E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সাংবাদিক শাহ্‌ আলম শাহী'র ডায়েরি থেকে

‘কারো বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই, কেউ দোষী নয়, আমিই দোষী!’

২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৯:০৭:২১
‘কারো বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই, কেউ দোষী নয়, আমিই দোষী!’

নিউজ ডেস্ক : আমার কুশপুত্তলি দাহ হচ্ছে, প্রেসক্লাবে সম্মুখে। তার আগে লাগাতার কয়েকদিন আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা,ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধনও হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে এ আন্দোলন করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কতিপয় নেতা-কর্মী।

অপহরণ,নারী নির্যাতন, ধর্ষণের অপচেষ্টা, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও মানহানির মামলা করেও ক্ষান্ত হয়নি,আন্দোলন করেছে দুর্দান্ত ভাবে আমার বিরুদ্ধে।

এমন কী অপরাধ ছিলো আমার যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা, ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধনের পাশাপাশি আমার কুশপুত্তলি দাহ করছে প্রেসক্লাবে সম্মুখে?

আমি কী- নবীজী অথবা কোন ধর্মীয় গুরু-মহাত্ম ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ও কটুক্তিমূলক লিখেছি, বলেছি, প্রদর্শন করেছি, না কোন ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন ও অবমাননা করেছি? না আমি নাস্তিক ? যে আমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রেসক্লাবের সম্মুখে কুশপুত্তলি দাহ হয়েছিলো সেইদিন ? ( ! )

সেইদিন কোথায় ছিলো সুশীল সমাজ, কোথায় ছিলো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা-কর্মীরা? না, কেউ প্রতিবাদ করেনি, এগিয়ে আসেনি কিছু করতে আমার হয়ে। কারণ, একটাই তৎকালীন ক্ষমতাশীল দলের ভয়ে!

তবে, হৃদয় গ্রন্থ থেকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই- তৎকালীন জেলা প্রশাসক শামীম আল রাজী মহোদয় ও পুলিশ সুপার রুহুল আমিন শিপার মহোদয়কে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বাঘা জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উপেক্ষা করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে আমাকে গোপনে সাহস জুগিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন তারা। সেই সঙ্গে সহযোগিতা পেয়েছি, সাংবাদিক স্বরূপ বক্সি বাচ্চু (বর্তমানে প্রেসক্লাবের সভাপতি হলেও সেসময় ছিলেন সাধারণ সদস্য) ভাইয়ের। যিনি গোপনে আমার হয়ে কাজ করেছেন।

তৎকালীন ডিসি এবং এসপি মহোদয় ও বাচ্চু ভাইয়ের দেওয়া সাহস, ভালোবাসা,সহযোগিতা ও সহমর্মিতা না থাকলে এতোদিন হয়তো আমার শরীরের হাড্ডিগুলোও খুঁজে পাওয়া যেতো না।

আসলে সবকিছুর ফয়সালাকারি সৃষ্টিকর্তা। তাই, এখনো বেঁচে আছি। আমি কারো বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলে তা মিথ্যা হলে তারা আইনী প্রক্রিয়ায় যাবে৷ প্রতিবাদ দিবে। প্রতিবাদ প্রকাশিত না হলে তথ্য-প্রযুক্তি অথবা মানহীন মামলা করবে। কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তি আর মানহীন মামলা শুধু নয়,অপহরণ,নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অপচেষ্টার মামলা করেই শুধু ক্ষান্ত হয়নি, আমার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন করেছেন তারা। তাদের ছিলো একটাই লক্ষ্য যেভাবেই হোক, এবার, 'শাহী'কে শেষ করতে হবে।

আমার ছবি দিয়ে ডিজিটাল প্লেকার্ড,বড় বড় পোস্টার,ব্যানার তৈরি করে প্রতিবাদ সমাবেশ,বিক্ষোভ মিছিল, ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধনের পাশাপাশি কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে তারা।

প্রসঙ্গত, নিউজের কারণে কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দিনাজপুর,রাজধানী ঢাকা, কিংবা বাংলাদেশের কোন জেলা-উপজেলা শুধু নয়,পৃথিবীর কোথায় এমনটি হয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই।

গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে যেকোনো অপরাধ বা অবমাননার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম। আমি মিথ্যে রিপোর্ট করে কারো ক্ষতি করে থাকলে আমার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় আমার শাস্তি নিশ্চিত না করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা-কর্মীরা কেন আমার বড় ক্ষতি বা আমার পতন কিংবা নি:শেষ করে ফেলার অপচেষ্টা করে ছিলো তা আমার জানা নেই। আমার প্রতি কেন এতো পুঞ্জীভূত ক্ষোভ,সেটাও বোধগম্য নয় আমার।

আমি বিবেকের বিচারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে থেকে সমাজে ঘটে চলা যেকোনো অসঙ্গতি, দুর্নীতি বা অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করেছি এবং করছি।

নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভের জন্য নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কোন দলীয় মন্ত্রী-হুইপ-এমপির সঙ্গে ঘুরেছি, তাদের সঙ্গে মঞ্চে উঠেছি, বক্তৃতা দিয়েছি, কারো জন্য ভোট চেয়েছি অথবা তাদের কাছে অর্থ, জায়গা, বাড়ি, কারো জন্য চাকুরি,বদলি,ভর্তি বাণিজ্যের কী সুযোগ নিয়েছি? তদবির, টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারি কাজ,দখলদারিত্ব করেছি? অর্থ আত্মসাৎ,ধার গ্রহণসহ কোনো অসদুপায় ব্যবহার, কোন অনৈতিক কাজ করেছি ? কাউকে তেলবাজি করে সুবিধা আদায় করেছি?
-কেউ কী বলতে পারবেন ? দিতে পারবেন একটিও প্রমাণ ?

আমি কী কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত?

আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, তাঁতীলীগ,কৃষকলীগ, মৎস্যলীগ, বুদ্ধীজীবী লীগ, সাংস্কৃতিক লীগ বা অন্যকোন লীগ,পার্টি কিংবা রাজনৈতিক দলে ছিলাম?

আমি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রিয় মানুষ। কবিতা ও গান আমার জীবনের খোরাক। কবিতা লিখি, গান গাই, মঞ্চে অভিনয় করি।

আমি যেমন স্বাধীনতার আহবানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবাসি, তেমনি ভালোবাসি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে।

বঙ্গবন্ধু কখনো জিয়াকে নিয়ে কটুবাক্য করেননি কিংবা জিয়া কখনো কটুকথা বলেননি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। বিএনপির অনেক বাঘা নেতা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এখনো।

বঙ্গবন্ধুকে অনেকেই ভালোবাসেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের অগণতান্ত্রিক শাসনামলে তিনি (তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাসহ অনেকের কারণে) বিতর্কিত হয়ে গেছেন। তাঁকে বিতর্কে ধাপিত করা হয়েছে।

তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা-কর্মীদের অত্যাচারে সেসময় আমি ছিলাম অসহায়। তাই, নিজেকে একটু নিরাপত্তার বেষ্টনীতে রাখতে 'বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট'এ নাম লিখিয়েছিলাম।যাতে লীগ নামের কেউ আমার পেছনে লাগতে চিন্তা-ভাবনা করে।

প্রথমে (একটি অনুষ্ঠান করেছি মাত্র) যে দিন প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করলাম আমরা, দিনাজপুর- ১ ( বীরগঞ্জ -কাহারোল) আসনের এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল দা' ছিলেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে দু:সাহসের সঙ্গে অপকটে বলেছিলাম," আমি কোন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নই,আমি যেমন স্বাধীনতার আহবানকারী বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসী, তেমনি ভালোবাসি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। আমি একজন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রেমি, তাই বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটে নাম লিখিয়েছি। রাজনৈতিক মঞ্চে আমি থাকতে চাইনা।'

এই বক্তব্য দেওয়াতে সেইদিন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গোপাল দা'সহ অনেকে আমার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে ছিলেন। অনেকে এখনো স্বাক্ষী আছেন। পরে আওয়ামী লীগের পাতানো জাতীয় নির্বাচনে কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় আমি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট থেকে পদত্যাগ করি।
কারণ, আমি রাজনীতি করি না,কারো মঞ্চে উঠে বক্তব্য দিতে পারবোনা, কারো জন্য ভোট চাইতেও পারবোনা। আমার অদক্ষতা ও অপারগতার কারণে আমি পদত্যাগ করি।

আমি সাংবাদিকতা করি।বিভিন্ন ইভেন্ট এ আমাকে যেতে হয়। সেখানে পরিস্থিতির কারণে অনেকের সঙ্গে আলাপ-চারিতা ছাড়াও সেল্ফিও তুলতে হয়। সেটা হতেই পারে -বিএনপি,জমায়াত,জাতীয় পার্টি,আওয়ামী লীগ বা অন্যকোন দলের নেতা-কর্মীর সঙ্গে। দীর্ঘদিনের পুরনো ছবি দেখিয়ে কেউ যদি বলতে চায়-আমি কোন দলের, তাহলে তার প্রমাণ দিতে হবে।তানাহলে তাকে শুধু বিবেক নয়,পরকালে সৃষ্টিকর্তার কাছে দায়ি থাকিতে হবে।

আমরা যদি প্রকৃত মানুষ হই, (আমরা কিন্তু কেউ চিরঞ্জীব নই-আমাদের প্রত্যেকের মৃত্যু আছে), ইহলোকে না হলেও পরকালে জবাব দিতে হবে। এটা যদি এটা স্মরণ করি তাহলেই সংশোধিত হবো, অন্যের গীবত থেকে দূরে থাকবো।

তাহলে কেন- আমার পেছনে ছুটে কেউ কেউ সময় নষ্ট করছেন? (!) আপনি যদি কোনো কারণে আমার প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে থাকেন বা কোনো ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে থাকি আমি, তবে বিষয়টি খুলে বলতে পারেন। আপনার মনে কোনো নির্দিষ্ট জিজ্ঞাসা বা আমার কোন সমস্যা চিহ্নিত থাকলে তা আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন।

কারো বিরুদ্ধে বিচার চাইব না আমি। নিজের ভাগ্য মেনে নিয়েছি। হয়তো কোনো ভুল করেছি, সেটার ফল পেয়েছি। কষ্ট আছে অবশ্যই, তবে রাগ-ক্ষোভ নেই কারও প্রতি। আমার প্রতি এখনও কারও ক্ষোভ থাকলে, আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। দিন শেষে আমিই যেন সব ভুলের কারণ,আমিই সেই হতভাগা। তবুও কাউকে দোষ দিতে চাই না। কিছু মানুষ আমার জীবনে এসেছে শিক্ষা হয়ে,আর কিছু সম্পর্ক শেষ হয়েছে আমার নিজের ভুলগুলো চিনিয়ে দিয়ে। কারোই দোষ নেই, আমিই দোষি।

কারো বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই।কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ বা মনঃকষ্ট পুষে রাখিনি আমি। নিজের জীবনকে নিজের মতো করে মেনে নেওয়াই আমার স্বভাব।

একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমার দায়িত্বটা আরও বেশি। একারণেই আমার দোষের অন্ত নেই।
কথা বলার দোষ, কথা না বলার দোষ। সব দোষই আমার। সব দোষ মেনেই আমি অন্তর মহাশয়কে মেনে প্রতিটি দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি সাধ্যমত। তথাপি, আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলে তাতে আমার দুঃখ নেই, কষ্ট নেই। করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আমাকে যতটুকু করুণা করেছেন তার দ্বারাই আমি পরিবার ও সমাজকে সুখী করার চেষ্টা করছি। বাকী কাজটুকু আমি তার উপরই অর্পণ করেছি। তিনিই দাতা, আবার তিনিই গ্রহিতা। তার কাছে আমার প্রার্থণা, হে করূণাময়, আমাকে ধৈর্য্য দান করুন। আমীন

পাঠকের মতামত:

২৯ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test