E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারাসিটামল নির্ভর চিকিৎসা সেবার অভিযোগ 

২০২৬ অক্টোবর ০১ ০০:২১:৩৯
গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারাসিটামল নির্ভর চিকিৎসা সেবার অভিযোগ 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মেডিকেল ফি বাবদ আদায় করা ১৮ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ে  ৯ হাজার ৩২০  শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে ২০০ টাকা করে মেডিকেল ফি আদায় করা হয়। সে হিসাবে প্রতি ৬ মাসে এ খাতে  ১৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা  সংগ্রহ করা হয়। তবে ফি আদায়ের বিপরীতে প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা  দেওয়া হয় না বলে আমাদের অধিকার গোবিপ্রবি ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়  ।  গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পোস্টটি করার পর মুহুর্তের মধ্যে এটি ভাইরাল হয়ে যায়। 

সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ, চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন ও বাধ্যতামূলক ফি বাতিলসহ ৬ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা ।

দাবিগুলো হলো, গত কয়েক বছরের মেডিকেল ফি বাবদ আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা প্রকাশ এবং মেডিকেল সেন্টারে সেগুলোর নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি মেডিকেলের আদলে ৫ বা ১০ টাকার টিকিটের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু করতে হবে। অন্যথায় বাধ্যতামূলক মেডিকেল ফি বাতিল অথবা ঐচ্ছিক করতে হবে। চিকিৎসাসেবা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত অর্থ ফেরত অথবা পরবর্তী সেমিস্টারের ফি থেকে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও উন্নত রেফারেল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান ও আয়-ব্যয় তদারকির জন্য স্বাধীন নজরদারি কমিটি গঠন করতে হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা এ পোস্টকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে প্যারাসিটামল ছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। জ্বর, ব্যথা, সংক্রমণ কিংবা পেটের সমস্যার মতো বিভিন্ন রোগে একই ওষুধ দেওয়া হয় । এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের পরিবর্তে নিজ খরচে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল কিংবা গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে হয় বলে মন্তব্য করেন ।

বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়, এ ব্যাপারে জনসংযোগ দপ্তর থেকে আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৬৮ নং প্রেস বিজ্ঞপ্তির মধ্যেমে মেডিকেল সেন্টার ডেঙ্গুসহ ১৩ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয় । সেখানে পর্যাপ্ত পরিমান ওষুধ ও ইনজেকশন মজুদ রয়েছে বলে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয় ।

ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি নতুন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করে প্রশাসন। এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ৭৫ টাকায় ইসিজি, ৫৫ টাকায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা, ২৯৫ টাকায় লিপিড প্রোফাইল, ৫৫ টাকায় এস. বিলিরুবিন (টোটাল), ৬৫ টাকায় এসজিপিটি ও এএলপি, ৩৫ টাকায় সিরাম ক্যালসিয়াম, ৯৫ টাকায় সিরাম অ্যালবুমিন, ৪৫ টাকায় এস. ক্রিয়েটিনিন, ৬৫ টাকায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ১০০ টাকায় ডেঙ্গু এনএস ১ অ্যান্টিজেন টেস্ট, এস. ইউরিক অ্যাসিড এবং ২৮০ টাকায় সিবিসি টেস্ট করা যাচ্ছে।

এখন থেকে অগ্রণী ব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় (একাউন্ট নং: ০২০০০২৩৫৭৫৪০৫) ফি জমা করে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এছাড়াও প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, মেট্রোনিডাজল, ওমিপ্রাজল, সেটিরিজিন, ফেক্সোফেনাডিন, ডক্সিসাইক্লিন, আয়রন, ভিটামিন সি, ওআরএস ট্যাবলেটের পাশাপাশি ওমিপ্রাজল, ওরাডল, কটসন, ল্যাসিক্স, অনডানসেট্রন, ডেক্সামেথাসোন, এভিল ও স্যালাইন (ডিএনএস, ডিএ, এন/এস, সি/এস) ইনজেকশন সরবরাহ রয়েছে বলে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিরাজউদ্দৌলা বলেন , ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলার উদাহরণ। প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের পাশাপাশি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সীমিত সময়ে চিকিৎসাসেবা চালু থাকে। ফলে বিকেল বা রাতে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ কিংবা আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও ছুটতে হয় গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা স্টুডেন্ট ফান্ডে জমা হয়। পাশাপাশি রয়েছে সরকারি বরাদ্দ। এত অর্থ বরাদ্দের পরও প্রয়োজনের সময় চিকিৎসাসেবা না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের অর্থ ও সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছুটতে হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নিখন চন্দ্র বালা বলেন, ‘ শিক্ষার্থীরা ওষুধ সরবরাহের বিষয়ে যে অভিযোগ করেছে, তা আসলে বাস্তব সম্মত নয়। ১৫ ধরনের মেডিসিন এখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে । চার্টে এটি দেওয়া আছে । শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত মেডিসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি আরও প্রয়োজন হয় তবে মেডিকেল সেন্টার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বায়ো ক্যামেস্ট্রি এ্যান্ড মনিকুলার সাইন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসলামের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনে আমরা আরও ওষুধ বাড়াবো।’

এ ব্যাপারে মেডিকেল সেন্টারের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসলাম বলেন, ‘আমরা মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রেখেছি।আরও প্রয়োজন হলে এবং শিক্ষার্থীরা লিখিত ভাবে জানালে , চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে । আর শিক্ষার্থীদের দেওয়া নির্ধারিত ফি তো আমরা কাউকে ফেরত দিতে পারিনা,ফি যা আসে তা প্রশাসন থেকে আসে। সাম্প্রতিক আমরা মেডিকেল সেন্টারে সরকারি হাসপাতালের মতোই সাশ্রয়ী মূল্যে ডেঙ্গু সহ ১৩টি টেস্টের ব্যবস্থা করেছি। মেডিকেল সেন্টারে সেবার মান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখানে জরুরী বিভাগ চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’

(টিবি/এএস/অক্টোবর ০১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০১ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test