E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পিআইবি’র প্রশিক্ষণ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

বারবার একই ব্যক্তির প্রশিক্ষণ, বঞ্চিত অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা  

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৯:০১:২২
বারবার একই ব্যক্তির প্রশিক্ষণ, বঞ্চিত অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা  

নীহার রঞ্জন কুন্ডু, ময়মনসিংহ : যে বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা কম, সেই বিষয়েই প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, এটাই সাধারণ ধারণা। তবে বাস্তবে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর অধীনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সেই ধারণার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং একই ব্যক্তিকে একাধিকবার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ বহু যোগ্য ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক একবারও সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে করে প্রশিক্ষণ বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি বছরেই ময়মনসিংহে একাধিকবার বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বারবার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সিনিয়র ও পেশাগতভাবে দক্ষ অনেক সাংবাদিক এসব প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন।

সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মতে, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর তদারকির অভাবেই এই বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে একদিকে প্রকৃত প্রশিক্ষণপ্রার্থীরা সুযোগ হারাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে।

বিষয়ে দৈনিক বঙ্গ সংবাদ-এর ব্যুরো প্রধান ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু একই ব্যক্তিকে বারবার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশিক্ষণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যারা কখনো প্রশিক্ষণের সুযোগ পাননি, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের ও সিনিয়র সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তা না হলে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
তার পরামর্শ, দেশের মিডিয়া তালিকাভুক্ত পত্রিকার সম্পাদকের মাধ্যমে যার যার পত্রিকার সকল সাংবাদিকদের একদিন করে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করলে কেউ বাদ পড়বে না। পত্রিকার সম্পাদকগণের সাথে পরামর্শ করে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এর অধীনে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা উচিৎ।

সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা জরুরি। সেই ডাটাবেজের মাধ্যমে কারা কতবার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তা যাচাই করা গেলে স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য কমবে। একই সঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক সমন্বয় নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

(এনআরকে/এসপি/জানুয়ারি ১৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১২ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test