E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিএ প্রশিক্ষণ শেষে ৩৩ শিক্ষার্থী পেল সনদপত্র

২০২৬ জুলাই ১৪ ১৯:২৭:১৪
গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিএ প্রশিক্ষণ শেষে ৩৩ শিক্ষার্থী পেল সনদপত্র

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী অ্যাপ্লায়েড বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস (এবিএ) প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে ৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সোহেল হাসান।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সানজিদা কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রশিক্ষণের কোর্স ট্রেইনার ও আন্তর্জাতিক বিহেভিয়ার অ্যানালিস্ট নাসরিন সুলতানা।

প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের অ্যাপ্লায়েড বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস (এবিএ)-এর মৌলিক ধারণা, আচরণ বিশ্লেষণ, আচরণের কারণ শনাক্তকরণ এবং আচরণ পরিবর্তনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও আচরণগত সমস্যায় থাকা শিশুদের মূল্যায়ন এবং তাদের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার দক্ষতা অর্জনে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের মতে, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করাই ছিল এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী মাস্টার্স (কাউন্সেলিং সাইকোলজি) বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মমিনুর রহমান তোহা বলেন, “তিন দিনের এবিএ প্রশিক্ষণ আমাদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের আচরণের কারণ শনাক্ত করা এবং সেই অনুযায়ী আচরণ পরিবর্তনের কৌশল সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা পেয়েছেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ছাড়াও আচরণগত সমস্যায় থাকা শিশুদের নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে এ প্রশিক্ষণ বাস্তবে কাজে লাগবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে কাউন্সেলিং ও পেশাগত জীবনে বাস্তব সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

প্রশিক্ষণের কোর্স ট্রেইনার ও আন্তর্জাতিক বিহেভিয়ার অ্যানালিস্ট নাসরিন সুলতানা শিলা বলেন, “বাংলাদেশে এবিএ একটি দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্র। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।”

তিনি আরো বলেন,” তিন দিনের কর্মশালায় আচরণ বিশ্লেষণ, আচরণের কার্যকারণ এবং আচরণ ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ ও কর্মজীবনে এসব জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।”

প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী খন্ডকালীন শিক্ষক মোঃ জুয়েল শেখ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলিং সেন্টার থাকলে শিক্ষার্থীরা এই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে মানসিকভাবে সুস্থ্য প্রজন্ম তৈরীর লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সানজিদা কবির বলেন, “বিভাগের উদ্যোগে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য তিন থেকে চার দিনব্যাপী চার থেকে পাঁচটি পেশাগত প্রশিক্ষণ আয়োজনের চেষ্টা করা হয়। বাইরে একই ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে একজন শিক্ষার্থীর ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও বিভাগ স্বল্প খরচে সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সিভি সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে।”

সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সোহেল হাসান বলেন, “একজন মানুষের পরিচয় তার আচরণ, ব্যবহার ও উপস্থাপনার মধ্যেই প্রকাশ পায়। তাই মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির চর্চার পাশাপাশি নিজেদের আচরণগত উৎকর্ষ অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ভালো মন-মানসিকতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতাই একজন সফল মনোবিজ্ঞানীর মূল ভিত্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়া, গবেষণায় আগ্রহী হওয়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।”

পাশাপাশি তিনি বলেন, “অতিরিক্ত চালাকির চেয়ে সততা, ইতিবাচক মানসিকতা ও ভালো ব্যবহারই জীবনে সফলতার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।”

(টিবি/এসপি/জুলাই ১৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৪ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test