পিছিয়ে গিয়েও আবার একটু বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।
“এত বকছো কেন ?আমরা কি বন্ধু হতে পারি না”?
“না পারি না। ভাগ তুই ।শিগগির বাড়ি যা। ছানাদের রেখে উনি এলেন জঙ্গলে থাকতে। যা বাড়ি যা আ আ…। গেলি ই ই …” ।মুকুটি সারা গায়ের পালকের রঙ ঝলমলিয়ে শক্ত পোক্ত দুখানা ঠ্যাং এর উপর দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে একখানা চিৎকার ছাড়লো ।
কুকুটি আর দাঁড়ায়? একদৌড়ে সোজা থামলো গিয়ে একেবারে ঠাকুমার বাড়ির উঠোনে ঢুকে। ছানাগুলো চিক চিক করতে করতে দৌড়ে এলো।
“ওমা কোথায় গেছিলে? কোথায় গেছিলে? ভয় লাগছিল তো”
“না না সোনা, এইতো এসে গেছি”।
ঠাকুমা খ্যাংরাঝাঁটা দিয়ে উঠোন ঝাঁট দিচ্ছিল। নড়বড় করতে করতে এগিয়েএল ।
“এই যে এসেছিস তো ফেরত? শিক্ষে হয়েছে তো ?একটু বকলাম , তো উনি বাড়ি ছেড়ে অমনি চললেন ।গ্রামে গিয়ে পৌঁছলে আর কিছুক্ষণ বাদে তো ওদের কড়াইয়ে ঝোল হয়ে ফুটতিস। নেহাত মুকুটি বুদ্ধিমান , তাই ভাগিয়ে দিয়েছে তোকে। মনে রাখবি যে তুই হলি ঘর কা মুরগি। বুঝলি”?
“আর যাব না ঠাকুমা। কোঁ কোঁ । দাঁড়া দাঁড়া খেতে দেব ।একটু অপেক্ষা করতে শিখবি তো”
বকবক করতে করতে দানা আনতে বলল ঠাকুমা। আর অপেক্ষা! কুকুটি আর ছানারা মিছিল করে চলল ঠাকুমার পিছন পিছন।
পাঠকের মতামত:
- জিয়া সেদিন বঙ্গবন্ধুকে কথা দিয়েছিলেন, 'স্যার, আমার বুক বিদ্ধ না করে বুলেট আপনার গায়ে লাগতে পারবে না'
- দেশবাসী হানাদারদের বিতাড়িত করে স্বদেশ ভূমিকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর
- নিজবাড়ি থেকে আলম চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
- বাগেরহাটে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় তরুণীর মৃত্যু
- আশাশুনিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাম হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা
- ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী
- প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সুবিধা দিতে পিকেএসএফ’র সাথে ব্র্যাক ব্যাংকের চুক্তি
- প্রতি এক হাজার টাকার বিপরীতে ৬৩ টাকা পলিসি বোনাস ঘোষণা গার্ডিয়ানের
- গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সপোর্ট এন্ড লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
- কাশিয়ানীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- সাতক্ষীরায় সপ্তাহব্যাপি দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
- বাইউস্টের ১৭তম ফাইন্যান্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
- নসিমনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের
- দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ
- আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে ২৪২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫
- সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
- ঢাকা–গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
- ‘বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি’
- দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ট্রেনের যাত্রাবিরতি, উচ্ছ্বসিত মহেশপুর-কাশিয়ানীর মানুষ
- আবার লন্ডন যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন
- রেকর্ড গড়ে ফের ইউরোপসেরা কেইন, বায়ার্নে ফিরছে 'গোল্ডেন শু'
- ‘শিল্পখাত গ্যাস সংকটে ভুগছে, গুরুত্ব দিতেই হবে’
- বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- ‘সাকিব আল হাসান পচে যাওয়া মানুষ’
- বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় ভিসা
- কারাগারে বন্দি দিনগুলো নিয়ে সিনেমা বানাতে চান পরীমনি
- কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল মামা-ভাগ্নের
- কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের সাত ঘণ্টা পর নারীর মরদেহ উদ্ধার
- সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম অপুর দুই দিনের রিমাণ্ড
- পঞ্চগড় জোন পর্যায়ের গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু
- ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা প্রকাশ করলো দক্ষিণ আফ্রিকা
- কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে ত্রুটিপূর্ণ সাইকেল বিতরণ
- ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস
- কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি
- শ্রীনগরে ফিরুজা বেগমের গণসংযোগ অব্যাহত
- মেঘনায় ঢল
- ‘আমাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন করা, এটা এখন পরিষ্কার’
- পঞ্চগড় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন স্বপ্ন-সৌখিন
- ‘বাজি’ দিয়ে ফিরল কোক স্টুডিও বাংলা
- ৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস
- শরতের কাশফুল বাংলার প্রকৃতির সাদা শোভা
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- সাতক্ষীরায় পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৭০০ শরনার্থীর স্মরণসভা
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- ‘খালেদার চিকিৎসায় আইন নয়, বাধা সরকার’
-1.gif)








